শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৮. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪৯৫
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
৩. আকরা (হায়য কিংবা পবিত্রতা)
৪৪৯৫। আবু জা'ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ কোন স্ত্রীলােককে তালাক দেয়ার পর তার জন্যে যে أقراء পালন করা ওয়াজিব হয় তার প্রকৃত অর্থ নিয়ে মতবিরােধ দেখা যায়। একদল আলিম বলেন, এটার অর্থ হল হায়য বা মহিলাদের ঋতুকাল এবং অন্য একদল বলেন, এটার অর্থ হল তুহুর বা পবিত্র কাল। যারা এটার অর্থ তুহুর বলছেন তাদের দলীল হলঃ আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) যখন তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন হযরত উমার (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেছিলেন, তাকে ‘রাজায়াত' করার নির্দেশ দাও। এরপর তাকে এভাবে রেখে দিতে বল, সে পবিত্র হবে, তারপর তাকে ইচ্ছে করলে তালাক দিবে। এটাই হল ইদ্দত, যার দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীলােকদেরকে তালাক দেয়ার জন্যে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন। এই অনুচ্ছেদের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে এ দলীলটি সনদ সহকারে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা আরাে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাকে তুহুরের মধ্যে তালাক দিতে বলেছেন তাহলে এটাকেই তিনি ইদ্দত হিসেবে গণ্য করেছেন, অন্যটা নয়। তাকে হায়য অবস্থায় তালাক দিতে নিষেধ করেছেন। আর এটাকে ইদ্দত হিসেবেও গণ্য করেননি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এখানে أقراء -এর অর্থ হচ্ছে أطهار বা তুহুর।
তাদের বিরুদ্ধে অন্যদের দলীল হল এই যে, এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। যেমন তারা বর্ণনা করেছেন। তবে তার থেকে অন্য একটি হাদীসও বর্ণনা করা হয়েছে যা এটার থেকে বেশী পরিপূর্ণ। আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) উমার (রাযিঃ)-কে বলেছেন, তিনি যেন আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ)-কে রাজায়াত করার নির্দেশ দেন। অতঃপর সে তাকে অবসর দেবে যাতে সে পবিত্রতা অর্জন করে, পুনরায় ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়। অতঃপর সে তাকে ইচ্ছে করলে যেন তালাক দেয়। আর বললেন, এটাই ইদ্দত যার নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা দিয়েছেন যে, এটার দিকে লক্ষ্য রেখে তালাক দিতে হবে। এ হাদীসটিও সনদ সহকারে পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন তাকে যে হায়যে তালাক দেয়া হয়েছে তার পরের তহুরেও তালাক দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না সে পবিত্র হয় ও এটার পর আরাে একটি হায়য অতিক্রম করে। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,فتلك العدة التى امر الله ان تطلق لها ا لنساء দ্বারা যদি তুহুর বুঝানাে হয়ে থাকে তাহলে প্রথম হায়ত হতে পবিত্র হওয়ার পরই তালাক দেয়ার অনুমতি দেয়া হত এবং এর পরের একটি হায়যের অপেক্ষা করতে হত না। কেননা এটাতাে তহুর। সুতরাং তার জন্যে যখন এ তুহুরে তালাক দেয়া বৈধ নয়, বরং অন্য একটি তুহুর আসতে হবে এবং দুই তুহুরের মধ্যে একটি হায়যও অতিক্রান্ত হতে হবে।
এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, যে ইদ্দতটির নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা দিয়েছেন সেটার দিকে লক্ষ্য রেখে মহিলাদের তালাক দিতে হয় তা হচ্ছে এটা একটি সময় যখন মহিলাদেরকে তালাক দেয়া হয়, এটা এমন একটি ইদ্দত নয় যার জন্যে মহিলাদেরকে তালাক দেয়া হয় এবং তা পালন করাও মহিলাদের জন্যে ওয়াজিব হয়ে যায় । কেননা ইদ্দত বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। একটি ইদ্দত হল চার মাস দশদিন আর তা হল ঐ মহিলার জন্য যার স্বামী মারা যায়। আরেকটি হল তিন কুরূ'। আর তা হল ঐ মহিলার জন্য, যাকে তালাক দেয়া হয়েছে। আরেকটি হল সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত আর তা হল ঐ মহিলার জন্য যে গর্ভবতী। কাজেই দেখা যায় যে, ইদ্দত একটি নাম, যার বিভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি পালনীয় বস্তুকে আলাদা করে ইদ্দতের নাম দেয়া হয়নি আর তা হতে হবে তিন কুরূ'। অনুরূপভাবে যে সময়ে তালাক দেয়া হয় সে সময়টিকে কুর' নাম দেয়ায় প্রমাণিত হয় না যে, এরূপ উপস্থাপিত তথ্যটি বিশুদ্ধ। এখানে যদি আমরা আরাে বিশদভাবে বর্ণনা রাখতে চাই তাহলে মুস্তাহাযার জন্যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যা বলেছেন তা এখানে স্মরণ করতে হয়। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেছিলেন دعي الصلوة أيام أقرائك অর্থাৎ তুমি হায়যের দিনগুলােতে সালাত হতে বিরত থাক। তাহলে আমরা এখানে বলতে পারি যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) খােদ বলেছেন, اقراء এর অর্থ হায়য। আর এটা হবে উল্লেখিত সমর্থকদের জন্য একটি প্রমাণ। কিন্তু আমরা এখানে তা বলবনা, কেননা আরবগণ কোন কোন সময় হায়যকে কারা বলেন। আবার কোন কোন সময় তুহুরকেও কারা বলেন। পুনরায় কোন কোন সময় হায়য ও তুহুরকে একত্রিতভাবেও কারা বলেন।
এ সম্পর্কে মাহমুদ ইব্ন হাসসান আন-নাহবী (রাহঃ) ….. আবু আমর ইবনুল আলা হতে বর্ণনা করেন। এ বর্ণনাও অন্য একটি দলীল বলে প্রমাণিত হয়। তিনি বলেনঃ فتلك العدة التي أمر ال له عوجل أن تطلق لها النساء উমার (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) আলসম্বােধন করে বলেনঃ এটা তার কাছে এ কথার জন্যে দলীল নয় যে,اقراء এর অর্থ اطهار কেননা,اقراء এর অর্থ হায়য বলে তার কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত উমর (রাযিঃ)-এর এটা অভিমত হওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন তাকে সম্বােধন করেছেন এতে পরবর্তীদের জন্যে একথার উপর দলীল হয়না যে, কারা’ এর অর্থ তুহুর। উমর (রাযিঃ)-এর এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
যারা اقراء কে اطهار হিসেবে গণ্য করেন তাদের দলীলটি নিম্নরূপঃ
তাদের বিরুদ্ধে অন্যদের দলীল হল এই যে, এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। যেমন তারা বর্ণনা করেছেন। তবে তার থেকে অন্য একটি হাদীসও বর্ণনা করা হয়েছে যা এটার থেকে বেশী পরিপূর্ণ। আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) উমার (রাযিঃ)-কে বলেছেন, তিনি যেন আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ)-কে রাজায়াত করার নির্দেশ দেন। অতঃপর সে তাকে অবসর দেবে যাতে সে পবিত্রতা অর্জন করে, পুনরায় ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়। অতঃপর সে তাকে ইচ্ছে করলে যেন তালাক দেয়। আর বললেন, এটাই ইদ্দত যার নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা দিয়েছেন যে, এটার দিকে লক্ষ্য রেখে তালাক দিতে হবে। এ হাদীসটিও সনদ সহকারে পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন তাকে যে হায়যে তালাক দেয়া হয়েছে তার পরের তহুরেও তালাক দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না সে পবিত্র হয় ও এটার পর আরাে একটি হায়য অতিক্রম করে। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,فتلك العدة التى امر الله ان تطلق لها ا لنساء দ্বারা যদি তুহুর বুঝানাে হয়ে থাকে তাহলে প্রথম হায়ত হতে পবিত্র হওয়ার পরই তালাক দেয়ার অনুমতি দেয়া হত এবং এর পরের একটি হায়যের অপেক্ষা করতে হত না। কেননা এটাতাে তহুর। সুতরাং তার জন্যে যখন এ তুহুরে তালাক দেয়া বৈধ নয়, বরং অন্য একটি তুহুর আসতে হবে এবং দুই তুহুরের মধ্যে একটি হায়যও অতিক্রান্ত হতে হবে।
এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, যে ইদ্দতটির নির্দেশ আল্লাহ্ তা'আলা দিয়েছেন সেটার দিকে লক্ষ্য রেখে মহিলাদের তালাক দিতে হয় তা হচ্ছে এটা একটি সময় যখন মহিলাদেরকে তালাক দেয়া হয়, এটা এমন একটি ইদ্দত নয় যার জন্যে মহিলাদেরকে তালাক দেয়া হয় এবং তা পালন করাও মহিলাদের জন্যে ওয়াজিব হয়ে যায় । কেননা ইদ্দত বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। একটি ইদ্দত হল চার মাস দশদিন আর তা হল ঐ মহিলার জন্য যার স্বামী মারা যায়। আরেকটি হল তিন কুরূ'। আর তা হল ঐ মহিলার জন্য, যাকে তালাক দেয়া হয়েছে। আরেকটি হল সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত আর তা হল ঐ মহিলার জন্য যে গর্ভবতী। কাজেই দেখা যায় যে, ইদ্দত একটি নাম, যার বিভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি পালনীয় বস্তুকে আলাদা করে ইদ্দতের নাম দেয়া হয়নি আর তা হতে হবে তিন কুরূ'। অনুরূপভাবে যে সময়ে তালাক দেয়া হয় সে সময়টিকে কুর' নাম দেয়ায় প্রমাণিত হয় না যে, এরূপ উপস্থাপিত তথ্যটি বিশুদ্ধ। এখানে যদি আমরা আরাে বিশদভাবে বর্ণনা রাখতে চাই তাহলে মুস্তাহাযার জন্যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যা বলেছেন তা এখানে স্মরণ করতে হয়। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেছিলেন دعي الصلوة أيام أقرائك অর্থাৎ তুমি হায়যের দিনগুলােতে সালাত হতে বিরত থাক। তাহলে আমরা এখানে বলতে পারি যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) খােদ বলেছেন, اقراء এর অর্থ হায়য। আর এটা হবে উল্লেখিত সমর্থকদের জন্য একটি প্রমাণ। কিন্তু আমরা এখানে তা বলবনা, কেননা আরবগণ কোন কোন সময় হায়যকে কারা বলেন। আবার কোন কোন সময় তুহুরকেও কারা বলেন। পুনরায় কোন কোন সময় হায়য ও তুহুরকে একত্রিতভাবেও কারা বলেন।
এ সম্পর্কে মাহমুদ ইব্ন হাসসান আন-নাহবী (রাহঃ) ….. আবু আমর ইবনুল আলা হতে বর্ণনা করেন। এ বর্ণনাও অন্য একটি দলীল বলে প্রমাণিত হয়। তিনি বলেনঃ فتلك العدة التي أمر ال له عوجل أن تطلق لها النساء উমার (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) আলসম্বােধন করে বলেনঃ এটা তার কাছে এ কথার জন্যে দলীল নয় যে,اقراء এর অর্থ اطهار কেননা,اقراء এর অর্থ হায়য বলে তার কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত উমর (রাযিঃ)-এর এটা অভিমত হওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন তাকে সম্বােধন করেছেন এতে পরবর্তীদের জন্যে একথার উপর দলীল হয়না যে, কারা’ এর অর্থ তুহুর। উমর (রাযিঃ)-এর এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটি যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
যারা اقراء কে اطهار হিসেবে গণ্য করেন তাদের দলীলটি নিম্নরূপঃ
كتاب الطلاق
بَابُ الْأَقْرَاءِ
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي الْأَقْرَاءِ الَّتِي تَجِبُ عَلَى الْمَرْأَةِ إِذَا طُلِّقَتْ. فَقَالَ قَوْمٌ: هِيَ الْحَيْضُ , وَقَالَ آخَرُونَ: هِيَ الْأَطْهَارُ. فَكَانَ مِنْ حُجَّةِ مَنْ ذَهَبَ إِلَى أَنَّهَا الْأَطْهَارُ , " قَوْلُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ , حِينَ طَلَّقَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ:
«مُرْهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا , ثُمَّ يَتْرُكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ لِيُطَلِّقْهَا إِنْ شَاءَ , فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ» . وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ
بِإِسْنَادِهِ فِي الْبَابِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْبَابِ.
