মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৮- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৫১০
- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।
৫৫১০। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের একমাস পূর্বে বলেনঃ তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছ কিয়ামত কখন হইবে? অথচ উহা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। আমি আল্লাহর কসম করিয়া বলিতেছি। বর্তমানে (তথা আজিকার দিনে) এই ভূপৃষ্ঠে যে ব্যক্তিই বাঁচিয়া আছে, একশত বৎসর অতিক্রম হওয়া পর্যন্ত তাহাদের কেহই জীবিত থাকিবে না। -মুসলিম
كتاب الفتن
وَعَن جَابر قا ل: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِشَهْرٍ: «تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ؟ وَإِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَأُقْسِمُ بِاللَّهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ يَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ وَهِيَ حَيَّةٌ يَوْمَئِذٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. এই কথাটির তাৎপর্য হইল, আজ হইতে একশত বৎসরের মধ্যে সাহাবীদের কেহই বাঁচিয়া থাকিবেন না। ইতিহাস হইতে প্রমাণিত হইয়াছে যে, হুযুরের এই উক্তির পর হইতে সাহাবীগণ উক্ত মুদ্দতের মধ্যেই ইন্তেকাল করিয়াছেন।

২. কুরআন এবং হাদীস শরীফ থেকে অবগত হওয়া যায় যে, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে অনেক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করত। তিনি সকল প্রশ্নকারীকে যে জবাব দিতেন তা আলোচ্য হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে কিয়ামতের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই রয়েছে। অর্থাৎ একমাত্র তিনি জানেন কোন সালের কোন মাসের কোন তারিখ তা সংঘঠিত হবে। এ জ্ঞান তিনি অন্য কাউকেও দেননি। এ প্রশ্নের জবাব ছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও একটা বিষয় বর্ণনা করেছেন যে, তখন যত লোক দুনিয়াতে ছিল একশত বছরের মধ্যে তাদের সকলের মৃত্যু হবে। তিনি একথা বলতে চেয়েছেন যে, কিয়ামতের জ্ঞান তাঁর নেই কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাঁকে একথা অবহিত করেছেন যে, মানুষের এ নসল এবং যুগ একশত বছরের মধ্যে অবসান হবে। এবং তখন যারা জীবিত তারা একশত বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করবে। অর্থাৎ তাঁদের কিয়ামত একশত বছরের মধ্যেই শুরু হবে।

বিঃ দ্রঃ কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে সে জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। কিয়ামত দূরবর্তী না সন্নিকটবর্তী এ নিয়ে মাথা ঘামান উচিত নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির একথা চিন্তা করা উচিত যে, সে কিয়ামতের জন্য কি পাথেয় সঞ্চয় করেছে। কারণ জীবন-মৃত্যুর সীমান্ত অতিক্রম করার সাথে সাথে মানুষ কিয়ামতের প্রথম মনযিলে পদার্পণ করে। বারযাখের জীবন কিয়ামতের আখেরী মনযিলের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান