মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২৪৮
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন
৫২৪৮। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমরা কোন ফাসেক বদকারের ধন-সম্পদ দেখিয়া ঈর্ষায় পতিত হইও না। কারণ, তুমি জান না মৃত্যুর পর সে কি অবস্থার সম্মুখীন হইবে। নিশ্চয় তাহার জন্য আল্লাহর নিকটে এমন সংহারকারী রহিয়াছে যাহার মৃত্যু নাই অর্থাৎ, (দোযখের) আগুন। — শরহে সুন্নাহ্
كتاب الرقاق
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَغْبِطَنَّ فَاجِرًا بِنِعْمَةٍ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا هُوَ لَاقٍ بَعْدَ مَوْتِهِ إِنَّ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ قَاتِلًا لَا يَمُوتُ» . يَعْنِي النَّارَ. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السّنة»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ফাসিক, ফাজির, কাফির ও বদআমল ব্যক্তিকে আল্লাহ যে প্রাচুর্য দান করেন তা মু'মিনের ঈর্ষার বস্তু হওয়া উচিত নয়। কারণ তারা আখিরাতের হিসসা থেকে বিলকুল বঞ্চিত। দুনিয়াতে তাদের প্রাচুর্য লাভ ও আরাম-আয়েশ অনেকটা ফাঁসির আসামীর মত। ফাঁসির আসামীকে যেমন ফাঁসি দেয়ার ক'দিন আগে ইচ্ছেমত খেতে-পরতে দেয়া হয়, তেমনি বদকার লোকদের অস্থায়ী দুনিয়াতে তাদের ইচ্ছেমত আরাম-আয়েশে জীবন যাপনের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু আখিরাতের জীবনে এমন এক আগুন আল্লাহদ্রোহীদের জন্য প্রজ্বলিত রাখা হয়েছে যা কখনো নির্বাপিত হবে না। সর্বদা আগুন জ্বলতে থাকবে এবং তারাও তাতে সর্বদা জ্বলতে থাকবে। জাহান্নামের আগুনকে কাতিল (হত্যাকারী) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই অসৎ, বদকার বা আল্লাহদ্রোহীর সম্পদের প্রতি ঈর্ষান্বিত না হয়ে বরং কিয়ামতে তাদের যে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, তার জন্য একটু চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। তাদেরকে এ কঠিন আযাব থেকে বাঁচবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। শয়তান অনেক সময় কাফিরের চাকচিক্যময় জীবনের দ্বারা মু'মিনের মনে বিভিন্ন ধরনের ওয়াসওয়াসা ও ঈর্ষার সৃষ্টি করে। মনের মধ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হলে ইস্তিগফার করা দরকার।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)