শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৪৬
নামাযের অধ্যায়
মুকতাদী দু'জন হলে ইমাম তাদেরকে কোথায় দাঁড় করাবেন?
১৮৪৬। এ বিষয়ে আহমদ ইবন দাউদ (রাহঃ) আবু মুসা আল-আশ্আরী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ দু'জনকে জামাআত সাব্যস্ত করেছেন। অতএব দু'জনের বিধান হবে দু'য়ের অধিকের বিধান; দু’অপেক্ষা কর্মের বিধান এতে প্রযোজ্য হবে না।
এ বিষয়ে কুরআন শরীফে দেখেছি আল্লাহ্ তা'আলা মা-শরীক (বৈপিত্রেয়) (একজন) ভাই অথবা (একজন) বোনের জন্য (মীরাছের ক্ষেত্রে) ষষ্ঠাংশ (১/৬) ফরয করেছেন। আর দু' বা অধিকের জন্য এক তৃতীয়াংশ (১/৩) ফরয করেছেন। বাপ-শরীক (বৈমাত্রেয়) এক বোনের জন্য নির্ধারণ করেছেন অর্ধেক। আর দু'বোনের জন্য নির্ধারণ করেছেন দু-তৃতীয়াংশ। অনুরূপভাবে তিন বোনের জন্য ও দু-তৃতীয়াংশ নির্ধারণের ব্যাপারে আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এক কন্যার জন্য অর্ধেক, দু'য়ের অধিক কন্যার জন্য দু-তৃতীয়াংশ। ইবন মাসউদসহ অধিকাংশ আলিমগণ বলেছেন, যে, দু'জনের জন্যও দু'তৃতীয়াংশ। কন্যা তার পিতার উত্তরাধিকারের ব্যাপারে বোন তার ভাই থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার অনুরূপ। তাহলে দু'কন্যাও পিতার উত্তরাধিকারের বিষয়ে দু'বোনের অনুরূপ নিজেদের ভাই থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার ব্যাপারে। অতএব আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, দু'য়ের বিধান হচ্ছে, জামাআতের বিধান। একের বিধান নয়।
(ইমামত অধ্যায়ে) যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হচ্ছে এই যে, সালাতে ইমামের সাথে দু'জন মুক্তাদীর দাঁড়ানোর অবস্থান হবে জামাআতের অবস্থান। একজন মুক্তাদীর অবস্থানের অনুরূপ নয়।
এতে জাবির (রাযিঃ) ও আনাস (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন এবং উমর (রাযিঃ) যা আমল করেছেন তা সাব্যস্ত ও প্রমাণিত হয় । আর এটি-ই হচ্ছে আবু হানীফা (রাহঃ), আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি ও অভিমত । হ্যাঁ আবু ইউসুফ (রাহঃ) এতটুকু বলেছেন যে, ইমামের ইখতিয়ার রয়েছে, যদি তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে ইবন মাসউদ (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন তা করতে পারেন, আর যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে আনাস (রাযিঃ) ও জাবির (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন তা করতে পারেন। আবু হানীফা (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি এ বিষয়ে আমাদের নিকট অধিক পসন্দনীয়।
এ বিষয়ে কুরআন শরীফে দেখেছি আল্লাহ্ তা'আলা মা-শরীক (বৈপিত্রেয়) (একজন) ভাই অথবা (একজন) বোনের জন্য (মীরাছের ক্ষেত্রে) ষষ্ঠাংশ (১/৬) ফরয করেছেন। আর দু' বা অধিকের জন্য এক তৃতীয়াংশ (১/৩) ফরয করেছেন। বাপ-শরীক (বৈমাত্রেয়) এক বোনের জন্য নির্ধারণ করেছেন অর্ধেক। আর দু'বোনের জন্য নির্ধারণ করেছেন দু-তৃতীয়াংশ। অনুরূপভাবে তিন বোনের জন্য ও দু-তৃতীয়াংশ নির্ধারণের ব্যাপারে আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এক কন্যার জন্য অর্ধেক, দু'য়ের অধিক কন্যার জন্য দু-তৃতীয়াংশ। ইবন মাসউদসহ অধিকাংশ আলিমগণ বলেছেন, যে, দু'জনের জন্যও দু'তৃতীয়াংশ। কন্যা তার পিতার উত্তরাধিকারের ব্যাপারে বোন তার ভাই থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার অনুরূপ। তাহলে দু'কন্যাও পিতার উত্তরাধিকারের বিষয়ে দু'বোনের অনুরূপ নিজেদের ভাই থেকে উত্তরাধিকার পাওয়ার ব্যাপারে। অতএব আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, দু'য়ের বিধান হচ্ছে, জামাআতের বিধান। একের বিধান নয়।
