শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪৮৩
রোযার অধ্যায়
নফল সিয়াম আরম্ভ করে ভেঙ্গে ফেলা
৩৪৮৩। ইসমাঈল ইব্ন ইয়াহয়া মুযানী (রাহঃ) ......... উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার জন্য “হায়স”( ঘি,পনির ও খেজুর অথবা আটা মিশ্রিত এক প্রকার খাদ্য) প্রস্তুত করে রেখেছি। তিনি বললেন, আমি সিয়াম পালনের ইচ্ছা করেছি। তবে তা আন, এস্থলে অন্য একদিন সিয়াম পালন করব।
মুহাম্মাদ (ইবন ইদ্রিস র) বলেন, আমি সুফইয়ান (রাহঃ) এর সাথে তাঁর মজলিসে শুনেছি, তিনি একথা উল্লেখ করতেন না যে, (তিনি বলেছেন) আমি এস্থলে অন্য একদিন সিয়াম পালন করে নিব। তারপর আমি এ হাদীসটি তাঁর মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাঁর সম্মুখে পেশ করলে তিনি এতে আমাকে উক্ত বাক্য সংযোজনেরও অনুমতি প্রদান করেন যে, “আমি এস্থলে অন্য একদিন সিয়াম পালন করে নিব।”
বস্তুত এই হাদীসে কাযা ওয়াজিব হওয়ার উল্লেখ রয়েছে এবং আয়িশা (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াতও এর অনুকূলে রয়েছে,পক্ষান্তরে উম্মুহানী (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াতে আমরা যা উল্লেখ করেছি এর পরিপন্থী কিছু নেই।
সুতরাং আয়িশা (রাযিঃ) থেকে উরওয়া (রাহঃ) ও “আমরা” (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত বেশীর চাইতে বেশী তাঁর পূর্বের রাবীর উপর মউকুফ-ই হবে, যখন কিনা মুত্তাসিল হাদীস -এর অনুকূলে রয়েছে। আর তাহলো আয়িশা বিন্ত তালহা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত। অতএব হাদীসের দৃষ্টিভঙ্গীতে এটা এর পরিপন্থী উক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর হবে।
এ বিষয়ে যুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা হলো এই যে, আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু বিষয় এরূপ যা বান্দা নিজের উপর ওয়াজিব করার দ্বারা ওয়াজিব হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সালাত, সাদাকা,সিয়াম, হজ্জ ও উমরা।তাই যে ব্যক্তি এগুলো থেকে কোন বিষয়কে নিজের উপর অপরিহার্য করে বলে যে, আমার উপর আল্লাহর জন্য অমুক অমুক ওয়াজিব ,তাহলে তার উপর সেটি পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। আর কিছু বিষয় এরূপ লক্ষ্য করছি যে, যা বান্দা আরম্ভ করার দ্বারা নিজের উপর ওয়াজিব করে নেয় যেমন সালাত, সিয়াম ও হজ্জ ইত্যাদি। সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ কিংবা উমরা আরম্ভ করার পর তা বাতিল করার এবং এর থেকে বের হয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে এরূপ করা তার জন্য বৈধ নয় এবং একাজ আরম্ভ করার দ্বারা সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায়, যে কিনা বলে আল্লাহর জন্য আমার উপর হজ্জব্রত পালন ওয়াজিব এবং পূর্ণ করা তার উপর অপরিহার্য হয়ে যায়।
যদি কোন প্রশ্নকারী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন যে, আমাদেরকে এই দুই কাজ (হজ্জ ও উমরা) থেকে বের হতে এজন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, এগুলো পূর্ণ করা ব্যতীত এগুলো থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়, পক্ষান্তরে সালাত ও সিয়াম অনুরূপ নয়। যেহেতু এগুলো কোন কোন সময় বাতিল হয়ে যায় এবং কথাবার্তা ,পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের করণে তা থেকে বের হওয়া যায়।
