মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১১- হজ্জ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৩১
- হজ্জ্বের অধ্যায়
১৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদীনার হারামকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে
২৭৩১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, যখন লোক প্রথম ফল লাভ করিত উহা নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট লইয়া আসিত। যখন তিনি উহা গ্রহণ করিতেন, বলিতেন আল্লাহ্! আমাদের ফল শস্যে বরকত দাও, আমাদের এই শহরে বরকত নাও। আমাদের আড়িতে বরকত দাও ও আমাদের সেরিতে বরকত দাও। আল্লাহ, ইবরাহীম তোমার বান্দা, তোমার দোস্ত ও তোমার নবী এবং আমিও তোমার বান্দা ও নবী। তিনি তোমার নিকট মক্কার জন্য দোআ করিয়াছেন আর আমি তোমার নিকট মদীনার জন্য দোআ করিতেছি — যেরূপ দো'আ তিনি তোমার নিকট মক্কার জন্য করিয়াছেন। অতঃপর আবু হুরায়রা বলেন, তৎপর হুযুর আপন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ছেলেকে ডাকিতেন এবং তাহাকে ঐ ফল দান করিতেন। —মুসলিম
كتاب المناسك
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرَةِ جَاءُوا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَخَذَهُ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أدعوكَ للمدينةِ بمثلِ مَا دعَاكَ لمكةَ ومِثْلِهِ مَعَهُ» . ثُمَّ قَالَ: يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيدٍ لَهُ فيعطيهِ ذَلِك الثَّمر. رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. ইহাতে বুঝা গেল যে, গাছের প্রথম ফল ছোটদের খাওয়ানই উত্তম বা মোস্তাহাব।

২. ফল-ফসলে বরকত হওয়ার অর্থ তো স্পষ্ট যে, এগুলোর উৎপাদন বেশী হবে। মদীনায় বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এটা খুব আবাদ হবে এবং এর অধিবাসীদের উপর অনুগ্রহ করা হবে। ছা ও মুদ্দ দু'টি ওজন বিশেষ। ঐ যুগে খাদ্য শস্য ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এগুলোই ব্যবহার করা হত। এগুলোর মধ্যে বরকত হওয়ার অর্থ এই যে, এক ছা অথবা এক মুদ্দ জিনিস যতজন মানুষের জন্য অথবা যতদিনের জন্য যথেষ্ট হয়, এর চেয়ে বেশী লোক ও বেশী দিনের জন্য যেন যথেষ্ট হয়ে যায়।

কুরআন মজীদে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ঐ দু‘আর উল্লেখ রয়েছে, যা তিনি নিজের স্ত্রী-সন্তানকে মক্কার অনাবাদ ও পানিশূন্য প্রান্তরে রেখে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাদের অন্তরে তাদের মহব্বত ঢেলে দাও এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় রিযিক ও ফলফলাদি দান কর, আর এখানের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার ফায়সালা কর।"
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃষ্টান্ত হিসাবে ঐ ইব্রাহীমী দু‘আর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে মদীনার জন্যও ঐ দু‘আ; বরং আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিস যোগ করে দু‘আ করতেন। এ দু‘আর ফলও স্পষ্ট যে, সারা দুনিয়ার যেসব ঈমানদারদের অন্তরে মক্কার মহব্বত রয়েছে, তাদের সবারই মদীনার মহব্বতও রয়েছে; বরং এ মহব্বত ও ভালবাসায় মদীনার অংশটি নিঃসন্দেহে মক্কার চেয়ে বেশী।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আর মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর বান্দা, তাঁর নবী ও বন্ধু বলেছেন, আর নিজেকে কেবল বান্দা ও নবী বলে উল্লেখ করেছেন, বন্ধু হওয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি। এ বিনয় ভাব ছিল তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য।

একেবারে নতুন ও গাছের প্রথম ফলটি ছোট শিশুদেরকে ডেকে দেওয়ার মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ছোট মাসুম বাচ্চাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া চাই। তাছাড়া নতুন ফল ও ছোট শিশুদের সম্বন্ধটিও প্রকাশ্য।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান