মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩৫৪
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫৪। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, হযরত আবু বকর (রাঃ) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তো বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছেন। জবাবে তিনি বলিলেনঃ সূরায়ে হুদ, ওয়ার্কিআ, মুসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন ও ইযাশশামসু কুব্বিরাত ইত্যাদিই আমাকে বৃদ্ধ করিয়া ফেলিয়াছে। —তিরমিযী। এই প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস لَا يلج النَّار কিতাবুল জিহাদে বর্ণিত হইয়াছে।
كتاب الرقاق
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: شَيَّبَتْنِي (هود) و (المرسلات) و (عمَّ يتساءلون) و (إِذا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذُكِرَ حَدِيثُ أَبِي هريرةَ: لَا يلج النَّار «فِي» كتاب الْجِهَاد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী করীম ﷺ প্রকৃতিগতভাবে উৎকৃষ্ট স্বাস্থ্য ও শারীরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন। বার্ধক্যের প্রভাব তাঁর শরীরে ও স্বাস্থ্যের উপর বিলম্বে প্রকাশ পাওয়া খুব স্বাভাবিক ছিল। কুরআনের উপরোল্লিখিত সূরাসমূহে আখিরাত ও আখিরাতে অবিশ্বাসীদের শাস্তির বিবরণ রয়েছে। এসব সূরা নবী করীম ﷺ-এর শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এসব সূরার অধ্যয়ন তাঁর মনে প্রবল আল্লাহ-ভীতির সৃষ্টি করত। যেহেতু মানুষের মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক রয়েছে, তাই তাঁর মানসিক অবস্থা তাঁর শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই হাদীস থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর ভয় ও পরকালের চিন্তায় নবী করীম ﷺ-এর মনের অবস্থা কিরূপ ছিল। বস্তুত ভয় ও চিন্তা মানুষকে দ্রুত বৃদ্ধ করে ফেলে। পবিত্র কুরআনেও একথা বলা হয়েছে যে, "কিয়ামতের দিন শিশুদের বৃদ্ধ করে ফেলবে।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)