قَالُوا: فَلَمَّا أَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي الطُّهْرِ , وَجَعَلَهُ الْعِدَّةَ دُونَهَا , وَنَهَاهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي الْحَيْضِ , وَأَخْرَجَهُ مِنْ أَنْ يَكُونَ عِدَّةً , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْأَقْرَاءَ هِيَ الْأَطْهَارُ. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِلْآخَرِينَ , أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ قَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , كَمَا ذَكَرُوا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مَا هُوَ أَتَمُّ مِنْ ذَلِكَ. فَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " أَمَرَ عُمَرَ أَنْ يَأْمُرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا , حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ , ثُمَّ تَطْهُرَ , ثُمَّ لِيُطَلِّقْهَا إِنْ شَاءَ , وَقَالَ: تِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ «. وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ أَيْضًا بِإِسْنَادِهِ فِي الْبَابِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْبَابِ. فَلَمَّا نَهَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ إِيقَاعِ الطَّلَاقِ فِي الطُّهْرِ الَّذِي بَعْدَ الْحَيْصَةِ , الَّتِي طَلَّقَ فِيهَا , حَتَّى يَكُونَ طُهْرٌ وَحَيْضَةٌ أُخْرَى بَعْدَهَا , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ كَانَ أَرَادَ بِقَوْلِهِ» فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ الْأَطْهَارُ " إِذًا لَجَعَلَ لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا بَعْدَ طُهْرِهَا مِنْ هَذِهِ الْحَيْضَةِ , وَلَا يَنْتَظِرُ مَا بَعْدَهَا , لِأَنَّ ذَلِكَ طُهْرٌ. فَلَمَّا لَمْ يُبِحْ لَهُ الطَّلَاقَ فِي ذَلِكَ الطُّهْرِ حَتَّى يَكُونَ طُهْرًا آخَرَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ الطُّهْرِ حَيْضَةٌ , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ تِلْكَ الْعِدَّةَ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ , إِنَّمَا هِيَ وَقْتُ مَا تَطْلُقُ النِّسَاءُ , وَلَيْسَ لِأَنَّهَا عِدَّةٌ تَطْلُقُ لَهَا النِّسَاءُ يَجِبُ بِذَلِكَ أَنْ تَكُونَ هِيَ الْعِدَّةُ الَّتِي تَعْتَدُّ بِهَا النِّسَاءُ , لِأَنَّ الْعِدَّةَ مُخْتَلِفَةٌ. مِنْهَا: عِدَّةُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا , أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ. وَمِنْهَا: عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ. وَمِنْهَا: عِدَّةُ الْحَامِلِ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا , فَكَانَتِ الْعِدَّةُ اسْمًا وَاحِدًا , لِمَعَانٍ مُخْتَلِفَةٍ. وَلَمْ يَكُنْ كُلُّ مَا لَزِمَهُ اسْمُ عِدَّةٍ , وَجَبَ أَنْ يَكُونَ قُرْءًا. فَكَذَلِكَ لَمَّا لَزِمَ اسْمَ الْوَقْتِ الَّذِي تَطْلُقُ فِيهِ النِّسَاءُ اسْمُ عِدَّةٍ , لَمْ يَثْبُتْ لَهُ بِذَلِكَ اسْمُ الْقِرْءِ. فَهَذِهِ مُعَارَضَةٌ صَحِيحَةٌ , وَلَوْ أَرَدْنَا أَنْ نُكْثِرَ هَاهُنَا , فَنَحْتَجُّ بِقَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُسْتَحَاضَةِ: «دَعِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِكِ» , فَنَقُولُ: الْأَقْرَاءُ هِيَ: الْحَيْضُ عَلَى لِسَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَانَ ذَلِكَ مَا قَدْ تَعَلَّقَ بِهِ بَعْضُ مَنْ تَقَدَّمَ وَلَكِنَّا لَا نَفْعَلُ ذَلِكَ , لِأَنَّ الْعَرَبَ قَدْ تُسَمِّي الْحَيْضَ قُرْءًا , وَتُسَمِّي الطُّهْرَ قُرْءًا , وَتَجْمَعُ الْحَيْضَ وَالطُّهْرَ , فَتُسَمِّيهِمَا قُرْءًا.
4495 - حَدَّثَنِي بِذَلِكَ مَحْمُودُ بْنُ حَسَّانَ النَّحْوِيُّ , قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ , عَنْ أَبِي زَيْدٍ , عَنْ أَبِي عَمْرِو بْنِ الْعَلَاءِ , وَفِي ذَلِكَ أَيْضًا حُجَّةٌ أُخْرَى , أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ هُوَ الَّذِي خَاطَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِ: «فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ» وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ - عِنْدَهُ - دَلِيلًا أَنَّ الْأَقْرَاءَ الْأَطْهَارُ , إِذْ قَدْ جَعَلَ الْأَقْرَاءَ الْحَيْضَ , فِيمَا رُوِيَ عَنْهُ.
فَإِذَا كَانَ هَذَا عِنْدَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ , وَقَدْ خَاطَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِ , لَا دَلِيلَ فِيهِ عَلَى أَنَّ الْقِرْءَ الطُّهْرُ , كَانَ مَنْ بَعْدَهُ فِيهِ أَيْضًا كَذَلِكَ , وَسَنَذْكُرُ مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي هَذَا , فِي مَوْضِعِهِ مِنْ هَذَا الْبَابِ , إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى. وَكَانَ مِمَّا احْتَجَّ بِهِ الَّذِينَ جَعَلُوا الْأَقْرَاءَ الْأَطْهَارَ أَيْضًا , مَا قَدْ
«مُرْهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا , ثُمَّ يَتْرُكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ لِيُطَلِّقْهَا إِنْ شَاءَ , فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ» . وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ
بِإِسْنَادِهِ فِي الْبَابِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْبَابِ.
قَالُوا: فَلَمَّا أَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي الطُّهْرِ , وَجَعَلَهُ الْعِدَّةَ دُونَهَا , وَنَهَاهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فِي الْحَيْضِ , وَأَخْرَجَهُ مِنْ أَنْ يَكُونَ عِدَّةً , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْأَقْرَاءَ هِيَ الْأَطْهَارُ. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ لِلْآخَرِينَ , أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ قَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , كَمَا ذَكَرُوا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مَا هُوَ أَتَمُّ مِنْ ذَلِكَ. فَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " أَمَرَ عُمَرَ أَنْ يَأْمُرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا , حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ , ثُمَّ تَطْهُرَ , ثُمَّ لِيُطَلِّقْهَا إِنْ شَاءَ , وَقَالَ: تِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ «. وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ أَيْضًا بِإِسْنَادِهِ فِي الْبَابِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْبَابِ. فَلَمَّا نَهَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ إِيقَاعِ الطَّلَاقِ فِي الطُّهْرِ الَّذِي بَعْدَ الْحَيْصَةِ , الَّتِي طَلَّقَ فِيهَا , حَتَّى يَكُونَ طُهْرٌ وَحَيْضَةٌ أُخْرَى بَعْدَهَا , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ كَانَ أَرَادَ بِقَوْلِهِ» فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ الْأَطْهَارُ " إِذًا لَجَعَلَ لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا بَعْدَ طُهْرِهَا مِنْ هَذِهِ الْحَيْضَةِ , وَلَا يَنْتَظِرُ مَا بَعْدَهَا , لِأَنَّ ذَلِكَ طُهْرٌ. فَلَمَّا لَمْ يُبِحْ لَهُ الطَّلَاقَ فِي ذَلِكَ الطُّهْرِ حَتَّى يَكُونَ طُهْرًا آخَرَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ الطُّهْرِ حَيْضَةٌ , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ تِلْكَ الْعِدَّةَ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ , إِنَّمَا هِيَ وَقْتُ مَا تَطْلُقُ النِّسَاءُ , وَلَيْسَ لِأَنَّهَا عِدَّةٌ تَطْلُقُ لَهَا النِّسَاءُ يَجِبُ بِذَلِكَ أَنْ تَكُونَ هِيَ الْعِدَّةُ الَّتِي تَعْتَدُّ بِهَا النِّسَاءُ , لِأَنَّ الْعِدَّةَ مُخْتَلِفَةٌ. مِنْهَا: عِدَّةُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا , أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ. وَمِنْهَا: عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ. وَمِنْهَا: عِدَّةُ الْحَامِلِ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا , فَكَانَتِ الْعِدَّةُ اسْمًا وَاحِدًا , لِمَعَانٍ مُخْتَلِفَةٍ. وَلَمْ يَكُنْ كُلُّ مَا لَزِمَهُ اسْمُ عِدَّةٍ , وَجَبَ أَنْ يَكُونَ قُرْءًا. فَكَذَلِكَ لَمَّا لَزِمَ اسْمَ الْوَقْتِ الَّذِي تَطْلُقُ فِيهِ النِّسَاءُ اسْمُ عِدَّةٍ , لَمْ يَثْبُتْ لَهُ بِذَلِكَ اسْمُ الْقِرْءِ. فَهَذِهِ مُعَارَضَةٌ صَحِيحَةٌ , وَلَوْ أَرَدْنَا أَنْ نُكْثِرَ هَاهُنَا , فَنَحْتَجُّ بِقَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُسْتَحَاضَةِ: «دَعِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِكِ» , فَنَقُولُ: الْأَقْرَاءُ هِيَ: الْحَيْضُ عَلَى لِسَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَانَ ذَلِكَ مَا قَدْ تَعَلَّقَ بِهِ بَعْضُ مَنْ تَقَدَّمَ وَلَكِنَّا لَا نَفْعَلُ ذَلِكَ , لِأَنَّ الْعَرَبَ قَدْ تُسَمِّي الْحَيْضَ قُرْءًا , وَتُسَمِّي الطُّهْرَ قُرْءًا , وَتَجْمَعُ الْحَيْضَ وَالطُّهْرَ , فَتُسَمِّيهِمَا قُرْءًا.
4495 - حَدَّثَنِي بِذَلِكَ مَحْمُودُ بْنُ حَسَّانَ النَّحْوِيُّ , قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ , عَنْ أَبِي زَيْدٍ , عَنْ أَبِي عَمْرِو بْنِ الْعَلَاءِ , وَفِي ذَلِكَ أَيْضًا حُجَّةٌ أُخْرَى , أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ هُوَ الَّذِي خَاطَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِ: «فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَطْلُقَ لَهَا النِّسَاءُ» وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ - عِنْدَهُ - دَلِيلًا أَنَّ الْأَقْرَاءَ الْأَطْهَارُ , إِذْ قَدْ جَعَلَ الْأَقْرَاءَ الْحَيْضَ , فِيمَا رُوِيَ عَنْهُ.
فَإِذَا كَانَ هَذَا عِنْدَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ , وَقَدْ خَاطَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِ , لَا دَلِيلَ فِيهِ عَلَى أَنَّ الْقِرْءَ الطُّهْرُ , كَانَ مَنْ بَعْدَهُ فِيهِ أَيْضًا كَذَلِكَ , وَسَنَذْكُرُ مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي هَذَا , فِي مَوْضِعِهِ مِنْ هَذَا الْبَابِ , إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى. وَكَانَ مِمَّا احْتَجَّ بِهِ الَّذِينَ جَعَلُوا الْأَقْرَاءَ الْأَطْهَارَ أَيْضًا , مَا قَدْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া শক্ত গুনাহের কাজ। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া চাই। এরপর যদি তালাক দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকে তবে সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দিতে হবে যার মধ্যে সহবাসের সুযোগ হয়নি। এর রহস্য সুস্পষ্ট যে, অপবিত্র অবস্থায় নারী আকর্ষণযোগ্য থাকে না। পবিত্রাবস্থায় এটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, স্বামীর হৃদয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি হবে আর তালাক প্রদানের ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ও রাসুলের এতেই অধিক সন্তুষ্টি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)