শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৬. হজ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩০
হজ্বের অধ্যায়
তাওয়াফে রমল করা
৩৮২৯-৩০। মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা (রাহঃ) ..... ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্ ﷺ জি‘ইররানা নামক স্থান থেকে উমরা পালন করেছেন। তিনি বায়তুল্লাহ্ শরীফের (তাওয়াফে) তিন চক্করের মধ্যে রমল করেছেন এবং চার চক্করে স্বাভাবিক ভাবে হেঁটেছেন।
বস্তুত এই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্ ﷺ পুরো চক্করে রমল করেছেন। কিছু অংশে তো মুশরিকরা তাঁদের দেখছিলো, আর কিছু অংশে তারা তাঁকে দেখছিলো না। যে অংশ তারা দেখছিলো না, সে অংশেও তাঁর রমল করা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, 'রমল' তাদের কারণে ছিলো না বরং এর অন্য কোন কারণ ছিল।
ইব্ন আবী দাউদ (রাহঃ) ..... আবুত তুফাইল (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ্ ﷺ হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করেছেন। এই হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
বস্তুত এই হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্ ﷺ পুরো চক্করে রমল করেছেন। কিছু অংশে তো মুশরিকরা তাঁদের দেখছিলো, আর কিছু অংশে তারা তাঁকে দেখছিলো না। যে অংশ তারা দেখছিলো না, সে অংশেও তাঁর রমল করা এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, 'রমল' তাদের কারণে ছিলো না বরং এর অন্য কোন কারণ ছিল।
ইব্ন আবী দাউদ (রাহঃ) ..... আবুত তুফাইল (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ্ ﷺ হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করেছেন। এই হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
كتاب مناسك الحج
3829 - بِمَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا الْحَجَّاجُ قَالَ: ثنا حَمَّادٌ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ , عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَمَرَ مِنَ الْجِعْرَانَةِ , فَرَمَلَ بِالْبَيْتِ ثَلَاثًا , وَمَشَى أَرْبَعَةَ أَشْوَاطٍ» فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَلَ الْأَشْوَاطَ كُلَّهَا , وَقَدْ كَانَ فِي بَعْضِهَا حَيْثُ يَرَاهُ الْمُشْرِكُونَ , وَفِي بَعْضِهَا حَيْثُ لَا يَرَوْنَهُ فَفِي رَمْلِهِ حَيْثُ لَا يَرَوْنَهُ , دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَجْلِهِمْ رَمَلَ , وَلَكِنْ لِمَعْنًى آخَرَ
3830 - وَقَدْ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ , عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ , عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ «رَمَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ» , فَهَذَا الْحَدِيثُ مِثْلُ الَّذِي قَبْلَهُ
3830 - وَقَدْ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ قَالَ: ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ , عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ , عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ «رَمَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ» , فَهَذَا الْحَدِيثُ مِثْلُ الَّذِي قَبْلَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)