শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২২৮১
কা‘বার অভ্যন্তরে সালাত আদায় করা।
২২৮১। আলী ইবনে যায়দ আল ফরায়েজী (রাহঃ)... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কাবায় প্রবেশ করেছেন এবং এতে রয়েছে ছয়টি খুঁটি। তিনি প্রত্যেক খুঁটির দিকে মুখ করে এভাবে দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করেননি।
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল আলেম এ মত গ্রহণ করেছেন যে, কাবার অভ্যন্তরে সালাত আদায় করা জায়েজ নেই। এ বিষয়ে তাঁরা এ সমস্ত হাদীস দ্বারা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উক্তি যা তিনি কাবার বাহির অংশে সালাত আদায় করার পর বলেছিলেন " নিশ্চয়ই এটি-ই হচ্ছে কিবলা" এর দ্বারা দলীল পেশ করে।
পক্ষান্তরে এবিষয়ে অপরাপর আলেমগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তারা বলেছেন কা'বাতে সালাত আদায় করা কোন দোষ নেই। তারা আরো বলেছেনঃ এটি-ই কিবলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ বাণীর অর্থ তা যা আমরা উল্লেখ করেছি যে, প্রত্যেকের জন্য সালাতের সময় পূর্ণ কিবলা সম্মুখে হওয়া বাঞ্ছনীয়। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী অর্থ হচ্ছে যে, এটিই কিবলা, যার দিকে মুখ করে তোমাদের ইমাম সালাত আদায় করে এবং যার সাথে তোমরা ইকতিদা করো আর কিবলার নিকট হবে তার অবস্থান। বস্তুত এতে তিনি তাদেরকে সেই জিনিসের শিক্ষা দিয়েছেন, যা আল্লাহ তা'য়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে মাকামে ইবরাহীম কে সালাতের স্থান নির্ধারণ করো।
কা'বা ঘরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় না করায় একথা প্রমাণ করে না যে, এতে সালাত আদায় জায়েজ নেই। অবশ্যই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মুতাওয়াতির হাদীস বর্ণিত আছে যে, তিনি এতে সালাত আদায় করেছেন। এ সমস্ত হাদীস থেকে উল্লেখ্য :
2281 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ الْفَرَائِضِيُّ، قَالَ: أنا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: ثنا هَمَّامٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ , وَفِيهَا سِتُّ سَوَارٍ، فَقَامَ إِلَى كُلِّ سَارِيَةٍ كَذَا وَلَمْ يُصَلِّ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الصَّلَاةُ فِي الْكَعْبَةِ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذِهِ الْآثَارِ , وَبِقَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ صَلَّى خَارِجًا مِنَ الْكَعْبَةِ إِنَّ «هَذِهِ الْقِبْلَةُ» وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا لَا بَأْسَ بِالصَّلَاةِ فِي الْكَعْبَةِ , وَقَالُوا: قَدْ يَحْتَمِلُ قَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «هَذِهِ الْقِبْلَةُ» مَا ذَكَرْنَا , وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ بِهِ , هَذِهِ الْقِبْلَةَ الَّتِي يُصَلِّي إِلَيْهَا إِمَامُكُمُ الَّذِي تَأْتَمُّونَ بِهِ , وَعِنْدَهَا يَكُونُ مَقَامَهُ فَأَرَادَ بِذَلِكَ تَعْلِيمَهُمْ مَا أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهِ مِنْ قَوْلِهِ {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} [البقرة: 125] وَلَيْسَ فِي تَرْكِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ فِيهَا دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الصَّلَاةُ فِيهَا. وَقَدْ رُوِيَتْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آثَارُ مُتَوَاتِرَةٌ أَنَّهُ صَلَّى فِيهَا
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)