আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ
১৫. কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
হাদীস নং: ৪৭৩
কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট
৬. সূরা মূলক ও সূরা ইখলাস পাঠ করা প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ১৮. আল-ই-যায়দ ইবনে খাত্তাবের মাওলা ওবায়দ ইবনে হুনায়ন (রাহঃ) বলেন- আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে আগমন করিলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পড়িতে শুনিলেন। (ইহা শুনিয়) তিনি বললেনঃ وَجَبَتْ (ওয়াজিব হইয়াছে)। তখন আমি তাঁহাকে প্রশ্ন করলামঃ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ (হে আল্লাহর রসূল, কি ওয়াজিব হইয়াছে)? তিনি বলিলেনঃ জান্নাত। (রাবী) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ (তারপর) আমি ইচ্ছা করিলাম, সেই ব্যক্তির নিকট যাই এবং তাঁহাকে শুভ সংবাদ শুনাইয়া দেই। কিন্তু আমার আশঙ্কা হইল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে প্রাতঃকালীন আহার ছুটিয়া যাইবে । তাই আমি প্রাতঃকালীন আহার গ্রহণকে অগ্রাধিকার প্রদান করিলাম। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট গেলাম, কিন্তু তখন তিনি (সে স্থান হইতে) প্রস্থান করিয়াছেন।
كتاب القرآن
بَاب مَا جَاءَ فِي قِرَاءَةِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ مَوْلَى آلِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أَقْبَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ فَسَأَلْتُهُ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الْجَنَّةُ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَأَرَدْتُ أَنْ أَذْهَبَ إِلَيْهِ فَأُبَشِّرَهُ ثُمَّ فَرِقْتُ أَنْ يَفُوتَنِي الْغَدَاءُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآثَرْتُ الْغَدَاءَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ذَهَبْتُ إِلَى الرَّجُلِ فَوَجَدْتُهُ قَدْ ذَهَبَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সাহাবায়ে কিরাম, যাঁদের তা'লীম-তরবিয়ত সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাতেই হয়েছিল আর যারা প্রত্যেকটি আমলে তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের ব্যাপারে পরম লালায়িত ছিলেন, তাঁদের কুরআন তিলাওয়াত কালে, বিশেষত সে সব খাস সূরা ও আয়াতের তিলাওয়াত কালে, যেগুলোতে আল্লাহর একত্ব ও তাঁর মহৎ গুণাবলীর অত্যন্ত কার্যকর ও মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে, তখন নিশ্চয়ই দর্শক মাত্রই অনুভব করতেন যে, এটা তাঁদের অন্তরের অবস্থারই অভিব্যক্তি, তাঁদের রসনায় স্বয়ং আল্লাহর কথা বলেছেন! এ হাদীসে যে সাহাবীর 'কুলহুয়াল্লাহু' পাঠের উল্লেখ রয়েছে, তাঁর অবস্থাও নিশ্চয়ই এরূপই ছিল। হুযুর ﷺ সুস্পষ্ট ভাবে অনুভব করছিলেন যে, এ ব্যক্তি তাঁর পূর্ণ ঈমানী অবস্থা ও প্রত্যয়ী মন নিয়ে সেরূপ উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করেছে। এহেন ব্যক্তির জন্যে জান্নাত যে অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তা'আলা সে নিয়ামতের কিছু অংশ আমাদের মত অভাগাদেরকেও দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)