মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৯৪
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করা
২৮৯৪। হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, নবী করীম (ﷺ)-এর আমলে এক সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাইল। লোকগণ অনুরোধ করিল—ইয়া রাসূলাল্লাহ্! দ্রব্যমূল্য নির্ধারিত করিয়া দিন। নবী করীম (ﷺ) বলিলেনঃ মূল্যের গতি আল্লাহ্ তাআলার তরফ হইতেই নির্ধারিত হইয়া থাকে। সঙ্কীর্ণতা ও প্রশস্ততা আনয়নকারী একমাত্র তিনিই এবং তিনিই রিযিকদাতা। সদা আমার এই চেষ্টাই থাকিবে, আমি যেন আল্লাহ্র দরবারে এই অবস্থায় উপস্থিত হই যে, আমার উপর তোমাদের কাহারও প্রতি কোন যুলুম-অন্যায়ের দাবী না থাকে—জানের বা মালের। —তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ্ ও দারেমী
كتاب البيوع
وَعَن أنس قَالَ: غَلَا السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ لَنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أحد مِنْكُم يطلبنني بمظلة بِدَمٍ وَلَا مَالٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. জনসাধারণের জীবন যাপন অত্যন্ত কঠিন হইয়া যাওয়ার জরুরী অবস্থা উদ্ভব হইলে সরকার দ্রব্যমূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারেন। প্রকৃত জরুরী অবস্থা ব্যতিরেকে তাহা করা হইলে যুলুম ও অন্যায়ে পরিগণিত হইবে এবং আখেরাতে উহার জন্য দায়ী হইতে হইবে। নবী করীম (ﷺ) সেই বোঝা এড়াইবার কথাই উল্লেখ করিয়াছেন।
২. আলোচ্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন কোন সাহাবীর পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতির অভিযোগ ও মূল্যের ওপর কন্ট্রোল এর আবেদন করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য তা সংগত মনে করেন নি। এবং তিনি আশংকা প্রকাশ করেন যে, এরূপ নির্দেশের ফলে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি আর কারো অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়।
এখানে একথা প্রণিধানযোগ্য যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির অভাবে ও ঊর্ধ্ব মূল্য কখনো আকাল ও প্রাকৃতিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে হয়ে থাকে, আর কখনো ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়িয়ে দেয়। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর ﷺ-এর যে জবাব রয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের হাত ছিল না। এজন্য তিনি কন্ট্রোল চালু করা সংগত মনে করেননি। আর তাঁর আশংকা হয়েছিল যে, ব্যবসায়ীদের প্রতি বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়। এ থেকে এটাও বুঝা যেতে পারে যে, যদি শাসক নিশ্চিতভাবে অনুভব করেন যে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি হচ্ছে। বুঝানো ও উপদেশ সত্ত্বেও ব্যবসায়ীগণ সংশোধন হচ্ছে না, তবে তিনি মূল্য নির্ধারণ করে কন্ট্রোল প্রথা চালু করতে পারেন।
শাহ্ ওয়ালী উল্লাহর (র) মতে ব্যবসায়ীগণকে অন্যায় মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেওয়া তো জগতে ফাসাদ ও আল্লাহর সৃষ্ট জীবের উপর ধ্বংস ডেকে আনার নামান্তর। তবে সর্বাবস্থায় হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের দাবি এটাই যে, যথাসম্ভব তা থেকে বিরত থাকবে। এ পদক্ষেপ তখনি গৃহীত হবে, যখন ব্যবসায়ীগণের পক্ষ থেকে মুনাফা অর্জনের প্রবণতাধীনে জনসাধারণের সাথে প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি চলে এবং কন্ট্রোলের কর্মপন্থা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
ইমাম মালিক (র) মুআত্তায় হযরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়াব তাবিঈর বর্ণনায় লিপিবদ্ধ করেছেন যে, হযরত উমর (রা) মদীনার বাজারে সাহাবী হাতিব ইবনে 'আবী বালতা (রা)-কে দেখেন যে, তিনি শুষ্ক আংগুর (মুনাক্কা) এমন দরে বিক্রি করেছেন, যা হযরত উমর (রা)-এর নিকট অধিক অসংগত মনে হল। তিনি তাঁকে বললেনঃ
إِمَّا أَنْ تَزِيدَ فِي السّعْرِ - وَإِمَّا أَنْ تَرْفَعَ مِنْ سُوْقِنَا
হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি কর (অর্থাৎ মূল্য সংগত সীমা পর্যন্ত হ্রাস কর)। অথবা নিজের মাল আমাদের বাজার থেকে প্রত্যাহার কর। শরীয়তের সাধারণ নীতি এবং হযরত উমরের কথার আলোকে বিজ্ঞ আলিমগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অবস্থার প্রেক্ষিতে জনসাধারণকে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের লালসা থেকে রক্ষা কল্পে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবশ্যকীয় দ্রব্যাদির মূল্য নির্ধারণ ও কন্ট্রোল প্রথা চালু করা চাই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও তাঁর কোন কোন রচনায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
২. আলোচ্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন কোন সাহাবীর পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতির অভিযোগ ও মূল্যের ওপর কন্ট্রোল এর আবেদন করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য তা সংগত মনে করেন নি। এবং তিনি আশংকা প্রকাশ করেন যে, এরূপ নির্দেশের ফলে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি আর কারো অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়।
এখানে একথা প্রণিধানযোগ্য যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির অভাবে ও ঊর্ধ্ব মূল্য কখনো আকাল ও প্রাকৃতিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে হয়ে থাকে, আর কখনো ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়িয়ে দেয়। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর ﷺ-এর যে জবাব রয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের হাত ছিল না। এজন্য তিনি কন্ট্রোল চালু করা সংগত মনে করেননি। আর তাঁর আশংকা হয়েছিল যে, ব্যবসায়ীদের প্রতি বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়। এ থেকে এটাও বুঝা যেতে পারে যে, যদি শাসক নিশ্চিতভাবে অনুভব করেন যে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি হচ্ছে। বুঝানো ও উপদেশ সত্ত্বেও ব্যবসায়ীগণ সংশোধন হচ্ছে না, তবে তিনি মূল্য নির্ধারণ করে কন্ট্রোল প্রথা চালু করতে পারেন।
শাহ্ ওয়ালী উল্লাহর (র) মতে ব্যবসায়ীগণকে অন্যায় মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেওয়া তো জগতে ফাসাদ ও আল্লাহর সৃষ্ট জীবের উপর ধ্বংস ডেকে আনার নামান্তর। তবে সর্বাবস্থায় হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের দাবি এটাই যে, যথাসম্ভব তা থেকে বিরত থাকবে। এ পদক্ষেপ তখনি গৃহীত হবে, যখন ব্যবসায়ীগণের পক্ষ থেকে মুনাফা অর্জনের প্রবণতাধীনে জনসাধারণের সাথে প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি চলে এবং কন্ট্রোলের কর্মপন্থা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
ইমাম মালিক (র) মুআত্তায় হযরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়াব তাবিঈর বর্ণনায় লিপিবদ্ধ করেছেন যে, হযরত উমর (রা) মদীনার বাজারে সাহাবী হাতিব ইবনে 'আবী বালতা (রা)-কে দেখেন যে, তিনি শুষ্ক আংগুর (মুনাক্কা) এমন দরে বিক্রি করেছেন, যা হযরত উমর (রা)-এর নিকট অধিক অসংগত মনে হল। তিনি তাঁকে বললেনঃ
إِمَّا أَنْ تَزِيدَ فِي السّعْرِ - وَإِمَّا أَنْ تَرْفَعَ مِنْ سُوْقِنَا
হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি কর (অর্থাৎ মূল্য সংগত সীমা পর্যন্ত হ্রাস কর)। অথবা নিজের মাল আমাদের বাজার থেকে প্রত্যাহার কর। শরীয়তের সাধারণ নীতি এবং হযরত উমরের কথার আলোকে বিজ্ঞ আলিমগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অবস্থার প্রেক্ষিতে জনসাধারণকে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের লালসা থেকে রক্ষা কল্পে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবশ্যকীয় দ্রব্যাদির মূল্য নির্ধারণ ও কন্ট্রোল প্রথা চালু করা চাই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও তাঁর কোন কোন রচনায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)