মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০২১
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ তাআলার জন্য বান্দার প্রতি ভালোবাসা
৫০২১। হযরত আবু যার (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের সম্মুখে আসিয়া বলিলেনঃ তোমরা কি জান যে, আল্লাহ্ তা'আলার কাছে কোন্ কাজ সর্বাধিক প্রিয় ? জনৈক ব্যক্তি বলিয়া উঠিল, নামায ও যাকাত। আরেক জন বলিল, জিহাদ । তখন নবী (ﷺ) বলিলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় কাজ হইল একমাত্র আল্লাহর জন্য মহব্বত রাখা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করা। —আমদ ও আবু দাউদ। তবে আবু দাউদ হাদীসের কেবল শেষ অংশটি বর্ণনা করিয়াছেন।
كتاب الآداب
الْفَصْل الثَّالِث
عَنْ أَبِي
ذَرٍّ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَدْرُونَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى؟» قَالَ قَائِلٌ: الصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ. وَقَالَ قَائِلٌ: الْجِهَادُ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَرَوَى أَبُو دَاوُد الْفَصْل الْأَخير
ذَرٍّ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَدْرُونَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى؟» قَالَ قَائِلٌ: الصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ. وَقَالَ قَائِلٌ: الْجِهَادُ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَرَوَى أَبُو دَاوُد الْفَصْل الْأَخير
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর জন্য মানুষকে মহব্বত করা এবং আল্লাহর জন্য কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করা ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর। এ স্তরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হযরত আবু বকর (রা) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বদরের যুদ্ধের সময় তিনি তাকে তলোয়ারের নিচে পেলে কোনরূপ দুর্বলতা প্রদর্শন করতেন না। ঈমানের বুলন্দ স্তরে অবস্থানকারী হযরত উমর (রা) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বতের জন্য আফ্রিকাবাসী ক্রীতদাস বিলাল (রা)-কে খুব বেশি মহব্বত করতেন এবং তাঁকে সাইয়্যেদী বা আমার নেতা বলে সম্বোধন করতেন।
আমাদের বস্তুতান্ত্রিক সমাজে সামান্য স্বার্থের জন্য মানুষ তার ভাইয়ের গলায় ছুরি চালাতে দ্বিধাবোধ করে না। এক ভাষাভাষী লোক নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপর ভাষাভাষী লোককে গোলাম বানাতে একটুও সংকোচবোধ করে না। কোন বিশেষ জনপদের লোক নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য সারা দুনিয়ার মানুষের অধিকার খর্ব করে। মোটকথা স্বার্থ, লোভ-লালসা, ধন-দৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তির উন্মাদ প্রতিযোগিতায় মানুষ তার মানবীয় মূল্যবোধ হারিয়ে নিজেকে পশুর স্তরে নিয়ে গেছে। এ প্রতিযোগীতায় নারী হারিয়েছে তার সতীত্ব, দুর্বল হারিয়েছে তার বাঁচার অধিকার এবং গরীব মিসকীন হারিয়েছে তাদের মুখের গ্রাস। এ পাশবিক উন্মত্ততা দূর করার একমাত্র পথ হল মানুষের বিকেন্দ্রিক ও বিপর্যস্ত চিন্তাধারাকে এককেন্দ্রিক করা এবং তা একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পন্থায়ই করা সম্ভব। যখন মানুষ কুরআন ও হাদীসের হিদায়াত মোতাবিক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনের যাবতীয় কাজকর্ম সমাধা করবে, তখন মানুষ চিন্তা ও কর্মের বিশৃঙ্খলা ও তার মারাত্মক পরিণতি থেকে বাঁচতে পারবে।
মুমিনের যিন্দেগীর লক্ষ্য ও কর্মবিন্দু এক। আর তা হল দুনিয়া জাহানের খালিক-মালিক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর নারায ও ক্রোধ থেকে বাঁচবার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা-সাধনা করা। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য সারা দুনিয়ার মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে হলেও মু'মিন ব্যক্তি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করেন না এবং সারা দুনিয়ার মানুষের ভালবাসা ও মহব্বতের বিনিময়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গযব হাসিল করতে চান না। পবিত্র কুরআনে মু'মিনের যিন্দেগীর এ অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।”
আমাদের বস্তুতান্ত্রিক সমাজে সামান্য স্বার্থের জন্য মানুষ তার ভাইয়ের গলায় ছুরি চালাতে দ্বিধাবোধ করে না। এক ভাষাভাষী লোক নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপর ভাষাভাষী লোককে গোলাম বানাতে একটুও সংকোচবোধ করে না। কোন বিশেষ জনপদের লোক নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য সারা দুনিয়ার মানুষের অধিকার খর্ব করে। মোটকথা স্বার্থ, লোভ-লালসা, ধন-দৌলত, প্রভাব-প্রতিপত্তির উন্মাদ প্রতিযোগিতায় মানুষ তার মানবীয় মূল্যবোধ হারিয়ে নিজেকে পশুর স্তরে নিয়ে গেছে। এ প্রতিযোগীতায় নারী হারিয়েছে তার সতীত্ব, দুর্বল হারিয়েছে তার বাঁচার অধিকার এবং গরীব মিসকীন হারিয়েছে তাদের মুখের গ্রাস। এ পাশবিক উন্মত্ততা দূর করার একমাত্র পথ হল মানুষের বিকেন্দ্রিক ও বিপর্যস্ত চিন্তাধারাকে এককেন্দ্রিক করা এবং তা একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পন্থায়ই করা সম্ভব। যখন মানুষ কুরআন ও হাদীসের হিদায়াত মোতাবিক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনের যাবতীয় কাজকর্ম সমাধা করবে, তখন মানুষ চিন্তা ও কর্মের বিশৃঙ্খলা ও তার মারাত্মক পরিণতি থেকে বাঁচতে পারবে।
মুমিনের যিন্দেগীর লক্ষ্য ও কর্মবিন্দু এক। আর তা হল দুনিয়া জাহানের খালিক-মালিক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর নারায ও ক্রোধ থেকে বাঁচবার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা-সাধনা করা। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য সারা দুনিয়ার মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে হলেও মু'মিন ব্যক্তি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করেন না এবং সারা দুনিয়ার মানুষের ভালবাসা ও মহব্বতের বিনিময়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গযব হাসিল করতে চান না। পবিত্র কুরআনে মু'মিনের যিন্দেগীর এ অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।”
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)