শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪০০
আন্তর্জাতিক নং: ১৪০১
নামাযের অধ্যায়
রূকু ও সিজ্দায় কি বলতে হয়?
১৪০০-১৪০১। আহমদ ইবন আবী দাউদ (রাহঃ).... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন,
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাকে রুকূ বা সিজদাকালে কিরাআত করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (আর নির্দেশ দেয়া আছে :) "রুকূতে তোমরা নিজ প্রতিপালকের মাহাত্ম্য বর্ণনা কর, আর সিজদার অত্যন্ত বেশী করে দু'আতে লিপ্ত হও। এটা তোমাদের জন্য কবুল হওয়ার বেশী উপযোগী"।
আহমদ ইবনুল হাসান কূফী (রাহঃ)... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ( দরজা থেকে) পর্দা উঠিয়ে দেখলেন, লোকেরা আবু বাকর (রাযিঃ)- এর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে রয়েছে। তারপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাকে রুকূ বা সিজদাকালে কিরাআত করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (আর নির্দেশ দেয়া আছে :) "রুকূতে তোমরা নিজ প্রতিপালকের মাহাত্ম্য বর্ণনা কর, আর সিজদার অত্যন্ত বেশী করে দু'আতে লিপ্ত হও। এটা তোমাদের জন্য কবুল হওয়ার বেশী উপযোগী"।
আহমদ ইবনুল হাসান কূফী (রাহঃ)... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ( দরজা থেকে) পর্দা উঠিয়ে দেখলেন, লোকেরা আবু বাকর (রাযিঃ)- এর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে রয়েছে। তারপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب الصلاة
1400 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا عُبَيْدِ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، قَالَ: أنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ وَأَنَا رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ. فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ , وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهَدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ»
1401 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سُحَيْمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: «كَشَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السِّتَارَةَ , وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ» , ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ
1401 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سُحَيْمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: «كَشَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السِّتَارَةَ , وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ» , ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন পাঠ করা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন, তবে কুরআন পঠিত হবে কিয়াম অবস্থায়। আল্লাহর কালাম দাঁড়ানো অবস্থায়-ই পাঠ করা উপযোগী। কারণ শাহী ফরমান দাঁড়ানো অবস্থায়ই পাঠ করা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রুকু ও সিজদায় আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা, নিজ দাসত্ব প্রকাশ এবং তাঁর মহান দরবারে দু'আ ক্ষমা চাওয়ার উপযুক্ত স্থান। রাসূলুল্লাহ ﷺ আজীবন এ আমলই করে গেছেন এবং নিজ বাণীও প্রদান করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করতেন এবং এ বিষয়ে যে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজেও আমল করে দেখিয়েছেন তা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদীসে তিনি সিজদায় দু'আ করার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এ দু'টি বিষয়ের কোন বৈপরীত্য নেই। দু'আ ও প্রার্থনা করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, বান্দা নিজ প্রভুর কাছে পরিষ্কার করে তার প্রয়োজনের কথা জানাবে। তবে এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যাঁর কাছে কিছু চাওয়া হবে তাঁর কাছে পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় ভাব প্রদর্শন করে তাঁর গুণকীর্তন করতে হবে। দুনিয়াতেও আমরা এহেন বহু যাচ্ঞাকারীকে এরূপ প্রার্থনা করতে দেখি। মোটকথা এও হচ্ছে দু'আ করার অন্যতম পদ্ধতি। এর ভিত্তিতেই হাদীসে আল্-হামদুল্লিল্লাহ কে সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ বলা হয়েছে। (তিরমিযী) এই সূত্র বলা যায় যে, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা'ও একপ্রকার দু'আ। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় বারংবার এই তাসবীহ্ পাঠ করে, তবে তাও দু'আ রূপে গণ্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিজদার যেসব দু'আ হয়েছে, সেগুলোর মর্যাদাই আলাদা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করতেন এবং এ বিষয়ে যে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজেও আমল করে দেখিয়েছেন তা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদীসে তিনি সিজদায় দু'আ করার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এ দু'টি বিষয়ের কোন বৈপরীত্য নেই। দু'আ ও প্রার্থনা করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, বান্দা নিজ প্রভুর কাছে পরিষ্কার করে তার প্রয়োজনের কথা জানাবে। তবে এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যাঁর কাছে কিছু চাওয়া হবে তাঁর কাছে পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় ভাব প্রদর্শন করে তাঁর গুণকীর্তন করতে হবে। দুনিয়াতেও আমরা এহেন বহু যাচ্ঞাকারীকে এরূপ প্রার্থনা করতে দেখি। মোটকথা এও হচ্ছে দু'আ করার অন্যতম পদ্ধতি। এর ভিত্তিতেই হাদীসে আল্-হামদুল্লিল্লাহ কে সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ বলা হয়েছে। (তিরমিযী) এই সূত্র বলা যায় যে, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা'ও একপ্রকার দু'আ। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় বারংবার এই তাসবীহ্ পাঠ করে, তবে তাও দু'আ রূপে গণ্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিজদার যেসব দু'আ হয়েছে, সেগুলোর মর্যাদাই আলাদা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)