মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২৬৪
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন
৫২৬৪। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে অভুক্ত ও অভাবী ব্যক্তি তাহার প্রয়োজনের কথা মানুষের নিকট গোপন করে (অর্থাৎ, ছবর করে) তখন আল্লাহর যিম্মায় এই ওয়াদা রহিয়াছে যে, তিনি হালালভাবে এক বৎসরের রিযক তাহাকে পৌঁছাইবেন। —হাদীস দুইটি বায়হাকী শো'আবুল ঈমানে
كتاب الرقاق
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَاعَ أَوِ احْتَاجَ فَكَتَمَهُ النَّاسُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَرْزُقَهُ رِزْقَ سَنَةٍ مِنْ حلالٍ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বান্দাকে রিযক দান করা বা না করা আল্লাহর ইচ্ছাধীন ব্যাপার। তিনি যাকে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা, যতটুকু ইচ্ছা, দান করেন। আর তিনি যাকে যা দান করেন তাকে তার উপর সন্তুষ্ট থাকা কর্তব্য। রিযকের উপর সন্তুষ্ট বান্দাকে তিনি খুব পসন্দ করেন। কোন বান্দা রিযকের জন্য কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে অপর কোন লোকের নিকট হাত পাতলে আল্লাহ্ তা'আলা তা অত্যন্ত অপসন্দ করেন। শুধু হাত সম্প্রসারণ নয়, রিযকের স্বল্পতা বা অপর্যাপ্ততা সম্পর্কে আলোচনা কিংবা অনুযোগ করাও অন্যায়। আল্লাহ তা'আলা এরূপ আচরণও অপসন্দ করেন। বান্দা যতক্ষণ তার রিযকের রহস্য অন্যের কাছে অনাবৃত রাখে, ততক্ষণ তার রিযকের সংস্থান করার যিম্মাদারী স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গ্রহণ করেন। বান্দা একবার অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ধৈর্যধারণ করলে এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হলে আল্লাহ সন্তুষ্ট ও দয়াপরবশ হয়ে তাঁর এরূপ বান্দার এক বছরের প্রয়োজন পূরণ করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
إِنَّ مِنْ كُنُوزِ الْبِرِّ كِتمَانُ الْمُصَائِبِ
-"বিপদ গোপন রাখা এক সওয়াবের ভান্ডার।"
এই হাদীস থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, ধৈর্যধারণকারীকে আল্লাহ অত্যন্ত ভালবাসেন।
হে দয়াময় আল্লাহ! আমরা সর্বাবস্থায় যেন ধৈর্যধারণকারী হই এবং কোন অবস্থায়ই যেন অন্যের মুখাপেক্ষী না হই। আমীন সুম্মা আমীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান