মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩৪৬
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৪৬। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ দোযখের ন্যায় ভয়ংকর কোন জিনিস আমি কখনও দেখি নাই, যাহা হইতে পলায়নকারী ঘুমাইয়া রহিয়াছে। আর বেহেশতের মত আনন্দদায়কও কোন জিনিস দেখি নাই, যাহা হইতে অন্বেষণকারী ঘুমাইয়া রহিয়াছে। —তিরমিযী
كتاب الرقاق
الْفَصْل الثَّانِي
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طالبها» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. এখানে ‘ঘুমাইয়া রহিয়াছে' অর্থ অসচেতন বা গাফেল রহিয়াছে। অর্থাৎ, আমার কাছে ইহা বিস্ময় ঠেকিতেছে যে, মানুষ দোযখের ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে জানার পর উহা হইতে আত্মরক্ষার চেষ্টা না করিয়া এবং বেহেশতের অফুরন্ত নেয়ামত সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর উহা অন্বেষণে ব্যাপৃত না হইয়া কিভাবে গাফেল থাকিতে পারে।
২. এটা হল মানুষের প্রকৃতি যে, যখন মানুষ কোন হিংস্র প্রাণী বা শক্তিশালী যালিম শত্রুর সম্মুখীন হয় তখন সে এমন ভাবে পালিয়ে যেতে চায় যে তার নিরাপত্তাবোধ না হওয়া পর্যন্ত সে ঘুমাতেও পারে না এবং আরামও করতে পারে না। অনুরূপভাবে মানুষ যখন তার প্রিয় এবং পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্য চেষ্টা সাধনা করে তখন সে তার আহার নিদ্রা এবং বিশ্রাম পরিহার করে প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু জাহান্নাম এবং জান্নাতের ব্যাপারে মানুষের আচরণ খুবই অদ্ভুত। জাহান্নামের চেয়ে ভয়ঙ্কর কোন বালা-মুসিবত নেই এবং যা থেকে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য মানুষের পালিয়ে যাওয়া উচিত। অথচ মানুষ এ সম্পর্কে মারাত্মকভাবে উদাসীন। অনুরূপভাবে জান্নাত এমন এক অতুলনীয় সম্পদ যা অর্জন করার জন্য মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজন অথচ এ বিষয়েও মানুষ পরিপূর্ণভাবে উদাসীন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
২. এটা হল মানুষের প্রকৃতি যে, যখন মানুষ কোন হিংস্র প্রাণী বা শক্তিশালী যালিম শত্রুর সম্মুখীন হয় তখন সে এমন ভাবে পালিয়ে যেতে চায় যে তার নিরাপত্তাবোধ না হওয়া পর্যন্ত সে ঘুমাতেও পারে না এবং আরামও করতে পারে না। অনুরূপভাবে মানুষ যখন তার প্রিয় এবং পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্য চেষ্টা সাধনা করে তখন সে তার আহার নিদ্রা এবং বিশ্রাম পরিহার করে প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু জাহান্নাম এবং জান্নাতের ব্যাপারে মানুষের আচরণ খুবই অদ্ভুত। জাহান্নামের চেয়ে ভয়ঙ্কর কোন বালা-মুসিবত নেই এবং যা থেকে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য মানুষের পালিয়ে যাওয়া উচিত। অথচ মানুষ এ সম্পর্কে মারাত্মকভাবে উদাসীন। অনুরূপভাবে জান্নাত এমন এক অতুলনীয় সম্পদ যা অর্জন করার জন্য মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজন অথচ এ বিষয়েও মানুষ পরিপূর্ণভাবে উদাসীন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)