শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৭০৭
জুমআর দিন গোসল করা।
৭০৬-৭০৭। ফাহাদ (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবন খুযায়মা (রাযিঃ).....ইকরামা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-কে জুমু'আর দিন গোসল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, এটা কি ওয়াজিব? তিনি বললেন, না, কিন্তু এটা পবিত্রকারী ও উত্তম। সুতরাং যদি কেউ গোসল করে তবে তা উত্তম; আর যদি গোসল না করে তবে তার উপর ওয়াজিব নয়। আমি তোমাদেরকে অতি সত্ত্বর বলছি এর সূচনা কিভাবে হয়েছিল, (তখন) লোকেরা পরিশ্রম ও মেহনতের কাজ করত, পশমী কাপড় পরিধান করত এবং নিজেদের পিঠে বোঝা বহন করত। মসজিদ ছিল সংকীর্ণ, ছাদ ছিল নিকটবর্তী (নীচু), যেন তা এক প্রকার ছায়াদার শামিয়ানা। একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গরমের দিনে (গৃহ থেকে বের হয়ে মসজিদে) তাশরীফ আনলেন। আর লোকেরা ওই পশমী পোশাকে ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছিল এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। ফলে তাদের একে অপর থেকে কষ্ট পাচ্ছিল। নবী (ﷺ) উক্ত দুর্গন্ধ অনুভব করে বললেন, হে লোক সকল! যখন এদিন হবে, গোসল করে নিবে, তৈল ও সুগন্ধি যা-ই পাবে ব্যবহার করবে। ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, পরবর্তীতে আল্লাহ্ তা'আলা সচ্ছলতা এনে দিলেন, লোকেরা পশম ব্যতীত অন্য পোশাক পরিধান করতে লাগল, পরিশ্রম ও মেহনত থেকেও কিছুটা অবসর হল এবং তাদের মসজিদও প্রশস্ত হয়ে গেল।

ব্যাখ্যা
বস্তুত এই ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গোসল করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা তাদের উপর ওয়াজিব হিসাবে ছিল না, বরং তা ছিল বিশেষ কারণবশত। তারপর সেই কারণ বিদূরিত হয়ে যায় এবং গোসলের বিধানও রহিত হয়ে যায়। ইবন আব্বাস (রাযিঃ) সেই সমস্ত রাবীদের অন্যতম, যাদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি গোসলের নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রাযিঃ) থেকেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্ণিত আছে :
706 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: أنا الدَّرَاوَرْدِيُّ , ح.

707 - وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا الْقَعْنَبِيُّ , قَالَ: ثنا الدَّرَاوَرْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو , عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: " سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوَاجِبٌ هُوَ قَالَ: لَا وَلَكِنَّهُ طَهُورٌ وَخَيْرٌ , فَمَنِ اغْتَسَلَ , فَحَسَنٌ , وَمَنْ لَمْ يَغْتَسِلْ , فَلَيْسَ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ وَسَأُخْبِرُكُمْ كَيْفَ بَدَأَ , كَانَ النَّاسُ مَجْهُودِينَ يَلْبَسُونَ الصُّوفَ , وَيَعْمَلُونَ عَلَى ظُهُورِهِمْ , وَكَانَ الْمَسْجِدُ ضَيِّقًا مُقَارِبَ السَّقْفِ , إِنَّمَا هُوَ عَرِيشٌ , فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمٍ حَارٍّ , وَقَدْ عَرِقَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ الصُّوفِ , حَتَّى ثَارَتْ رِيَاحٌ , حَتَّى آذَى بَعْضُهُمْ بَعْضًا. فَوَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ الرِّيَاحَ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ , إِذَا كَانَ هَذَا الْيَوْمُ , فَاغْتَسِلُوا , وَلْيَمَسَّ أَحَدُكُمْ أَمْثَلَ مَا يَجِدُ مِنْ دُهْنِهِ وَطِيبِهِ» قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: ثُمَّ جَاءَ اللهُ بِالْخَيْرِ وَلَبِسُوا غَيْرَ الصُّوفِ , وَكُفُّوا الْعَمَلَ , وَوَسِعَ مَسْجِدَهُمْ " فَهَذَا ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , يُخْبِرُ أَنَّ ذَلِكَ الْأَمْرَ الَّذِي كَانَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغُسْلِ , لَمْ يَكُنْ لِلْوُجُوبِ عَلَيْهِمْ , وَإِنَّمَا كَانَ لِعِلَّةٍ , ثُمَّ ذَهَبَتْ تِلْكَ الْعِلَّةِ فَذَهَبَ الْغُسْلُ , وَهُوَ أَحَدُ مَنْ رَوَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فِي ذَلِكَ شَيْءٌ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৭০৬ | মুসলিম বাংলা