মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৩০- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৮০১
- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা
৫৮০১। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, আমি এক নাগাড়ে দশ বৎসর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করিয়াছি। কিন্তু তিনি কোন দিন উহু শব্দটি পর্যন্ত আমাকে বলেন নাই। এমন কি এই কাজটি কেন করিয়াছ আর ইহা কেন কর নাই ? এমন কথাও কোন দিন বলেন নাই। মোত্তাঃ
كتاب الفضائل والشمائل
بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: الْفَصْل الأول
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي: أُفٍّ وَلَا: لِمَ صَنَعْتَ؟ وَلَا: أَلَّا صَنَعْتَ؟ مُتَّفق عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবী ভাষায় 'উফ' শব্দটি কোন বিষয়ে অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশের জন্য বলা হয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, তখন হযরত আনাস রাযি.-এর বয়স আট বছর (এবং অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী দশ বছর) ছিল। তাঁর মা উম্মে সুলাইম- যিনি খুবই পুণ্যবতী ছিলেন, তিনি তার এ পুত্রকে হুযুর (ﷺ)-এর দরবারে পেশ করে দিলেন এবং যেন তাঁর খেদমতের জন্য ওয়াক্ত করে ফেললেন। তারপর তিনি হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে পূর্ণ দশ বছর থাকলেন। এ হাদীসে হযরত আনাস হুযুর (ﷺ)-এর উত্তম চরিত্র ও নম্র মেযাজের ব্যাপারে নিজের এ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন যে, দশ বছরের এ খেদমতের সময়ে কখনো এমন হয়নি যে, তিনি অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশের জন্য উফ শব্দটিও বলেছেন। তেমনিভাবে কখনো এমন হয়নি যে, কোন কাজ করার উপর তাকে শাসন করেছেন যে, এ কাজটি তুমি কেন করলে অথবা কোন কাজ না করার উপর শাসন করেছেন যে, তুমি এ কাজটি কেন করলে না। মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ)-এর অভ্যাস ও সাধারণ রীতি ছিল দয়া ও মার্জনার। হযরত আনাস রাযি.-এরই অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে-যা ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমানে' বর্ণনা করেছেন:
خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» . (مشكوة المصابيح)
অর্থাৎ, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এ সময়ের মধ্যে যদি আমার হাতে কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যেত, তখন তিনি এর জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করতেন না। পরিবারের কেউ যদি ভর্ৎসনা করত, তাহলে তিনি বলতেন, একে ছেড়ে দাও। কেননা, যে জিনিস তকদীরে ছিল সেটা হবেই।
এখানে এ কথাটিও স্মরণ রাখতে হবে যে, তাঁর এ রীতি নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারে ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বিধান ও সীমারেখার ব্যাপারে তিনি কাউকে কোন খাতির করতেন না। যেমন অন্যান্য হাদীস দ্বারা জানা যায়।
خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» . (مشكوة المصابيح)
অর্থাৎ, আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমত করেছি। এ সময়ের মধ্যে যদি আমার হাতে কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যেত, তখন তিনি এর জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করতেন না। পরিবারের কেউ যদি ভর্ৎসনা করত, তাহলে তিনি বলতেন, একে ছেড়ে দাও। কেননা, যে জিনিস তকদীরে ছিল সেটা হবেই।
এখানে এ কথাটিও স্মরণ রাখতে হবে যে, তাঁর এ রীতি নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারে ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বিধান ও সীমারেখার ব্যাপারে তিনি কাউকে কোন খাতির করতেন না। যেমন অন্যান্য হাদীস দ্বারা জানা যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)