শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১০৮৯
ফজরের সালাত কখন আদায় করা (মুস্তাহাব)
১০৮৯। ইব্ন আবী দাউদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ্ ইবন হারিস ইব্ন জায আযযুবায়দী (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমাদেরকে নিয়ে আবু বাকর (রাযিঃ) ফজরের সালাত আদায় করলেন। তিনি দুই পূর্ণ রাক'আতে সূরা বাকারা পাঠ করেন। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন, উমার (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, সূর্য উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে। তিনি বললেন, যদি উঠে যেত তাহলে তোমরা আমাকে গাফিল পেতে না।
ইমাম আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন, এই আবু বাকর (রাযিঃ) ফর্সা করা ব্যতীত আঁধারে সালাত আরম্ভ করেছেন। তারপর তাতে কিরাআতকে দীর্ঘ করেছেন, যাতে করে সূর্য উদিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছিল । এটা সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগের নিকটবর্তী সময়ে হয়েছে। কিন্তু তাদের থেকে কেউ-ই তার আমলের ব্যাপারে প্রতিবাদ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন। তাঁর পরে উমার (রাযিঃ) ও অনুরূপ করেছেন। উপস্থিতদের থেকে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি। এতে প্রমাণিত হল যে, ফজরের সালাতে এরূপ-ই করা হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আমল থেকে তাঁরা যা কিছু অবহিত হয়েছেন তা এর পরিপন্থী নয়।
যদি কোন প্রশ্নকারী বলে যে, ইবন উমার (রাযিঃ)-এর এই উক্তির মর্ম কি? যখন তিনি আঁধারে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি মুগীস ইন সুমাই (রাহঃ)-কে বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বাকর (রাযিঃ) ও উমার (রাযিঃ)-এর সঙ্গে আমাদের সালাত এরূপ-ই হত। যখন উমার (রাযিঃ) শহীদ হয়ে গেলেন, তখন উসমান (রাযিঃ) তা ফর্সা করে আদায় করেন।
উত্তরে তাকে বলা হবে যে, হতে পারে এর দ্বারা তিনি সালাত আরম্ভ করা বুঝিয়েছেন, শেষ করার ওয়াক্ত উদ্দেশ্য নয়। ফলে এটা প্রথমোক্ত রিওয়ায়াত সমূহের মুতাবিক হয়ে যায়। আর তার উক্তি "উসমান (রাহঃ) ফর্সা করে আদায় করেছেন" এর মর্ম হবে: তারা সেই ওয়াক্ত সালাত শেষ করেছেন, যা নিরাপদ এবং যাতে তারা অতর্কিত আক্রমণের কোনোও আশঙ্কা করেন না। যেমনি ভাবে উমার (রাহঃ)-এর ব্যাপারে করা হয়েছিল।
এ সম্পর্কে উসমান (রাযিঃ) থেকেও এরূপ রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে, যাতে বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি তাতে দীর্ঘ কিরাআতের জন্য আঁধারে সালাত আরম্ভ করতেন :
ইমাম আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন, এই আবু বাকর (রাযিঃ) ফর্সা করা ব্যতীত আঁধারে সালাত আরম্ভ করেছেন। তারপর তাতে কিরাআতকে দীর্ঘ করেছেন, যাতে করে সূর্য উদিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছিল । এটা সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগের নিকটবর্তী সময়ে হয়েছে। কিন্তু তাদের থেকে কেউ-ই তার আমলের ব্যাপারে প্রতিবাদ করেননি। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন। তাঁর পরে উমার (রাযিঃ) ও অনুরূপ করেছেন। উপস্থিতদের থেকে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি। এতে প্রমাণিত হল যে, ফজরের সালাতে এরূপ-ই করা হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আমল থেকে তাঁরা যা কিছু অবহিত হয়েছেন তা এর পরিপন্থী নয়।
