মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৩০- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৭৪১
- নবীজী সাঃ এর মর্যাদা ও শামাঈল অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ
৫৭৪১। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের সর্দার হইব। আমিই সকলের আগে কবর হইতে উত্থিত হইব। সকলের পূর্বে আমিই সুপারিশ করিব এবং সর্বপ্রথম আমার শাফা'আত কবুল করা হইবে। —মুসলিম
كتاب الفضائل والشمائل
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য এই যে, আমার প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা একটি বিশেষ নি'আমত এটাও দান করেছেন যে, হযরত আদম (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে (যাদের মধ্যে সব নবী শামিল রয়েছেন) আমাকে সর্বাধিক উঁচু স্থান ও মর্যাদা দান করেছেন। আমাকে সবার সায়্যিদ ও নেতা বানিয়েছেন। এর সর্বজন দৃষ্টি গোচরীভূত পূর্ণ প্রকাশ কিয়ামতের দিন হবে। আর সে দিনই আল্লাহ্ তা'আলার সেই বিশেষ নি'আমতও প্রকাশ পাবে, যখন মৃতদের কবর থেকে উঠার সময় নিকটে হবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে সর্ব প্রথম আমার কবর উপর থেকে ফাঁক হবে। আমিই সর্ব প্রথম কবর থেকে বের হয়ে আসব। এর পর যখন শাফা'আতের দরজা খোলার সময় হবে, আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতিক্রমে সর্ব প্রথম আমিই সুপারিশকারী হব। আর সর্ব প্রথম আমিই সেই ব্যক্তি হব, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে যার সুপারিশ কবুল করা হবে। আল্লাহ্ তা'আলার এ জাতীয় নি'আমতসমূহ আল্লাহ্ তা'আলারই নির্দেশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য প্রকাশ করেছেন যে, উম্মত তাঁর উঁচু মর্যাদা সম্বন্ধে অবগত হবে। আর উম্মতের হৃদয়ে তাঁর সেই মর্যাদা ও ভালবাসা সৃষ্টি হবে যা হওয়া উচিত। এরপর হৃদয়ে তাঁকে অনুসরণের আবেগ ও আকাঙ্খা উৎসারিত হবে। বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলার এই বিরাট নি'আমতের শোর আদায়ের তাওফীক লাভ হবে যে, তিনি এমন মহান মর্যাদাবান নবীর উম্মত বানিয়েছেন। মোটকথা, তাঁর এ জাতীয় বাণীসমূহ নি'আমতের উল্লেখ ও নি'আমতের শোর ছাড়াও তাতে উম্মতের হিদায়াত ও দীক্ষা গ্রহণের শিক্ষাও রয়েছে। এখানে এ কথাও উল্লেখযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, অমুক নবীর ওপর আমাকে মর্যাদা দেওয়া হবে না।

তাঁর এ জাতীয় বাণীসমূহের উদ্দেশ্য (যা ভাষ্যকারগণ লিখেছেন আর স্বয়ং এ সব হাদীসের বাচনভঙ্গি থেকে যা জানা যায় তা) এই যে, আল্লাহ্ তা'আলার কোন নবীর সাথেই কাউকে মুকাবিলা ও তুলনা করে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না। এতে তাঁর মর্যাদাহানী ও তাঁর প্রতি বেআদবীর আশংকা রয়েছে। নচেৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাব কুরআন মজীদে বলেছেন- تِلۡکَ الرُّسُلُ فَضَّلۡنَا بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡض (এ সব রাসূল তাদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি) আর কুরআন মজীদে বিভিন্ন আয়াত রয়েছে যেগুলো দ্বারা সব নবী ও রাসূল থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। যেমন وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ এবং وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ الآية ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান