মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৩৯
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাক্ষাৎ ত্যাগ, সম্পর্কচ্ছেদ ও দোষান্বেষণে নিষেধাজ্ঞা
৫০৩৯। হযরত যুবাইর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমাদের পূর্বেকার উম্মতসমূহের ব্যাধি তোমাদের দিকেও সংক্রমিত হইয়াছে। অর্থাৎ, হিংসা ও শত্রুতা। উহা হইল মুণ্ডনকারী। আমি ইহা বলিতেছি না যে, মাথার চুল মুণ্ডন করে; বরং ইহা দ্বীনের মূলোচ্ছেদ করিবে। —আহমদ ও তিরমিযী
كتاب الآداب
وَعَنِ الزُّبَيْرِ

قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الْأُمَمِ قَبْلَكُمُ الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ لَا أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ ولكنْ تحلق الدّين» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ঈর্ষা ও ঘৃণা খুবই মারাত্মক ব্যধি। এ দুটো মন্দ অভ্যাসের কারণে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছে। যখন কোন জাতির লোকজন পরস্পর দ্বন্দ্ব ও শত্রুতার মধ্যে লিপ্ত হয়, তখন জাতি হিসেবে দায়িত্ব ও যিম্মাদারী পালনে ব্যর্থ হয়। ঈর্ষা ও ঘৃণা শত্রুতার সৃষ্টি করে এবং শত্রুতা জাতির জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দেয়। দীনি ভাতৃত্বের বুনিয়াদ পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি ও বিশ্বাস। কিন্তু ঈর্ষা ও ঘৃণা দীনের মূল ভিত্তির উপর আঘাত হানে এবং দীনের ধ্বংস সাধন করে। তাই নবী করীম ﷺ এ মারাত্মক ব্যধির ততোধিক মারাত্মক আক্রমণ সম্পর্কে উম্মতকে সাবধান করে দিয়েছেন। বস্তুত পূর্ববর্তী উম্মতদের ন্যায় মুসলিম উম্মতও এ মারাত্মক রোগের শিকার হয়েছে এবং তার সর্বনাশা পরিণতি হিসেবে তারা দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এ ব্যধিগ্রস্ত মুসলিম উম্মতের একব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে, এক ফেরকা অপর ফেরকার বিরুদ্ধে, এক দল অপর দলের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করার জন্য যাবতীয় শক্তি ও যোগ্যতা নিয়োজিত করছে। আফসোস! যদি মুসলিম উম্মত অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সংঘাত পরিহার করে অর্ধেক শক্তিও নিজেদের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতির জন্য ব্যয় করত, তাহলে আল্লাহর দীন যাবতীয় মতবাদ ও মতাদর্শের উপর জয়লাভ করত। নিজেদেরকে সংশোধন না করলে কিয়ামতের দিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং দীনের লোকসান করার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান