মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩৫০
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫০। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে (নিম্নে বর্ণিত) এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম—
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا أَتَوا وَقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ
(অর্থঃ এবং যাহারা তাহাদিগের যাহা দান করিবার তাহা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে) ইহারা কি তাহারা—যাহারা মদ্যপান করে এবং চুরি করে? তিনি বলিলেনঃ না, হে ছিদ্দীকের কন্যা ! বরং তাহারা ঐ সমস্ত লোক, যাহার রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং সদকা-খয়রাত করে। তাহারা এই আশংকায় ভীত থাকে তাহাদের এই সমস্ত কাজগুলি সম্ভবতঃ কবুল নাও হইতে পারে। ইহারা ঐ সমস্ত লোক যাহারা কল্যাণময় কাজে অগ্রগামী থাকে। —তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا أَتَوا وَقُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ
(অর্থঃ এবং যাহারা তাহাদিগের যাহা দান করিবার তাহা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে) ইহারা কি তাহারা—যাহারা মদ্যপান করে এবং চুরি করে? তিনি বলিলেনঃ না, হে ছিদ্দীকের কন্যা ! বরং তাহারা ঐ সমস্ত লোক, যাহার রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং সদকা-খয়রাত করে। তাহারা এই আশংকায় ভীত থাকে তাহাদের এই সমস্ত কাজগুলি সম্ভবতঃ কবুল নাও হইতে পারে। ইহারা ঐ সমস্ত লোক যাহারা কল্যাণময় কাজে অগ্রগামী থাকে। —তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্
كتاب الرقاق
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ: (وَالَّذِينَ يُؤْتونَ مَا آتوا وقُلوبُهم وَجِلَةٌ) أَهُمُ الَّذِينَ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ وَيَسْرِقُونَ؟ قَالَ: «لَا يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ وَلَكِنَّهُمُ الَّذِينَ يَصُومُونَ وَيُصَلُّونَ وَيَتَصَدَّقُونَ وَهُمْ يَخَافُونَ أَنْ لَا يُقْبَلَ مِنْهُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. হযরত আয়েশা (রাঃ) ধারণা করিয়াছিলেন, উক্ত আয়াত দ্বারা নাফরমান লোকেরাই হইবে। কেননা, নাফরমান গুনাহ্গার লোকেরা আল্লাহর আযাবের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হুযূর (ﷺ) বলিয়া দিলেন তাহারা নহে; বরং যাহারা নেক আমল করে তাহারা। কেননা, তাহাদের অন্তরে সর্বদা এই ভয় ও আশংকা থাকে, কি জানি আমাদের এই আমলগুলি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় কিনা।
২. আরবী ভাষায় أتى শব্দ শুধু সম্পদ বা পার্থিব জিনিস দান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একাধিক অর্থে তা ব্যবহার করা হয়। যেমন أتى الأمر ‘সে কোন কাজ করল’ أتى الجرم 'সে অপরাধ করল'। তাই আয়েশা (রা)-এর মনে সন্দেহ হয়েছিল, হয়ত يؤتون ما آتوا এর অর্থ, 'তারা যা করার তা করল' অর্থাৎ চুরি করার বা শরাব পান করার পর তাদের মনে আল্লাহর ভয় উদিত হল এবং এ কারণে তারা নেকীর কাজে অগ্রগামীদের অন্তর্গত হল। নবী ﷺ তাঁর ভুল ধারণা নিরসন করে দিয়ে বললেন। নেক কাজে দ্রুত ধাবমান এবং অগ্রগামীরা নামায, রোযা ও দান-খয়রাত করার পরও ভয় করে থাকে যে, তাদের এসব ইবাদত কবুল করা হবে না। সূরা মু'মিনুনে মু'মিন বান্দার এ গুণের উল্লেখ রয়েছে। বলা বাহুল্য, আল্লাহর খাঁটি বান্দারা আল্লাহর পথে দিনরাত মেহনত করে ও আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য নিজের প্রাণ ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়েও ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন। তাঁরা গর্ববোধ করেন না। তাই সারা জীবন ইসলামের অতুলনীয় খিদমত করার পরও মৃত্যুকালে উমর (রা) অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। তিনি আখিরাতের হিসেব-নিকাশকে ভীতির চোখে দেখতেন এবং আফসোস করে বলতেন যে, তিনি যদি পশু-পাখি হয়ে জন্ম নিতেন, তাহলে কোনরূপ হিসেব দিতে হতো না। এ ব্যাপারে ইমাম হাসান বসরী (র) অত্যন্ত সুন্দর বলেছেনঃ "মু'মিন ইবাদত করেও সন্ত্রস্ত থাকে এবং মুনাফিক অপরাধ করেও ভয়শূন্য থাকে।"
২. আরবী ভাষায় أتى শব্দ শুধু সম্পদ বা পার্থিব জিনিস দান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একাধিক অর্থে তা ব্যবহার করা হয়। যেমন أتى الأمر ‘সে কোন কাজ করল’ أتى الجرم 'সে অপরাধ করল'। তাই আয়েশা (রা)-এর মনে সন্দেহ হয়েছিল, হয়ত يؤتون ما آتوا এর অর্থ, 'তারা যা করার তা করল' অর্থাৎ চুরি করার বা শরাব পান করার পর তাদের মনে আল্লাহর ভয় উদিত হল এবং এ কারণে তারা নেকীর কাজে অগ্রগামীদের অন্তর্গত হল। নবী ﷺ তাঁর ভুল ধারণা নিরসন করে দিয়ে বললেন। নেক কাজে দ্রুত ধাবমান এবং অগ্রগামীরা নামায, রোযা ও দান-খয়রাত করার পরও ভয় করে থাকে যে, তাদের এসব ইবাদত কবুল করা হবে না। সূরা মু'মিনুনে মু'মিন বান্দার এ গুণের উল্লেখ রয়েছে। বলা বাহুল্য, আল্লাহর খাঁটি বান্দারা আল্লাহর পথে দিনরাত মেহনত করে ও আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য নিজের প্রাণ ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়েও ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন। তাঁরা গর্ববোধ করেন না। তাই সারা জীবন ইসলামের অতুলনীয় খিদমত করার পরও মৃত্যুকালে উমর (রা) অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। তিনি আখিরাতের হিসেব-নিকাশকে ভীতির চোখে দেখতেন এবং আফসোস করে বলতেন যে, তিনি যদি পশু-পাখি হয়ে জন্ম নিতেন, তাহলে কোনরূপ হিসেব দিতে হতো না। এ ব্যাপারে ইমাম হাসান বসরী (র) অত্যন্ত সুন্দর বলেছেনঃ "মু'মিন ইবাদত করেও সন্ত্রস্ত থাকে এবং মুনাফিক অপরাধ করেও ভয়শূন্য থাকে।"
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)