মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২৯৪
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা
৫২৯৪। হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবু আমীরা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলিয়াছেনঃ যেই বান্দা জন্মদিন হইতে আল্লাহর আনুগত্যে ও বন্দেগীতে নতশির থাকিয়া বার্ধক্যে মৃত্যুবরণ করে, সে কিয়ামতের দিন তাহার কৃত এবাদত-বন্দেগীকে খুবই নগন্য মনে করিবে এবং এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করিবে যদি তাহাকে পুনরায় দুনিয়াতে ফেরৎ পাঠানো হয় তবে সে নেক আমল করিয়া আরও অধিক সওয়াব হাসিল করিতে সক্ষম হইত। —আহমদ
كتاب الرقاق
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَمِيرَةَ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ عَبْدًا لَوْ خَرَّ عَلَى وَجْهِهِ مِنْ يَوْمَ وُلِدَ إِلَى أَنْ يَمُوتَ هَرَمًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ لَحَقَّرَهُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَوَدَّ أَنَّهُ رُدَّ إِلَى الدُّنْيَا كَيْمَا يَزْدَادَ من الْأجر والثَّواب رَوَاهُمَا أَحْمد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অর্থাৎ, প্রত্যেক এবাদত-বন্দেগীকারী বান্দা তাহার নেক আমলের পুরস্কার ও প্রতিদানকে কিয়ামতের দিন সামান্য মনে করিয়া পুনরায় দুনিয়াতে আসার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করিবে। যদিও সে নেক আমল করিতে করিতে বৃদ্ধ হইয়া মৃত্যুবরণ করে।
২. কিয়ামতের দিন দোযখ, জান্নাত, মীযান, পুলসিরাত প্রভৃতি অদৃশ্য জিনিস জিন্ন ও ইনসানের সামনে বাস্তবরূপে দেখা দিবে। দুনিয়াতে নবী-রাসূলগণ যেসব জিনিস সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং যেসব জিনিসের ওয়াদা করেছেন, পরকালে মানুষ তার চোখের সামনে সেগুলো দেখতে পাবে। আযাবের ভয়াবহতা এবং পুরস্কারের অকল্পনীয় ও অচিন্ত্যনীয় রূপ ও মর্যাদা দেখে মানুষ তার দুনিয়ার যিন্দেগীর সকল নেককাজ নগণ্য মনে করবে। যে ব্যক্তি দিনরাত ইবাদতের মধ্যে মশগুল ছিল, সেও চিন্তা করবে প্রতিদানের তুলনায় তার ইবাদত কত অল্প, কত নগণ্য। তখন মনে হবে যদি সে আরো বেশি সময় ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখত, তাহলে আরো বেশি পুরস্কার লাভ করতে পারত। আখিরাতের অনন্ত যিন্দেগীর জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইবাদতগুযার বান্দাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। তাই জীবনের প্রত্যেক মুহূর্তেই আল্লাহর বন্দেগী এবং আনুগত্যের মধ্যে ব্যয় করা জিন্ন ও ইনসানের একান্ত কর্তব্য।
২. কিয়ামতের দিন দোযখ, জান্নাত, মীযান, পুলসিরাত প্রভৃতি অদৃশ্য জিনিস জিন্ন ও ইনসানের সামনে বাস্তবরূপে দেখা দিবে। দুনিয়াতে নবী-রাসূলগণ যেসব জিনিস সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং যেসব জিনিসের ওয়াদা করেছেন, পরকালে মানুষ তার চোখের সামনে সেগুলো দেখতে পাবে। আযাবের ভয়াবহতা এবং পুরস্কারের অকল্পনীয় ও অচিন্ত্যনীয় রূপ ও মর্যাদা দেখে মানুষ তার দুনিয়ার যিন্দেগীর সকল নেককাজ নগণ্য মনে করবে। যে ব্যক্তি দিনরাত ইবাদতের মধ্যে মশগুল ছিল, সেও চিন্তা করবে প্রতিদানের তুলনায় তার ইবাদত কত অল্প, কত নগণ্য। তখন মনে হবে যদি সে আরো বেশি সময় ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখত, তাহলে আরো বেশি পুরস্কার লাভ করতে পারত। আখিরাতের অনন্ত যিন্দেগীর জন্য অফুরন্ত নিয়ামত আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইবাদতগুযার বান্দাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। তাই জীবনের প্রত্যেক মুহূর্তেই আল্লাহর বন্দেগী এবং আনুগত্যের মধ্যে ব্যয় করা জিন্ন ও ইনসানের একান্ত কর্তব্য।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)