উত্তরে তাঁকে বলা হবে যে,যদিও নাকি হজ্জ ও উমরা সেইরূপ যা আপনি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, আপনার ধারণা হলো , যে ব্যক্তি তাতে স্ত্রী সহবাস করবে, তার উপর এর কাযা অপরিহার্য হবে। এবং কাযাকে সে তখনই আরম্ভ করবে যখন সে তা ( ভেঙ্গে তা) থেকে বের হয়ে যায়। তাহলে আপনি এই দু’টাকে ভেঙ্গে দেয়ার কারণে ঐ ব্যক্তির উপর কাযা করাকে অপরিহার্য সাব্যস্ত করেছেন, সে চাক বা না চাক। সুতরাং এখন যেটা কাযা করা হচ্ছে এটা সেই আমলের বদল বা পরিবর্তে যা আরম্ভ করার দ্বারা তার উপর ওয়াজিব হয়েছিল। এরূপ নয় যে, ওটা পূর্ব থেকে তার উপর ওয়াজিব ছিল। (শুধু মৌখিকভাবে বলার দ্বারা ) যদি ইহরাম বাঁধার পর তার উপর হজ্জ এবং উমরা ওয়াজিব হওয়া এবং তা থেকে পৃথক না হওয়ার কারণ সেটাই হয় যা আপনি উল্লেখ করেছেন যে, সে তা পরিত্যাগ করতে পারে না। যদি তা না হত তাহলে তার জন্য এর থেকে অবসর হওয়া বৈধ ছিলো। যেমনিভাবে সে সালাত,সিয়াম এবং অপরাপর আমলসমূহ পরিত্যগ করতে পারে। তাই এ অবস্থায় তার উপর এগুলোর কাযা ওয়াজিব হবে না। যেহেতু সে ওটা (কাযা) কে আরম্ভ করার শক্তি রাখে না। যখন এটা (শক্তি না রাখা) কাযা ওয়াজিব হওয়াকে বাতিল করে না এবং সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেই ব্যক্তির ন্যায় যার দ্বায়িত্বে এরূপ হজ্জের কাযা জরুরী হয় যা সে নিজে মৌখিকভাবে নিজের উপর জরুরী করে নিয়েছে। অতএব যুক্তির দাবি হলো এটাই যে, যে ব্যক্তি সালাত ও সিয়ামকে আরম্ভ করবে এবং সে তা আরম্ভ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের উপর জরুরী করে নিবে, এর পর তা পরিত্যাগ করবে তাহলে তার উপর এর কাযা অপরিহার্য হবে।
উক্ত প্রশ্নকারীকে আরও বলা হবে যে,আমরা লক্ষ্য করছি যে, উমরা এরূপ বিধানাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের ও আপনাদের (সকলের) নিকট আরম্ভ করার পর পরিত্যাগ করা জায়েয আছে। নবী করীম (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ) কে বলেছেনঃ তোমার উমরা পরিত্যাগ করে হজ্জের ইহরাম বাঁধ। তাই তাঁর বক্তব্য মুতাবিক এই আমল সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আমরা এই রিওয়ায়াতকে সনদসহ এই গ্রন্থের যথাস্থানে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ। সুতরাং বিষয়টি এরূপ নয় যে, যে ব্যক্তি উমরা পালন করে,এরপর তা পরিত্যাগ করার শক্তি রাখে এবং পরিত্যাগও করে দেয় তাহলে তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে না। আর যে ব্যক্তি ওয়াজিব হওয়া ব্যতীত তা আরম্ভ করবে তাহলে সে তা পূর্ণ করা ব্যতীত ওজর বিহীন পরিত্যাগ করতে পরবে না, যদি কোন ওজর কিংবা ওজরবিহীন ভাবে তা পরিত্যাগ করে, তাহলে তার উপর কাযা অপরিহার্য। অতএব যুক্তির দাবি মুতাবিক সালাত ও সিয়ামের বিধানও অনুরূপ। যে ব্যক্তি তা আরম্ভ করবে তার জন্য তা ওজরবিহীন ভাবে পরিত্যাগ করা জায়েয নেই। আর যদি কোন ওজর কিংবা ওজর বিহীনভাবে পরিত্যাগ করে তাহলে তার উপর এর কাযা আদায় করা অপরিহার্য হবে। এ অনুচ্ছেদে এটাই হচ্ছে যুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ,ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ,ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর অভিমত।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনেক সাহাবী থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে ঃ