(ইমামত অধ্যায়ে) যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হচ্ছে এই যে, সালাতে ইমামের সাথে দু'জন মুক্তাদীর দাঁড়ানোর অবস্থান হবে জামাআতের অবস্থান। একজন মুক্তাদীর অবস্থানের অনুরূপ নয়।
এতে জাবির (রাযিঃ) ও আনাস (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন এবং উমর (রাযিঃ) যা আমল করেছেন তা সাব্যস্ত ও প্রমাণিত হয় । আর এটি-ই হচ্ছে আবু হানীফা (রাহঃ), আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি ও অভিমত । হ্যাঁ আবু ইউসুফ (রাহঃ) এতটুকু বলেছেন যে, ইমামের ইখতিয়ার রয়েছে, যদি তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে ইবন মাসউদ (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন তা করতে পারেন, আর যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে আনাস (রাযিঃ) ও জাবির (রাযিঃ) যা রিওয়ায়াত করেছেন তা করতে পারেন। আবু হানীফা (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর উক্তি এ বিষয়ে আমাদের নিকট অধিক পসন্দনীয়।
كتاب الصلاة
1846 - حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ , قَالَ: ثنا عُبَيْدِ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَا: ثنا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ فَجَعَلَهُمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَاعَةً , فَصَارَ حُكْمُهُمَا كَحُكْمِ مَا هُوَ أَكْثَرُ مِنْهُمَا , لَا حُكْمِ مَا هُوَ أَقَلُّ مِنْهُمَا. وَرَأَيْنَا اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ لِلْأَخِ أَوْ لِلْأُخْتِ مِنْ قِبَلِ الْأُمِّ السُّدُسَ وَفَرَضَ لِلْجَمِيعِ الثُّلُثَ وَكَذَلِكَ فَرَضَ لِلِاثْنَيْنِ وَجَعَلَ لِلْأُخْتِ مِنَ الْأَبِ النِّصْفَ وَلِلِاثْنَيْنِ الثُّلُثَيْنِ , وَكَذَلِكَ أَجْمَعُوا أَنَّهُ يَكُونُ الثُّلُثَ وَأَجْمَعُوا أَنَّ لِلِابْنَةِ النِّصْفَ وَلِلْبَنَاتِ الثُّلُثَيْنِ , قَالَ: أَكْثَرُهُمْ وَابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِيهِمْ: إِنَّ لِلِاثْنَتَيْنِ أَيْضًا الثُّلُثَيْنِ. فَكَذَلِكَ هُوَ فِي النَّظَرِ , لِأَنَّ الِابْنَةَ لَمَّا كَانَتْ فِي مِيرَاثِهَا مِنْ أَبِيهَا كَالْأُخْتِ فِي مِيرَاثِهَا مِنْ أَخِيهَا , كَانَتِ الِابْنَتَانِ أَيْضًا فِي مِيرَاثِهِمَا مِنْ أَبِيهِمَا كَالْأُخْتَيْنِ فِي مِيرَاثِهِمَا مِنْ أَخِيهِمَا. فَكَانَ حُكْمُ الِاثْنَيْنِ فِيمَا وَصَفْنَا , حُكْمَ الْجَمَاعَةِ , لَا حُكْمَ الْوَاحِدِ فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ , أَنْ يَكُونَا فِي مَقَامِهِمَا مَعَ الْإِمَامِ فِي الصَّلَاةِ مَقَامَ الْجَمَاعَةِ لَا مَقَامَ الْوَاحِدِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ مَا رَوَى جَابِرٌ وَأَنَسٌ , وَفَعَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ. وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ , رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى. غَيْرَ أَنَّ أَبَا يُوسُفَ قَالَ: الْإِمَامُ بِالْخِيَارِ , إِنْ شَاءَ فَعَلَ كَمَا رَوَى ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَإِنْ شَاءَ فَعَلَ كَمَا رَوَى أَنَسٌ وَجَابِرٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا. وَقَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ رَحِمَهُمَا اللهُ فِي هَذَا , أَحَبُّ إِلَيْنَا
বর্ণনাকারী: