মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫১৭৯
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৫১৭৯। হযরত আবু মুসা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (যেই পরিমাণ) দুনিয়াকে ভালবাসে সে (সেই পরিমাণ) তাহার আখে রাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে, পক্ষান্তরে যে আখেরাতকে মহব্বত করে, সে সেই পরিমাণ দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে। সুতরাং যাহা অচিরেই ধ্বংস হইয়া যাইবে তাহার উপর উহাকে প্রাধান্য দাও যাহা চিরস্থায়ী থাকিবে। – আহমদ ও বায়হাকী
كتاب الرقاق
وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى» . رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. দুনিয়া ও আখেরাত পাল্লার উভয় পালির ন্যায়। সুতরাং একদিক ভারী হইলে অপরদিক হাল্কা হইবেই। অতএব বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তিই যে আখেরাতের পাল্লাকে ভারী রাখে।
২. দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন যেমন এক ও অভিন্ন নয়, ঠিক তেমনি উভয় স্থানের সুখ-শান্তি লাভের পদ্ধতিও এক নয়। দুনিয়ার সুখ-শান্তি-ঐশ্বর্য হাসিল করার জন্য যে নিজেকে নিয়োজিত করে এবং যে মনে করে দুনিয়াই তার সর্বস্ব, সে কখনো আখিরাতের জীবনের সুখ-শান্তি আহরণের জন্য কঠিন মেহনত করতে পারে না। যারা অদূরদর্শী তারা কখনো আখিরাতের ফায়দার জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ফায়দা বিসর্জন দিতে পারে না। তাই তারা যে শ্রম ও মেহনত করে, তার দ্বারা শুধু দুনিয়ার আসবাবপত্র ও ধন-দৌলত হাসিল করা যায়, তার দ্বারা আখিরাতের সামান্য পাথেয়ও অর্জন করা যায় না।
অপরদিকে আখিরাতকে যে চিরস্থায়ী মনে করে এবং তার সুখ-শান্তি লাভের জন্য কঠোর চেষ্টা করে, সে দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও ধন-দৌলত লাভ করার জন্য কি করে তার মূল্যবান সময় ব্যয় করতে পারে? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ততোধিক ক্ষণস্থায়ী জিনিসের গুরুত্ব তার কাছে মোটেই নেই। সে দুনিয়া ততটুকু হাসিল করতে চায় যতটুকু না করলে তার সংসার জীবন চালাতে সে অক্ষম হয়। তাই আখিরাত লাভকারীরা যে চেষ্টা করে, তার দ্বারা দুনিয়ার ঐশ্বর্য লাভ করা যায় না। এর অর্থ এ নয় যে, দুনিয়ার হিস্সা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। তাদের ভাগ্যে দুনিয়ার যে হিস্সা রয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে তা দান করেন।
হাদীসের শেষাংশে অস্থায়ী জিনিসকে স্থায়ী জিনিসের জন্য পরিহার করতে বলা হয়েছে। যে বুদ্ধিমান, দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের ভাবনা বেশি করে, সে আখিরাতের জীবনকে বেছে নিতে পারে। যে দুর্বল, অদুরদর্শী ও বর্তমানের চিন্তায় বেশি মশগুল থাকে, সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিনিসকে আখিরাতের স্থায়ী জিনিসের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ ধরনের অপরিণামদর্শী লোক এবং নির্বোধ শিশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। শিশুরা প্রয়োজনীয় জিনিসের চেয়ে খেলার সামগ্রীর প্রতিই বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে।
২. দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন যেমন এক ও অভিন্ন নয়, ঠিক তেমনি উভয় স্থানের সুখ-শান্তি লাভের পদ্ধতিও এক নয়। দুনিয়ার সুখ-শান্তি-ঐশ্বর্য হাসিল করার জন্য যে নিজেকে নিয়োজিত করে এবং যে মনে করে দুনিয়াই তার সর্বস্ব, সে কখনো আখিরাতের জীবনের সুখ-শান্তি আহরণের জন্য কঠিন মেহনত করতে পারে না। যারা অদূরদর্শী তারা কখনো আখিরাতের ফায়দার জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ফায়দা বিসর্জন দিতে পারে না। তাই তারা যে শ্রম ও মেহনত করে, তার দ্বারা শুধু দুনিয়ার আসবাবপত্র ও ধন-দৌলত হাসিল করা যায়, তার দ্বারা আখিরাতের সামান্য পাথেয়ও অর্জন করা যায় না।
অপরদিকে আখিরাতকে যে চিরস্থায়ী মনে করে এবং তার সুখ-শান্তি লাভের জন্য কঠোর চেষ্টা করে, সে দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও ধন-দৌলত লাভ করার জন্য কি করে তার মূল্যবান সময় ব্যয় করতে পারে? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ততোধিক ক্ষণস্থায়ী জিনিসের গুরুত্ব তার কাছে মোটেই নেই। সে দুনিয়া ততটুকু হাসিল করতে চায় যতটুকু না করলে তার সংসার জীবন চালাতে সে অক্ষম হয়। তাই আখিরাত লাভকারীরা যে চেষ্টা করে, তার দ্বারা দুনিয়ার ঐশ্বর্য লাভ করা যায় না। এর অর্থ এ নয় যে, দুনিয়ার হিস্সা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। তাদের ভাগ্যে দুনিয়ার যে হিস্সা রয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে তা দান করেন।
হাদীসের শেষাংশে অস্থায়ী জিনিসকে স্থায়ী জিনিসের জন্য পরিহার করতে বলা হয়েছে। যে বুদ্ধিমান, দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের ভাবনা বেশি করে, সে আখিরাতের জীবনকে বেছে নিতে পারে। যে দুর্বল, অদুরদর্শী ও বর্তমানের চিন্তায় বেশি মশগুল থাকে, সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিনিসকে আখিরাতের স্থায়ী জিনিসের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ ধরনের অপরিণামদর্শী লোক এবং নির্বোধ শিশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। শিশুরা প্রয়োজনীয় জিনিসের চেয়ে খেলার সামগ্রীর প্রতিই বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)