মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা

হাদীস নং: ৪৩৪৬
- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৪৩৪৬। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সুনামের পোশাক পরিধান করিবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাহাকে অপমানের পোশাক পরাইবেন। —আহমদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ্
كتاب اللباس
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شهرةٍ منَ الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. যেই পোশাক পরিধান করিলে নিজের মনে গর্ব-অহংকার আসে, কিংবা নিজেকে পদস্থ ব্যক্তি বলিয়া মনে হয়। অথবা নিজেকে সুফী-দরবেশ বলিয়া প্রকাশ পায়, এই ধরনের পোশাককে ثوب شهرة (সুনামের পোশাক) বলা হয়।

২. হাদীসে উল্লেখিত ثوب شهرة দ্বারা ঐ পোশাক উদ্দেশ্য, যা নিজের শান-শওকত প্রদর্শনের জন্য এবং মানুষের দৃষ্টিতে বড় হওয়ার জন্য পরিধান করা হয়। একথা স্পষ্ট যে, এর মধ্যে ঐসব লোকও অন্তর্ভুক্ত, যারা মানুষের দৃষ্টিতে বিরাট আলেম অথবা বড় বুযুর্গে পরিণত হওয়ার জন্য এ ধরনের বিশেষ বুযুর্গীর পোশাক পরিধান করে কিংবা নিজের ফকীরী ও দরবেশী প্রদর্শনের জন্য এমন কাপড় পরে, যদ্দ্বারা মানুষ তাদেরকে কামেল ফকীর ও দরবেশ মনে করে। একথাও সুস্পষ্ট যে, এর সম্পর্ক মানুষের অন্তর ও নিয়্যতের সাথে। একই পোশাক যদি মানুষকে দেখানোর জন্য এবং নিজের বড়ত্ব প্রকাশের জন্য পরিধান করা হয়, তাহলে গুনাহ এবং এ হাদীসের প্রয়োগস্থল হবে। আর ঐ পোশাকই যদি ঐ নিয়্যত ছাড়া পরিধান করা হয়, তাহলে জায়েয এবং কোন কোন অবস্থায় সওয়াবের কারণ হবে। আর যেহেতু আমাদের কারো নিয়্যত ও অন্তরের অবস্থা জানা নাই, এজন্য আমাদের জন্য এটা জায়েয হবে না যে, কারো পোশাককে প্রদর্শনী ও লোকদেখানোর পোশাক বলে এর উপর আপত্তি তুলব। হ্যাঁ, নিজের অন্তর, নিজের নিয়্যত ও নিজের পোশাকের হিসাব নিতে থাকব। এটাই এ হাদীসের শিক্ষা।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান