শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭১৬
জুমআর দিন গোসল করা।
৭১৬। ফাহাদ (রাহঃ).....ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার প্রথম হিজরতকারীদের অন্যতম ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন উমার (রাযিঃ) খুত্বা দিচ্ছিলেন। উমার (রাযিঃ) তাঁকে আওয়ায দিয়ে বললেন, এটা কোন্‌ সময়? (আগমনকারী) উত্তর দিলেন, শুধু উযূ করেছি, তারপর এসে গেছি। উমার (রাযিঃ) বললেন, শুধুমাত্র উযূ? অথচ তুমি অবহিত আছ আমাদেরকে গোসলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণ

ইমাম আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন, (প্রথমোক্ত রিওয়ায়াত সমূহের পরিপন্থী) এ সমস্ত রিওয়াতে একাধিক বিষয় রয়েছে, যা গোসল ওয়াজিব হওয়াকে নাকচ করে দেয়। তার একটি হল যে, উসমান (রাযিঃ) গোসল করেননি এবং উযূকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। উমার (রাযিঃ) তাঁকে বলেছেন, আপনি অবহিত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে গোসলের নির্দেশ দিতেন। কিন্তু উমার (রাযিঃ) তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খানা কর্তৃক গোসলের নির্দেশের ভিত্তিতে ফিরে যাওয়ার আদেশ দেননি। এটা প্রমাণ বহন করে যে, যে গোসলের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তা তাঁদের মতে ওয়াজিব ছিল না। বরং তা ছিল সেই কারণে, যা ইবন আব্বাস (রাযিঃ) ও আয়েশা (রাযিঃ) উল্লেখ করেছেন, অথবা অন্য কোন কারণে ছিল। যদি তা না হত তাহলে উসমান (রাযিঃ) গোসল করা পরিত্যাগ করতেন না এবং না উমার (রাযিঃ) তাঁকে গোসলের জন্য প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ না দিয়ে নীরব থাকতেন, আর ওটা সাহাবাদের উপস্থিততে সংঘটিত হয়েছে, যারা বিষয়টি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছেন, যেমনিভাবে উমার (রাযিঃ) তা শুনেছেন এবং সাহাবাগণ এর সেই মর্মই বুঝেছেন যা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। সুতরাং তাঁরা না তাঁর কথা থেকে কিছু অস্বীকার করেছেন না এর পরিপন্থী নির্দেশ দিয়েছেন। এতে তাদের (সাহাবাদের) পক্ষ থেকে গোসল ওয়াজিব না হওয়ার উপর ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে এরূপ রিওয়ায়াতসমূহও বর্ণিত আছে, যাতে প্রতীয়মান হয় যে, ওই গোসল পছন্দনীয় ও ফযীলত অর্জন করার নীতিতে ছিলঃ
716 - وَحَدَّثَنَا فَهْدٌ , قَالَ: ثنا أَبُو غَسَّانَ , قَالَ: ثنا جُوَيْرِيَةُ , عَنْ نَافِعٍ , عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْمُهَاجِرِينَ الْأَوَّلِينَ , دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَعُمَرُ يَخْطُبُ , فَنَادَاهُ عُمَرُ: " أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ فَقَالَ: مَا كَانَ إِلَّا الْوُضُوءُ ثُمَّ الْإِقْبَالُ , فَقَالَ: عُمَرُ وَالْوُضُوءُ أَيْضًا؟ وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّا كُنَّا نُؤْمَرُ بِالْغُسْلِ؟ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ غَيْرُ مَعْنًى , يَنْفِي وُجُوبَ الْغُسْلِ. أَمَّا أَحَدُهُمَا: فَإِنَّ عُثْمَانَ لَمْ يَغْتَسِلْ وَاكْتَفَى بِالْوُضُوءِ. وَقَدْ قَالَ عُمَرُ: قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُنَا بِالْغُسْلِ ". وَلَمْ يَأْمُرْهُ عُمَرُ أَيْضًا بِالرُّجُوعِ ; لِأَمْرِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّاهُ بِالْغُسْلِ. فَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْغُسْلَ الَّذِي كَانَ أَمَرَ بِهِ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُمَا عَلَى الْوُجُوبِ , وَإِنَّمَا كَانَ لِعِلَّةِ مَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا وَعَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا , أَوْ لِغَيْرِ ذَلِكَ. وَلَوْلَا ذَلِكَ مَا تَرَكَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَلَمَا سَكَتَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ أَمْرِهِ إِيَّاهُ بِالرُّجُوعِ , حَتَّى يَغْتَسِلَ , وَذَلِكَ بِحَضْرَةِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِينَ قَدْ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا سَمِعَهُ عُمَرُ , وَعَلِمُوا مَعْنَاهُ الَّذِي أَرَادَهُ فَلَمْ يُنْكِرُوا مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا , وَلَمْ يَأْمُرُوا بِخِلَافِهِ. فَفِي هَذَا إِجْمَاعٌ مِنْهُمْ عَلَى نَفْيِ وُجُوبِ الْغُسْلِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ كَانَ مِنْ طَرِيقِ الِاخْتِيَارِ وَإِصَابَةِ الْفَضْلِ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৭১৬ | মুসলিম বাংলা