মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৮- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৫০৬
- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ
৫৫০৬। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লা বলিয়াছেনঃ নিশ্চয়ই ইবনে মারইয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসকরূপে অবতরণ করিবেন। তিনি শূলি ভাঙ্গিয়া ফেলিবেন, শূকর হত্যা করিবেন, জিযিয়া প্রথা রহিত করিয়া দিবেন। লোকেরা জোয়ান জোয়ান তাজা-তাগড়া উষ্ট্রীসমূহ ছাড়িয়া দিবে, অথচ কেহই উহার প্রতি ভূক্ষেপও করিবে না। মানুষের অন্তর হইতে কার্পণ্য, হিংসা ও বিদ্বেষ সমূলে দূর হইয়া যাইবে। এবং হযরত ঈসা (আঃ) মানুষদিগকে মাল প্রদানের জন্য ডাকিবেন, কিন্তু (প্রয়োজন না থাকায়) কেহই তাহা গ্রহণ করিবে না। —মুসলিম, বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে —হুযূর (ছাঃ) বলিয়াছেন : তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হইবে ? যখন ইবনে মারইয়াম তোমাদের মাঝে অবতরণ করিবেন এবং ইমাম হইবেন তোমাদের মধ্য হইতে। (অর্থাৎ, ঈসা হইবেন শাসক, আর নামাযের ইমামতি করিবেন মাহদী।)
كتاب الفتن
وَعنهُ قا ل: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَيَنْزِلَنَّ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَادِلًا فَلَيَكْسِرَنَّ الصَّلِيبَ وَلَيَقْتُلَنَّ الْخِنْزِيرَ وَلَيَضَعَنَّ الْجِزْيَةَ وَلَيَتْرُكَنَّ الْقِلَاصَ فَلَا يسْعَى عَلَيْهَا ولتذهبن الشحناء وَالتَّحَاسُدُ وَلَيَدْعُوَنَّ إِلَى الْمَالِ فَلَا يَقْبَلُهُ أَحَدٌ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُم»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, তখন অবস্থা খুবই অস্বাভাবিক হবে। যে রূপ উপরোক্ত হাদীস ও এতদ বিষয়ক অন্যান্য হাদীস থেকে জানা যায়। হাদীসের শেষ অংশ وَأِمَامِكُمْ مِنْكُمْ এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, তখন ঈসা ইবনে মারয়াম-এর মর্যাদা এই হবে যে, (পূর্ববর্তী যুগের এক নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও) তোমাদের মধ্যে অর্থাৎ তোমরা তথা মুসলমানদের দলের এক সদস্যরূপে এক ইমাম ও শাসক হবেন। এ হাদীসেরই সহীহ্ মুসলিমের এক বর্ণনায় وَأِمَامِكُمْ مِنْكُمْ এর স্থলে فَامَّكُمْ مِنْكُمْ রয়েছে। এর এক বর্ণনাকারী ইবনে আবী যি’ব- এর ব্যাখ্যা এ শব্দাবলিতে করেছেন فَأَمَّكُمْ بِكِتَابِ رَبِّكُمْ عَزَّوَجَل وَسُنَّةِ نَبِيّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারয়াম অবতরণের পর মুসলমানদের ইমাম ও শাসক হবেন। আর সেই ইমামত ও রাষ্ট্র পরিচালনা কুরআন মজীদ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনীত শরী'আত মুতাবিক করবেন। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসে ঈসা (আ)-এর ইমামত দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল নামাযের ইমামত নয়, বরং উদ্দেশ্য সাধারণ ইমামত। অর্থাৎ উম্মতের দীনী ও পার্থিব নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক মর্যাদা। তখন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি ও খলীফা হবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)