আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫০- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ

হাদীস নং: ৩৮৯০
আন্তর্জাতিক নং: ৪২০৫
- নবীজীর সাঃ যুদ্ধাভিযানসমূহ
২২০২. খায়বারের যুদ্ধ
৩৮৯০। মুসা ইবনে ঈসমাঈল (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বার যুদ্ধের জন্য বের হলেন কিংবা রাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বার অভিমুখে যাত্রা করলেন, তখন সাথী লোকজন একটি উপত্যকায় পৌঁছে এই বলে উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করলে- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু! (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। কারণ তোমরা এমন কোন সত্তাকে ডাকছ না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। বরং তোমরা তো ডাকছ সেই সত্তাকে যিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে অবস্থানকারী, যিনি তোমাদের সাথেই আছেন।
[আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) বলেন] আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সওয়ারীর পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে লা’ হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’ বলতে শুনে বললেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়েস! আমি বললাম, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি কথা শিখিয়ে দেব কি যা জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার? আমি বললাম, হ্যাঁ! ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কথাটি হল ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
كتاب المغازى
باب غَزْوَةُ خَيْبَرَ
4205 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا غَزَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ، أَوْ قَالَ: لَمَّا تَوَجَّهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَشْرَفَ النَّاسُ عَلَى وَادٍ، فَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّكْبِيرِ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، إِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا، إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا وَهُوَ مَعَكُمْ» ، وَأَنَا خَلْفَ دَابَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمِعَنِي وَأَنَا أَقُولُ: لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، فَقَالَ لِي: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ» . قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ» قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، قَالَ: «لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ কালিমার জান্নাতের সম্পদভাণ্ডারের সম্পদস্বরূপ হওয়ার মর্ম এ হতে পারে যে, যে ব্যক্তি খালিস অন্তরে এ কালিমা পাঠ করবে, তার জন্যে এ কালিমার বিনিময়ে জান্নাতে অনন্ত ভাণ্ডার সঞ্চিত রাখা হবে, যদ্বারা সে পরকালে ঠিক তেমনিভাবে উপকৃত হতে পারবে, যেমনটি এ পৃথিবীতে মানুষ তার সম্পদ ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।

এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।

লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)