كتاب الصيام
3483 - مَا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى الْمُزَنِيُّ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَمَّتِهِ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا قَدْ خَبَّأْنَا لَكَ حَيْسًا فَقَالَ: «أَمَا إِنِّي كُنْتُ أُرِيدُ الصَّوْمَ وَلَكِنْ قَرِّبِيهِ سَأَصُومُ يَوْمًا مَكَانَ ذَلِكَ» . قَالَ مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِدْرِيسَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ عَامَّةَ مُجَالَسَتِي إِيَّاهُ لَا يَذْكُرُ فِيهِ «سَأَصُومُ يَوْمًا مَكَانَ ذَلِكَ» ثُمَّ إِنِّي عَرَضْتُ عَلَيْهِ الْحَدِيثَ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِسَنَةٍ فَأَجَازَ فِيهِ «سَأَصُومُ يَوْمًا مَكَانَ ذَلِكَ» فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ ذَكَرَ وُجُوبَ الْقَضَاءِ وَفِي حَدِيثِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا مَا قَدْ وَافَقَ ذَلِكَ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أُمِّ هَانِئٍ مَا يُخَالِفُ مَا قَدْ ذَكَرْنَا فَأَقَلُّ أَحْوَالِ حَدِيثِ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنْ يَكُونَ مَوْقُوفًا عَلَى مَنْ هُوَ دُونَهُمَا وَقَدْ وَافَقَهُ حَدِيثٌ مُتَّصِلٌ وَهُوَ حَدِيثُ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ فَالْقَوْلُ بِذَلِكَ مِنْ جِهَةِ الْحَدِيثِ أَوْلَى مِنَ الْقَوْلِ بِخِلَافِهِ وَأَمَّا النَّظَرُ فِي ذَلِكَ فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَا أَشْيَاءَ تَجِبُ عَلَى الْعِبَادِ بِإِيجَابِهِمْ إِيَّاهَا عَلَى أَنْفُسِهِمْ مِنْهَا الصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ فَكَانَ مَنْ أَوْجَبَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ عَلَى نَفْسِهِ فَقَالَ لِلَّهِ عَلَيَّ كَذَا وَكَذَا وَجَبَ عَلَيْهِ الْوَفَاءُ بِذَلِكَ. وَرَأَيْنَا أَشْيَاءَ يَدْخُلُ فِيهَا الْعِبَادُ فَيُوجِبُونَهَا عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِدُخُولِهِمْ فِيهَا مِنْهَا الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ وَمَا ذَكَرْنَا فَكَانَ مَنْ دَخَلَ فِي حَجَّةٍ أَوْ عُمْرَةٍ ثُمَّ أَرَادَ إِبْطَالَهَا وَالْخُرُوجَ مِنْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ وَكَانَ بِدُخُولِهِ فِيهَا فِي حُكْمِ مَنْ قَالَ لِلَّهِ عَلَيَّ حَجَّةٌ فَعَلَيْهِ الْوَفَاءُ بِهَا فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: إِنَّمَا مَنَعْنَاهُ مِنَ الْخُرُوجِ مِنْهُمَا لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُهُ الْخُرُوجُ مِنْهَا إِلَّا بِتَمَامِهَا وَلَيْسَتِ الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ كَذَلِكَ لِأَنَّهُمَا قَدْ يَبْطُلَانِ وَيَخْرُجُ مِنْهُمَا بِالْكَلَامِ وَالطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَالْجِمَاعِ قِيلَ لَهُ: إِنَّ الْحَجَّةَ وَالْعُمْرَةَ وَإِنْ كَانَا كَمَا ذَكَرْتَ فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَاكَ تَزْعُمُ أَنَّ مَنْ جَامَعَ فِيهِمَا فَعَلَيْهِ قَضَاؤُهُمَا وَالْقَضَاءُ يَدْخُلُ فِيهِ بَعْدَ خُرُوجِهِ مِنْهُمَا فَقَدْ جَعَلْتَ عَلَيْهِ الدُّخُولَ فِي قَضَائِهِمَا إِنْ شَاءَ أَوْ أَبَى مِنْ أَجْلِ إِفْسَادِهِ لَهُمَا فَهَذَا الَّذِي يَقْضِيهِ بَدَلٌ مِنْهُ مِمَّا كَانَ وَجَبَ عَلَيْهِ بِدُخُولِهِ فِيهِ لَا بِإِيجَابٍ كَانَ مِنْهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَلَوْ كَانَتِ الْعِلَّةُ فِي لُزُومِ الْحَجَّةِ وَالْعُمْرَةِ إِيَّاهُ حِينَ أَحْرَمَ بِهِمَا وَبُطْلَانِ الْخُرُوجِ مِنْهُمَا هِيَ مَا ذَكَرْتَ مِنْ عَدَمِ رَفْضِهِمَا وَلَوْلَا ذَلِكَ كَانَ لَهُ الْخُرُوجُ مِنْهُمَا كَمَا كَانَ لَهُ الْخُرُوجُ مِنَ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ بِمَا ذَكَرْنَا مِنَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي تَخْرُجُ مِنْهُمَا إِذًا لَمَا وَجَبَ عَلَيْهِ قَضَاؤُهُمَا لِأَنَّهُ غَيْرُ قَادِرٍ عَلَى أَنْ لَا يَدْخُلَ فِيهِ فَلَمَّا كَانَ ذَلِكَ غَيْرَ مُبْطِلٍ عَنْهُ وُجُوبَ الْقَضَاءِ وَكَانَ فِي ذَلِكَ كَمَنْ عَلَيْهِ قَضَاءُ حَجَّةٍ قَدْ أَوْجَبَهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَفْسِهِ بِلِسَانِهِ كَانَ كَذَلِكَ أَيْضًا فِي النَّظَرِ مَنْ دَخَلَ فِي صَلَاةٍ أَوْ صِيَامٍ فَأَوْجَبَ ذَلِكَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَفْسِهِ بِدُخُولِهِ فِيهِ ثُمَّ خَرَجَ مِنْهُ فَعَلَيْهِ قَضَاؤُهُ وَيُقَالُ لَهُ أَيْضًا: وَقَدْ رَأَيْنَا الْعُمْرَةَ مِمَّا قَدْ يَجُوزُ رَفْضُهَا بَعْدَ الدُّخُولِ فِيهَا فِي قَوْلِنَا وَقَوْلِكَ وَبِذَلِكَ جَاءَتِ السُّنَّةُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي «قَوْلِهِ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا دَعِي عَنْكِ الْعُمْرَةَ وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ» وَسَنَذْكُرُ ذَلِكَ بِإِسْنَادِهِ فِي مَوْضِعِهِ مِنْ كِتَابِنَا هَذَا إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى فَلَمْ يَكُنْ لِلدَّاخِلِ فِي الْعُمْرَةِ إِذَا كَانَ قَادِرًا عَلَى رَفْضِهَا وَالْخُرُوجِ مِنْهَا أَنْ يَخْرُجَ مِنْهَا فَيُبْطِلَهَا ثُمَّ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ قَضَاؤُهَا.وَكَانَ مَنْ دَخَلَ فِيهَا بِغَيْرِ إِيجَابٍ مِنْهُ لَهَا قَبْلَ ذَلِكَ لَيْسَ لَهُ الْخُرُوجُ مِنْهَا قَبْلَ تَمَامِهَا إِلَّا مِنْ عُذْرٍ فَإِنْ خَرَجَ مِنْهَا فَأَبْطَلَهَا بِعُذْرٍ أَوْ بِغَيْرِ عُذْرٍ فَعَلَيْهِ قَضَاؤُهَا فَالصَّلَاةُ وَالصَّوْمُ أَيْضًا فِي النَّظَرِ كَذَلِكَ لَيْسَ لِمَنْ دَخَلَ فِيهِمَا الْخُرُوجُ مِنْهُمَا وَإِبْطَالُهُمَا إِلَّا مِنْ عُذْرٍ وَإِنْ خَرَجَ مِنْهُمَا قَبْلَ إِتْمَامِهِ إِيَّاهُمَا بِعُذْرٍ أَوْ بِغَيْرِ عُذْرٍ فَعَلَيْهِ قَضَاؤُهُمَا فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ وَقَدْ رُوِيَ مِثْلُ ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান