মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১৯- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৭৬৪
- রাষ্ট্রনীতি ও আদালত-বিচার অধ্যায়
৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিচারকার্য এবং সাক্ষ্যদান
৩৭৬৪। হযরত আলকামা ইবনে ওয়ায়েল তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেন, একদা হাযরামাউত গোত্রের এক লোক এবং কিন্দা গোত্রীয় এক লোক (তাহারা উভয়ে এক বিবাদ লইয়া) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইল। অতঃপর হাযরামী গোত্রের লোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। এই ব্যক্তি আমার কিছু যমীন জোরপূর্বক দখল করিয়া রাখিয়াছে। তখন কিন্দী (গোত্রীয়) লোকটি প্রতিবাদ করিয়া বলিল, উক্ত যমীনখানি আমার এবং বর্তমানে উহা আমারই দখলে, ঐ লোকটির তাহাতে কোন অধিকারই নাই। তাহাদের আর্জির পর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযরামীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার দাবীর পিছনে তোমার কোন প্রমাণ আছে কি? সে বলিল, না। তাহা হইলে বিবাদীর (প্রতিপক্ষের) কসমই তোমার প্রাপ্য। এইবার হাযরামী বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। সে অসৎ লোক, কিসের উপর শপথ করিতেছে সে ইহার পরোয়া করে না। এমন কি সে কোন অবৈধ কাজ হইতে পরহেয করে না। তাহার কথার প্রতিবাদে হুযূর (ছাঃ) বলিলেন: সে যাহা কিছুই হউক না কেন তোমার জন্য ইহা ব্যতীত কোন গত্যন্তর নাই। অতঃপর সেই কিন্দী লোকটি কসম করিতে উদ্যত হইল। এই সময় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন: যদি এই লোকটি অন্যায়ভাবে অপরের মাল-সম্পদ খাওয়ার জন্য কসম করে, তাহা হইলে সে আল্লাহর সাথে (কিয়ামতের দিন) এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে যে, তিনি এই লোকটির প্রতি ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট থাকিবেন। মুসলিম
كتاب الإمارة والقضاء
وَعَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ لِي فَقَالَ الْكِنْدِيُّ: هِيَ أَرْضِي وَفِي يَدِي لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحَضْرَمِيِّ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ: لَا قَالَ: «فَلَكَ يَمِينُهُ» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ فَاجِرٌ لَا يُبَالِي عَلَى مَا حَلَفَ عَلَيْهِ وَلَيْسَ يَتَوَرَّعُ منْ شيءٍ قَالَ: «ليسَ لكَ مِنْهُ إِلَّا ذَلِكَ» . فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَدْبَرَ: «لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالِهِ لِيَأْكُلَهُ ظُلْمًا لَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ وَهُوَ عَنهُ معرض» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নিঃসন্দেহে কোন বান্দার জন্য এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্ভাগ্য যে, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তা'আলা আখিরাতে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এটা তার জন্য অভিশপ্ত ও ক্ষমার অযোগ্য হওয়ার লক্ষণ হবে। এর পূর্বে আশ'আস ইব্ন কায়সের হাদীসে এরূপ লোকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন-
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)