শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৩০
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৩১
নামাযের অধ্যায়
৭৩. নফল সালাতে দীর্ঘ কিয়াম করা উত্তম না বেশী রুকূ-সিজদা করা?
২৭৩০-২৭৩১। ফাহাদ (রাহঃ)....মুখারিক (রাহঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম।আমরা রাবযা নামক স্থান হয়ে যাচ্ছিলাম। (সেখানে) আমরা আবু যযার (রাযিঃ) কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি কিয়াম দীর্ঘ না করে রুকূ-সিজদা বেশী করছেন। এ বিষয়ে তাঁকে বললাম ! তিনি বললেন, আমি সুন্দর করতে ত্রূটি করি না। আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি (আল্লাহর উদ্দেশ্যে) রুকু করে, সিজদা করে, আল্লাহ তায়ালা এতে তার মর্যাদা বুলন্দ করে দেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন।
আবু জা’ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল আলিম এ মত গ্রহন করেছেন যে, নফল সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ও কিরা’আত অপেক্ষা অধিক রুকূ সিজদা উত্তম। এ বিষয়ে তাঁরা উক্ত হাদীস দ্বারা দলীল উপস্থাপন করে থাকেন। পক্ষান্তরে এই বিষয়ে অপরাপর আলিমগণ তাঁদের বিরোধিতা করে বলেছেনঃ আলোচ্য ব্যাপারে দীর্ঘ কিয়াম করা উত্তম। আর এ বিষয়ে তাঁদের দলীল হলো যা আমরা পূর্বে আমাদের গ্রন্থেই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে রিওয়াত করে এনেছি যে, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিলোঃ কোন ধরনের সালাত উত্তম? তিনি বলেছেনঃ দীর্ঘক্ষন কিয়াম করা। আমরা দীর্ঘক্ষণ কিয়াম সম্পর্কিত কতক হাদীস বর্ননা করেছি। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেশী রুকূ-সিজদা করা অপেক্ষা দীর্ঘ কিয়াম করাকে শ্রেষ্ঠ ঘোষনা করেছেন। আর আমরা আবু যার (রাযিঃ) বর্ণিত যে হাদীসটি উল্লেখ করেছি আমাদের নিকত তার সাথে কোন বৈপরিত্য নেই। যেহেতু হতে পারে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইরশাদঃ “যে ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে রুকু করে এবং সিজদা করে” দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, কিয়ামের পুর্বে দীর্ঘক্ষন করা হয়েছে, (এখানে দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করাকে অস্বিকার করা হয়নি) আবার এটিও হতে পারেঃ ঃযে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে রুকূ করে ও সিজদা করে, আল্লাহ্‌ তায়ালা এতে তার মর্যাদা বুলন্দ করে দেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন; যদি এর সাথে দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করা যুক্ত হয়, তাহলে এটি উত্তম হবে। আর আল্লাহ্‌ তায়ালা এর উপর তাঁকে অধিক সওয়াব প্রদান করবেন।”
বস্তুত উক্ত হাদীসের এ অর্থ নেয়াই উত্তম যে, যেন তা অপরাপর হাদীসসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, যা আমরা উল্লেখ করেছি। দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করার এই শেষ অভিমত যিনি ব্যক্ত করেছেন এবং এটি অধিক রুকূ-সিজদা অপেক্ষা উত্তম যিনি বলেছেন তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইব্‌নুল হাসান (শায়বানী র)। এটি আমাকে ইব্‌ন আবি ইমরান (রাহঃ) মুহাম্মাদ ইব্‌ন সিমাহা (রাহঃ) সূত্রে মুহাম্মাদ ইব্‌নুল হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ননা করেছেন, এবং এটি ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)- এর অভিমত।
كتاب الصلاة
بَابُ الْأَفْضَلُ فِي صَلَاةِ التَّطَوُّعِ هَلْ هُوَ طُولُ الْقِيَامِ أَوْ كَثْرَةُ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ؟
2730 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ , قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ , قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ وَحُدَيْجٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ , عَنِ الْمُخَارِقِ قَالَ: خَرَجْنَا حُجَّاجًا، فَمَرَرْنَا بِالرَّبَذَةِ، فَوَجَدْنَا أَبَا ذَرٍّ قَائِمًا يُصَلِّي، فَرَأَيْتُهُ لَا يُطِيلُ الْقِيَامَ، وَيُكْثِرُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، فَقُلْتُ لَهُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: مَا أَلَوْتُ أَنْ أُحْسِنَ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ رَكَعَ رَكْعَةً، وَسَجَدَ سَجْدَةً، رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً , وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ كَثْرَةَ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ أَفْضَلُ فِي صَلَاةِ التَّطَوُّعِ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ وَالْقِرَاءَةِ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: طُولُ الْقِيَامِ فِي ذَلِكَ أَفْضَلُ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ , مَا قَدْ رَوَيْنَاهُ فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ كِتَابِنَا هَذَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سُئِلَ أَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُولُ الْقُنُوتِ» وَفِي بَعْضِ مَا رَوَيْنَاهُ فِي ذَلِكَ «طُولُ الْقِيَامِ» . فَفَضَّلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ إِطَالَةَ الْقِيَامِ عَلَى كَثْرَةِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ. وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ الَّذِي ذَكَرْنَا , خِلَافٌ لِهَذَا عِنْدَنَا لِأَنَّهُ قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ قَوْلُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ رَكَعَ لِلَّهِ رَكْعَةً , وَسَجَدَ سَجْدَةً» عَلَى مَا قَدْ أُطِيلَ قَبْلَهُ مِنَ الْقِيَامِ. وَيَجُوزُ أَيْضًا مَنْ «رَكَعَ لِلَّهِ رَكْعَةً , وَسَجَدَ سَجْدَةً , رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً , وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً» وَإِنْ زَادَ مَعَ ذَلِكَ طُولَ الْقِيَامِ , كَانَ أَفْضَلَ , وَكَانَ مَا يُعْطِيهِ اللهُ عَلَى ذَلِكَ مِنَ الثَّوَابِ أَكْثَرَ. فَهَذَا أَوْلَى مَا حُمِلَ عَلَيْهِ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ , لِئَلَّا يُضَادَّ الْأَحَادِيثَ الْأُخَرَ الَّتِي ذَكَرْنَا. وَمِمَّنْ قَالَ بِهَذَا الْقَوْلِ الْآخَرِ , فِي إِطَالَةِ الْقِيَامِ , وَأَنَّهُ أَفْضَلُ مِنْ كَثْرَةِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ , مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ.

2731 - حَدَّثَنِي بِذَلِكَ ابْنُ عِمْرَانَ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِمَاعَةَ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান