শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৮৬
মুফাসসালে (সূরা আন-নাজম-৫৩, ইনশিকাক-৮৪ ও আলাক-৯৬,) সিজদা আছে কি না?
২০৮৬। আলী ইবন শায়বা (রাহঃ) ..... ইবন আবু মুলায়কা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ইবন যুবাইর (রাযিঃ) আমার উপস্থিতিতে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি সিজদা করেননি। হারিস ইবন আব্দুল্লাহ্ দাঁড়িয়ে সিজদা করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, হে আমিরুল-মুমিনীন; সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর আপনাকে সিজদা করতে কিসে বরণ করল ? উত্তরে তিনি বললেন, আমি সালাতে থাকলে সিজদা করি, আর যখন সালাতে থাকি না তখন সিজদা করি না।
অতএব এসব মনীষী তিলাওয়াতের সিজদাকে ওয়াজিব মনে করতেন না। আর এটাই হলো আমাদের নিকট যুক্তিসঙ্গত। কারণ আমরা দেখি যে, এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই যে, কোন মুসাফির যদি কোন বাহনের উপর আরোহন করে সিজ়দার আয়াত তিলাওয়াত করে তাহলে উপরোক্ত অবস্থায় ইশারার মাধ্যমে সিজদা করলেই চলবে, যমীনে নেমে তাকে সিজদা করতে হবেনা। অথচ এটা হলো নফলের বৈশিষ্ট্য, ফরযের নয়। কারণ ফরয সালাত তা কেবল যমীনে অবতরণ করেই আদায় করতে হয়। আর নফল সওয়ারীর উপরও আদায় করা যায়।
পক্ষান্তরে আবু হানীফা (রাহঃ), আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) সিজদার ব্যাপারে এর বিপরীত মত পোষণ করেন। তাঁরা বলেন, (তিলাওয়াতের) সিজদা ওয়াজিব। অতএব উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো, উবাই (রাযিঃ) থেকে তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন, তাতে মুফাসসালে (সূরা হুজুরাত থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাগুলো) তিলাওয়াতের সিজদা নেই বলে কোন দলীল নেই। কারণ হতে পারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট সিজদার হুকুম উমর (রাযিঃ), সালমান (রাযিঃ) ও ইবন যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত কারণসমূহের মধ্য হতে কোন কারণে হয়েছে। তাই তিনি উক্ত কারণে মুফাসালে সিজদা করেননি। তাছাড়াও হতে পারে মুফােসসাল ব্যতীত অন্য সূরাতে যেখানে সিজদা আছে সেখানেও তিনি তিলাওয়াতের সিজদা করেননি। তিলাওয়াতের সিজদার ব্যাপারে উবাই ইবন কা'ব (রাযিঃ)-এর মতের বিরোধিতা করেছেন একদল সাহাবী (রাযিঃ)।
2086 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: ثنا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: لَقَدْ قَرَأَ ابْنُ الزُّبَيْرِ السَّجْدَةَ , وَأَنَا شَاهِدٌ، فَلَمْ يَسْجُدْ. فَقَامَ الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ اللهِ فَسَجَدَ , ثُمَّ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ , مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ إِذْ قَرَأْتُ السَّجْدَةَ؟ فَقَالَ: «إِذَا كُنْتُ فِي صَلَاةٍ سَجَدْتُ , وَإِذَا لَمْ أَكُنْ فِي صَلَاةٍ فَإِنِّي لَا أَسْجُدُ» فَهَؤُلَاءِ الْجِلَّةُ لَمْ يَرَوْهَا وَاجِبَةً. وَهَذَا هُوَ النَّظَرُ عِنْدَنَا , لِأَنَّا رَأَيْنَاهُمْ لَا يَخْتَلِفُونَ أَنَّ الْمُسَافِرَ إِذَا قَرَأَهَا وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ , أَوْمَأَ بِهَا , وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ أَنْ يَسْجُدَهَا عَلَى الْأَرْضِ , فَكَانَتْ هَذِهِ صِفَةَ التَّطَوُّعِ , لَا صِفَةَ الْفَرْضِ , لِأَنَّ الْفَرْضَ لَا يُصَلَّى إِلَّا عَلَى الْأَرْضِ , وَالتَّطَوُّعُ يُصَلَّى عَلَى الرَّاحِلَةِ. وَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ يَذْهَبُونَ فِي السُّجُودِ إِلَى خِلَافِ ذَلِكَ , وَيَقُولُونَ: هِيَ وَاجِبَةٌ فَثَبَتَ بِهَا وَصْفُنَا أَنَّ مَا ذَكَرُوا عَنْ أُبَيٍّ لَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى أَنْ لَا سُجُودَ فِي الْمُفَصَّلِ , لِأَنَّهُ قَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْحُكْمُ كَانَ فِي السُّجُودِ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , عَلَى وَاحِدٍ مِنَ الْمَعَانِي الَّتِي ذَكَرْنَاهَا فِي ذَلِكَ عَنْ عُمَرَ , وَسَلْمَانَ، وَابْنِ الزُّبَيْرِ، فَتَرَكَ السُّجُودَ فِي الْمُفَصَّلِ لِذَلِكَ. وَلَعَلَّهُ أَيْضًا لَمْ يَسْجُدْ فِي تِلَاوَةِ مَا فِيهِ سُجُودٌ أَيْضًا مِنْ غَيْرِ الْمُفَصَّلِ. وَقَدْ خَالَفَ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فِيمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ , جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান