মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৯৩
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব
৫০৯৩। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলিয়াছেনঃ লজ্জা ও ঈমান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুতরাং উহার একটি হইতে বঞ্চিত রাখা হইলে অপরটি হইতেও বঞ্চিত রাখা হয়।
كتاب الآداب
وَعَنِ ابْنِ

عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْحَيَاءَ وَالْإِيمَانَ قُرَنَاءُ جَمِيعًا فإِذا رفع أَحدهمَا رفع الآخر»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হায়া বা লজ্জা ও ঈমান ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। একটি ছাড়া অপরটির কল্পনা করা যায় না। একের উন্নতি অপরটির উন্নতি এবং যে কোন একটির অবনতি অপরটির অবনতি। ঈমানের বিকাশ ও উন্নতি ছাড়া হায়ার বিকাশ ও উন্নতি করা সম্ভব নয় এবং হায়ার উন্নতি ও বিকাশ ছাড়া ঈমানের বিকাশ ও উন্নতি করা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে ঈমানের অবনতি হায়ার অবনতি এবং হায়ার অবনতি ঈমানের অবনতি। ঈমানের অভাব হায়াকে এবং হায়ার অভাব ঈমানকে বরবাদ করে।

যখন কোন ব্যক্তি, দল বা জাতি ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তারা হায়ার অমূল্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়। যখন কোন ব্যক্তি বা জাতি বেহায়াপনা করে, অশ্লীল কাজকর্মে নিজেকে লিপ্ত করে, তখন সে ব্যক্তি বা জাতি ঈমানের নূর ও দৌলত থেকে বঞ্চিত হয়। বান্দা যত বেশি হায়া করে, আল্লাহকে লজ্জা করে, তত বেশি সৎকর্ম করতে পারে। বান্দা যত বেশি দুষ্কর্ম করে, তার হায়া তত বেশি লোপ পায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান