শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৫৮
রোযার অধ্যায়
সিয়াম অবস্থায় (স্ত্রীকে) চুস্বন করা
৩৩৫৭-৫৮। রবীউল মুয়াযযিন (রাহঃ) .... উমার ইব্নুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একদিন আমি অত্যন্ত আনন্দে বিভাের হয়ে সিয়াম অবস্থায় (স্ত্রীকে) চুম্বন করলাম। তারপর (ব্যাকুলতা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম, আমি আজকে বিরাট (গুনাহ্) করে ফেলেছি, আমি সিয়াম অবস্থায় (স্ত্রীকে) চুম্বন করেছি। এতে রাসূলুল্লাহ্ বললেন: বল দেখি, তুমি যদি সিয়াম অবস্থায় পানি দিয়ে কুলি করতে? বললাম, এতে অসুবিধা নেই। রাসূলুল্লাহ্ বললেন, তাহলে কিসে বিরাট গুনাহ্ হলাে?

৩১২৪. আলী ইব্ন মা’বাদ (রাহঃ) .....লায়স ইব্ন সা’দ (রাহঃ) থেকে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
বস্তুত (উমার রা-এর) এই হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত এবং প্রসিদ্ধ রাবীদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। এটি কিন্তু মায়মূনা বিনতে সা’দ (রাযিঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ নয়, যা আবু ইয়াযীদ আল-দাব্বী ন্যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। সুতরাং এরূপ হাদীসের সঙ্গে আমাদের উল্লিখিত সেই সমস্ত সিকাহ্ তথা নির্ভরযােগ্য রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মুকাবিলা হতে পারে না!

অথবা সম্ভবত তাঁর উক্ত হাদীসটির মর্ম উমার (রাযিঃ)-এর এই হাদীসের মর্ম পরিপন্থী এবং নবী করীম (ﷺ)-এর উত্তর। যাতে সেই প্রশ্নের উত্তর বিদ্যমান রয়েছে যে তাঁকে এরূপ দুই (যুবক) সিয়াম পালনকারীর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, যাদের নিজেদের প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ শক্তির স্বল্পতার কারণে তাদেরকে তিনি তা বলেছেন। অর্থাৎ, যখন তাদের চুম্বনের সাথে অন্য ক্ষতিকর (স্ত্রী সহবাস) বস্তু থাকবে, (তখন তথা চুম্বন নিষিদ্ধ হবে)। এ ব্যাখ্যাই উত্তম অপর ব্যাখ্যা অপেক্ষা, যাতে করে তা অন্য হাদীসের পরিপন্থী হবে না।

আর উমার ইব্ন হামযা (রাহঃ)-এর হাদীস -এর ইসনাদেও বুকায়র (রাহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ যা আমরা উল্লেখ করেছি শক্তি ও নির্ভরযােগ্যতা বিদ্যমান নেই । যেহেতু উমার ইব্ন হামযা (রাহঃ) মহত্ত্ব, প্রজ্ঞা ও সুদৃঢ় হওয়ার দিক দিয়ে বুকায়র ইবুন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)-এর অনুরূপ নন। তাঁরা উভয়ে যদি মর্যাদার দিক দিয়ে সমানও হন তা সত্ত্বেও বুকায়র (রাহঃ)-এর হাদীস অপেক্ষাকৃত উত্তম হবে। যেহেতু বুকায়র (রাহঃ)-এর হাদীসে জাগরিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে। আর তা এমন বক্তব্য যা দিয়ে উমর (রাহঃ)-এর বিরুদ্ধে প্রমাণ সাব্যস্ত হয়। আর উমার ইব্ন হামযা (রাহঃ)-এর হাদীস এমন উক্তি যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে স্বপ্নে বর্ণনা করা হয়েছে এবং তা এমন যা দিয়ে প্রমাণ সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং যা দিয়ে প্রমাণ সাব্যস্ত হয় না এটি অপেক্ষা যা দিয়ে প্রমাণ সাব্যস্ত হয় তা উত্তম হিসাবে বিবেচিত। তারপর এই ইব্ন উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে সেই হাদীস বর্ণনা করেছেন যা উমার ইব্ন হামযা (রাহঃ) তাঁর হাদীসে উদ্ধৃত করেছেন। তারপর তিনি তার পিতার ইন্তিকালের অব্যবহিত পরে তার পরিপন্থী বক্তব্য পেশ করেছেন।
كتاب الصيام
3357 - وَهُوَ مَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ قَالَ: ثنا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ قَالَ: ثنا اللَّيْثُ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: " هَشَشْتُ يَوْمًا فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ فَعَلْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا قَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ لَوْ تَمَضْمَضْتَ بِمَاءٍ وَأَنْتَ صَائِمٌ؟ فَقُلْتُ: لَا بَأْسَ بِذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفِيمَ؟ "