যদি কোন প্রশ্নকারী বলে যে, ইবন উমার (রাযিঃ)-এর এই উক্তির মর্ম কি? যখন তিনি আঁধারে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি মুগীস ইন সুমাই (রাহঃ)-কে বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বাকর (রাযিঃ) ও উমার (রাযিঃ)-এর সঙ্গে আমাদের সালাত এরূপ-ই হত। যখন উমার (রাযিঃ) শহীদ হয়ে গেলেন, তখন উসমান (রাযিঃ) তা ফর্সা করে আদায় করেন।
উত্তরে তাকে বলা হবে যে, হতে পারে এর দ্বারা তিনি সালাত আরম্ভ করা বুঝিয়েছেন, শেষ করার ওয়াক্ত উদ্দেশ্য নয়। ফলে এটা প্রথমোক্ত রিওয়ায়াত সমূহের মুতাবিক হয়ে যায়। আর তার উক্তি "উসমান (রাহঃ) ফর্সা করে আদায় করেছেন" এর মর্ম হবে: তারা সেই ওয়াক্ত সালাত শেষ করেছেন, যা নিরাপদ এবং যাতে তারা অতর্কিত আক্রমণের কোনোও আশঙ্কা করেন না। যেমনি ভাবে উমার (রাহঃ)-এর ব্যাপারে করা হয়েছিল।
এ সম্পর্কে উসমান (রাযিঃ) থেকেও এরূপ রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে, যাতে বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি তাতে দীর্ঘ কিরাআতের জন্য আঁধারে সালাত আরম্ভ করতেন :
1089 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: أنا ابْنُ لَهِيعَةَ قَالَ: ثنا عُبَيْدِ اللهِ بْنُ الْمُغِيرَةِ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ , قَالَ: صَلَّى بِنَا أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ صَلَاةَ الصُّبْحِ , فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَمِيعًا , فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ «كَادَتِ الشَّمْسُ تَطْلُعُ» فَقَالَ: «لَوْ طَلَعَتْ لَمْ تَجِدْنَا غَافِلِينَ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ فَهَذَا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَدْ دَخَلَ فِيهَا فِي وَقْتِ غَيْرِ الْإِسْفَارِ , ثُمَّ مَدَّ الْقِرَاءَةَ فِيهَا , حَتَّى خِيفَ عَلَيْهِ طُلُوعُ الشَّمْسِ. وَهَذَا بِحَضْرَةِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَبِقُرْبِ عَهْدِهِمْ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَبِفِعْلِهِ , لَا يُنْكِرُ ذَلِكَ عَلَيْهِ مِنْهُمْ مُنْكِرٌ , فَذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى مُتَابَعَتِهِمْ لَهُ. ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ بَعْدِهِ , فَلَمْ يُنْكِرْهُ عَلَيْهِ مَنْ حَضَرَهُ مِنْهُمْ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ هَكَذَا يُفْعَلُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ , وَأَنَّ مَا عَلِمُوا مِنْ فِعْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَغَيْرُ مُخَالِفٍ لِذَلِكَ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ فَمَا مَعْنَى قَوْلِ ابْنِ عُمَرَ , لِمُغِيثِ بْنِ سُمَيٍّ لَمَّا غَلَّسَ بِالْفَجْرِ هَذِهِ صَلَاتُنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَمَعَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَلَمَّا قُتِلَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَسْفَرَ بِهَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. قِيلَ لَهُ قَدْ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ بِذَلِكَ وَقْتَ الدُّخُولِ فِيهَا , لَا وَقْتَ الْخُرُوجِ مِنْهَا , حَتَّى يَتَّفِقَ ذَلِكَ وَمَا رَوَيْنَا قَبْلَهُ , وَيَكُونُ قَوْلُهُ «ثُمَّ أَسْفَرَ بِهَا عُثْمَانُ» أَيْ لِيَكُونَ خُرُوجُهُمْ فِي وَقْتٍ يَأْمَنُونَ فِيهِ وَلَا يَخَافُونَ فِيهِ أَنْ يُغْتَالُوا كَمَا اغْتِيلَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَيْضًا مَا يَدُلُّ أَنَّهُ كَانَ يَدْخُلُ فِيهَا بِسَوَادٍ لِإِطَالَتِهِ الْقِرَاءَةَ فِيهَا
