শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৫. রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৪৮৬
রোযার অধ্যায়
১৫. সন্দেহের দিনে সিয়াম পালন
৩৪৮৬। ফাহাদ (রাহঃ) ......... সিলা (ইব্ন যুফার র) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন একটি ভুনা বকরী হাজির করা হয়। তিনি লোকদেরকে বললেন, “সকলে আহার কর”। কিন্তু একজন দূরে সরে বলল,আমি রোযাদার’। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে সিয়াম পালন করল, সে আবুল কাসিম (ﷺ) এর অবাধ্য হল।
ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন ঃ একদল আলিম সন্দেহের দিনে সিয়াম পালনকে মাকরূহ মনে করেন। তাঁরা এ বিষয়ে এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন। পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ এ বিষয়ে তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা সেই (সন্দেহের) দিনে নফল সিয়াম পালনে কোন অসুবিধা মনে করে না। তাঁরা বলেন, এই হাদীসে যে মাকরূহ সিয়ামের উল্লেখ রয়েছে, তা দ্বারা সেই সিয়ামকে বুঝানো হয়েছে, যা রামাযানের সিয়াম মনে করে রাখা হয়। নফল সিয়াম পালনে কোন অসুবিধা নেই। তাঁরা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, যা আমরা অন্যস্থানে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেনঃ রামাযান (মাস) আগমনের একদিন বা দুই দিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল ) সিয়াম পালন করবে না। হ্যাঁ,যদি তা তোমাদের কারো পূর্ব (অভ্যাস অনুসারে ) সিয়াম পালনের দিনে পড়ে যায়, তবে সে তা পালন করতে পারে।
ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন ঃ একদল আলিম সন্দেহের দিনে সিয়াম পালনকে মাকরূহ মনে করেন। তাঁরা এ বিষয়ে এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন। পক্ষান্তরে অপরাপর আলিমগণ এ বিষয়ে তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা সেই (সন্দেহের) দিনে নফল সিয়াম পালনে কোন অসুবিধা মনে করে না। তাঁরা বলেন, এই হাদীসে যে মাকরূহ সিয়ামের উল্লেখ রয়েছে, তা দ্বারা সেই সিয়ামকে বুঝানো হয়েছে, যা রামাযানের সিয়াম মনে করে রাখা হয়। নফল সিয়াম পালনে কোন অসুবিধা নেই। তাঁরা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেই হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, যা আমরা অন্যস্থানে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেনঃ রামাযান (মাস) আগমনের একদিন বা দুই দিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল ) সিয়াম পালন করবে না। হ্যাঁ,যদি তা তোমাদের কারো পূর্ব (অভ্যাস অনুসারে ) সিয়াম পালনের দিনে পড়ে যায়, তবে সে তা পালন করতে পারে।
كتاب الصيام
بَابُ الصَّوْمِ يَوْمِ الشَّكِّ
3486 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا: أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ قَالَ: ثنا أَبُو خَالِدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ الْأَزْدِيُّ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ صِلَةَ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَمَّارٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ لِلْقَوْمِ: كُلُوا فَتَنَحَّى رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ وَقَالَ: إِنِّي صَائِمٌ قَالَ: عَمَّارٌ: مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَكَرِهَ قَوْمٌ صَوْمَ الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَلَمْ يَرَوْا بِصَوْمِهِ تَطَوُّعًا بَأْسًا قَالُوا: وَإِنَّمَا الصَّوْمُ الْمَكْرُوهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ الصَّوْمُ عَلَى أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ فَأَمَّا تَطَوُّعًا فَلَا بَأْسَ بِهِ وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِمَا قَدْ رَوَيْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ قَوْلِهِ «لَا تَتَقَدَّمُوا رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلَا بِيَوْمَيْنِ إِلَّا أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ فَلْيَصُمْهُ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সন্দেহের দিন দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ দিন, যার ব্যাপারে সন্দেহ হয় যে, এটা হয়তো রমযানের দিন হবে। যেমন, ২৯শে শা'বান আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকল এবং চাঁদ দেখা গেল না। এমতাবস্থায় পরবর্তী দিনের ব্যাপারে সন্দেহ হয় যে, আজ হয়তো চাঁদ উঠেছে এবং আকাশে মেঘ অথবা ধূলি থাকার কারণে তা দেখা যায়নি। তাই এ হিসাবে আগামীকাল রমযান হবে। শরী‘আতে এ সন্দেহ ও ধারণার কোন ভিত্তি নেই এবং এর উপর ভিত্তি করে ঐ দিন রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। আর কোন কোন হাদীস থেকে এ বিষয়টি জানা যায় যে, এমতাবস্থায় শা'বানের ৩০ দিন পূর্ণ করে পরে রোযা রাখতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)