3358 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ , قَالَ: ثنا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارِ , قَالَ: أنا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ فَهَذَا الْحَدِيثُ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ مَعْرُوفٌ لِلرُّوَاةِ وَلَيْسَ كَحَدِيثِ مَيْمُونَةَ بِنْتِ سَعْدٍ الَّذِي رَوَاهُ عَنْهَا أَبُو يَزِيدَ الضَّبِّيُّ وَهُوَ رَجُلٌ لَا يُعْرَفُ فَلَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَارَضَ حَدِيثُ مَنْ ذَكَرْنَا بِحَدِيثِ مِثْلِهِ مَعَ أَنَّهُ قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ حَدِيثُهُ ذَلِكَ عَلَى مَعْنَى خِلَافِ مَعْنَى حَدِيثِ عُمَرَ هَذَا وَيَكُونُ جَوَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي فِيهِ جَوَابًا لِسُؤَالٍ سُئِلَ فِي صَائِمَيْنِ بِأَعْيَانِهِمَا عَلَى قِلَّةِ ضَبْطِهِمَا لِأَنْفُسِهِمَا فَقَالَ ذَلِكَ فِيهِمَا أَيْ أَنَّهُ إِذَا كَانَتِ الْقُبْلَةُ مِنْهُمَا فَقَدْ كَانَ مَعَهَا غَيْرُهَا مِمَّا قَدْ يَضُرُّهُمَا وَهَذَا أَوْلَى مِمَّا حُمِلَ عَلَيْهِ مَعْنَاهُ حَتَّى لَا يُضَادَّ غَيْرَهُ وَأَمَّا حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ فَلَيْسَ أَيْضًا إِسْنَادُهُ كَحَدِيثِ بُكَيْرٍ الَّذِي قَدْ ذَكَرْنَا لِأَنَّ عُمَرَ بْنَ حَمْزَةَ لَيْسَ مِثْلَ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ فِي جَلَالَتِهِ وَمَوْضِعِهِ مِنَ الْعِلْمِ وَإِتْقَانِهِ مَعَ أَنَّهُمَا لَوْ تَكَافَآ لَكَانَ حَدِيثُ بُكَيْرٍ أَوْلَاهُمَا لِأَنَّهُ قَوْلٌ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْيَقَظَةِ وَذَلِكَ قَوْلٌ قَدْ قَامَتْ بِهِ الْحُجَّةُ عَلَى عُمَرَ وَحَدِيثُ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ إِنَّمَا هُوَ عَلَى قَوْلٍ حَكَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ وَذَلِكَ مِمَّا لَا تَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ فَمَا تَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ أَوْلَى مِمَّا لَا تَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ ثُمَّ هَذَا ابْنُ عُمَرَ قَدْ حَدَّثَ عَنْ أَبِيهِ بِمَا حَكَاهُ عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ فِي حَدِيثِهِ ثُمَّ قَالَ بَعْدَ أَبِيهِ بِخِلَافِ ذَلِكَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উত্তর দ্বারা কেবল এ একটি মাসআলাই জানা হয়নি যে, শুধু চুমু খাওয়াতে রোযার ক্ষতি হয় না; বরং একটি মূলনীতি জানা হয়ে গেল যে, রোযা ভঙ্গকারী জিনিস হল খাওয়া, পান করা এবং স্ত্রীসঙ্গম করা। আর যেভাবে পানাহারের কোন জিনিস কেবল মুখে রেখে দিলেই রোযা নষ্ট হয় না, তেমনিভাবে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া ও স্পর্শ করাতে (যা কেবল স্ত্রীসঙ্গমের ভূমিকা হয়ে থাকে) রোযা নষ্ট হয় না। হ্যাঁ, যে ব্যক্তির বেলায় এ আশংকা থাকে যে, সে খাহেশের কাছে পরাভূত হয়ে গিয়ে স্ত্রীসঙ্গমেই লিপ্ত হয়ে যাবে, তার জন্য রোযা অবস্থায় এসব বিষয় থেকেও দূরে থাকতে হবে- যেমন, কোন কোন হাদীস দ্বারা এ বিষয়টি জানা হয়ে গিয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান