শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৬. হজ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৮৫
হজ্বের অধ্যায়
মক্কার অধিবাসী কোথা থেকে উমরার ইহরাম বাঁধবে।
৪০৮৫। ইয়যীদ ইব্ন সিনান (রাহঃ) ….. আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, সারিফ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (সা:) আমার কাছে এলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার? আমি বললাম, আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেন, কেঁদ না। হজ্জপালনকারী যা যা করে তুমিও তা কর। এরপর আমরা মক্কা এলাম, তারপর মিনাতে গেলাম। পরদিন সকালে আরাফাতে গিয়েছি, তারপরের দিনগুলোতে আমরা কংকর নিক্ষেপ করেছি। যখন প্রত্যাবর্তনের দিন হল তখন তিনি রওয়ানা করলেন। এবং ওয়াদী মুহাস্সার এ অবতরণ করলেন। উম্মুল মু’মিনীণ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, তিনি শুধু আমার কারণে অবতরণ করেছিলেন। তিনি আব্দুর রহমান ইব্ন আবু বকর (রাযিঃ) কে নির্দেশ দিয়ে বললেন, তোমার বোনকে আরোহন করে হারাম (শরীফ) থেকে বাইরে নিয়ে যাও। উম্মুল মু’মিনীন (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম ! তিনি এটা বলেন নি যে, আমি জি’ইররানা অথবা তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধব। যেহেতু আমাদের জন্য হারাম থেকে তানঈম অধিক নিকটবর্তী ছিল। তাই আমি সেখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছি। তারপর আমরা বায়তুল্লাহ্ শরীফের তাওয়াফ করেছি এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছি। এরপর তাঁর নিকট এলে তিনি রওয়ানা করেছন।
আয়িশা (রাযিঃ) বলেন যে, নবী (সা:) যখন তাঁকে উমরা করানোর সংকল্প করেন তখন শুধু হিল্ল তথা হারাম বহির্ভূত এলাকার সংকল্প করেছেন। বিশেষ কোন নির্ধারিত স্থানকে উদ্দেশ্য করেননি। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) তাঁকে নিয়ে তানঈমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যেহেতু সেটা হিল্ল (হারামের বাইরে) -এর অধিক নিকটবর্তী জায়গা। এ জন্য নয় যে, সেটা কোন কারণে হিল্ল-এর জন্য জায়গাসমূহ অপেক্ষা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এতে প্রমাণিত হল যে, মক্কার অধিবাসীদের উমরার জন্য মীকাত হল হিল্ল। আর এ ব্যাপারে তানঈম এবং অন্য জায়গার বিধান অভিন্ন। এসব কিছু হল, ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমামা মুহাম্মাদ (রাহঃ)- এর অভিমত।
كتاب مناسك الحج
4085 - فَإِذَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ قَدْ حَدَّثَنَا قَالَ: ثنا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: ثنا أَبُو عَامِرٍ صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ , عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ , عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَرِفٍ , وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ: «مَا ذَاكَ؟» قُلْتُ: حِضْتُ قَالَ: «فَلَا تَبْكِي , اصْنَعِي مَا يَصْنَعُ الْحَاجُّ» . فَقَدِمْنَا مَكَّةَ , ثُمَّ أَتَيْنَا مِنًى ثُمَّ غَدَوْنَا إِلَى عَرَفَةَ , ثُمَّ رَمَيْنَا الْجَمْرَةَ تِلْكَ الْأَيَّامَ , فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّفْرِ ارْتَحَلَ فَنَزَلَ الْحَصْبَةَ. قَالَتْ: وَاللهِ مَا نَزَلَهَا إِلَّا مَنْ أَجْلَى , فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ , فَقَالَ: «احْمِلْ أُخْتَكَ فَأَخْرِجْهَا مِنَ الْحَرَمِ. قَالَتْ , وَاللهِ مَا ذَكَرَ الْجِعْرَانَةَ , وَلَا التَّنْعِيمَ فَلْتُهْلِلْ بِعُمْرَةٍ فَكَانَ أَدْنَانَا مِنَ الْحَرَمِ , التَّنْعِيمَ , فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ , فَطُفْنَا بِالْبَيْتِ , وَسَعَيْنَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ , ثُمَّ أَتَيْنَاهُ , فَارْتَحَلَ فَأَخْبَرْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقْصِدْ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يُعَمِّرَهَا إِلَّا إِلَى الْحِلِّ , لَا إِلَى مَوْضِعٍ مِنْهُ بِعَيْنِهِ خَاصًّا» , وَأَنَّهُ إِنَّمَا قَصَدَ بِهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ التَّنْعِيمَ , لِأَنَّهُ كَانَ أَقْرَبَ الْحِلِّ إِلَيْهِمْ , لَا لِمَعْنًى فِيهِ يَبِينُ بِهِ مِنْ سَائِرِ الْحِلِّ غَيْرُهُ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ وَقْتَ أَهْلِ مَكَّةَ لِعُمْرَتِهِمْ , هُوَ الْحِلُّ , وَأَنَّ التَّنْعِيمَ فِي ذَلِكَ وَغَيْرَهُ سَوَاءٌ , وَهَذَا كُلُّهُ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ , رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান