মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৪৫৫
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দুআ
২৪৫৫। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কি কিছু বলিবার আছে? প্রাণ তো ওষ্ঠাগত হইয়া গেল। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, বল, “আল্লাহ্! তুমি আমাদের দোষ ঢাকিয়া রাখ এবং আমাদের ভয় নিরাপদ কর।” আবু সায়ীদ বলেন, সুতরাং আল্লাহ্ তাঁহার শত্রুদিগকে ঝঞ্ঝা দ্বারা দমন করিলেন এবং ঝঞ্ঝা দ্বারাই তাহাদিগকে পরাজিত করিলেন। —আহমদ
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قُلْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ مِنْ شَيْءٍ نَقُولُهُ؟ فَقَدْ بَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ قَالَ: «نَعَمْ اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا» قَالَ: فَضَرَبَ اللَّهُ وُجُوهَ أَعْدَائِهِ بِالرِّيحِ وَهَزَمَ اللَّهُ بِالرِّيحِ. رَوَاهُ أَحْمد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. ‘খন্দক’—অর্থ পরিখা। এই যুদ্ধে মদীনার পার্শ্বে পরিখা খনন করা হইয়াছিল। এই যুদ্ধে শত্রুদের মিলিত বাহিনী ময়দানে অবতীর্ণ হইয়াছিল বলিয়া ইহাকে আহযাব যুদ্ধও বলে। প্রবল ঝঞ্ঝা আসিয়া তাহাদের শিবির তছনছ করিয়া দেয় এবং তাহারা রাত্রির অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়া পলায়ন করে।
২. এখানে আমানত বলতে মানব মনের সেই বিশেষ অবস্থা ও গুণকে বুঝানো হয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহ ও বান্দাদের হক আদায়ে অনুপ্রাণিত ও বাধ্য করে। সংক্ষেপে একে বন্দেগীর যিম্মাদারীর অনুভূতি বলা যেতে পারে।
মু'মিন বান্দার আসল মূলধনই হচ্ছে তার এই আমানত গুণ, তার দীন ও দীনী আমলসমূহ। তাই হুযুর ﷺ সেনাদলকে রওয়ানা করার সময় মুজাহিদদের এ ব্যাপারসমূহ বিশেষভাবে আল্লাহরই হাতে সোপর্দ করে দিতেন এবং দু'আ করতেন যেন তিনি এগুলোর হিফাযত করেন। অনুরূপ কোন ব্যক্তিকে বিদায়দানকালেও তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল, তিনি বিদায়ী ব্যক্তির হাতকে নিজের মুঠোয় নিয়ে বলতেন:
اَسْتَوْدِعُ اللّٰهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ
তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার অন্তিম আমলসমূহ আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছি। তিনি যেন এগুলোর হিফাযত করেন।
(তিরমিযী ইবনে উমর থেকে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন)
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, কাউকে বিদায় দেওয়ার সময় তার সাথে মুসাসফাহা বা করমর্দন করাও তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. এখানে আমানত বলতে মানব মনের সেই বিশেষ অবস্থা ও গুণকে বুঝানো হয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহ ও বান্দাদের হক আদায়ে অনুপ্রাণিত ও বাধ্য করে। সংক্ষেপে একে বন্দেগীর যিম্মাদারীর অনুভূতি বলা যেতে পারে।
মু'মিন বান্দার আসল মূলধনই হচ্ছে তার এই আমানত গুণ, তার দীন ও দীনী আমলসমূহ। তাই হুযুর ﷺ সেনাদলকে রওয়ানা করার সময় মুজাহিদদের এ ব্যাপারসমূহ বিশেষভাবে আল্লাহরই হাতে সোপর্দ করে দিতেন এবং দু'আ করতেন যেন তিনি এগুলোর হিফাযত করেন। অনুরূপ কোন ব্যক্তিকে বিদায়দানকালেও তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল, তিনি বিদায়ী ব্যক্তির হাতকে নিজের মুঠোয় নিয়ে বলতেন:
اَسْتَوْدِعُ اللّٰهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ
তোমার দীন, তোমার আমানত এবং তোমার অন্তিম আমলসমূহ আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছি। তিনি যেন এগুলোর হিফাযত করেন।
(তিরমিযী ইবনে উমর থেকে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন)
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, কাউকে বিদায় দেওয়ার সময় তার সাথে মুসাসফাহা বা করমর্দন করাও তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)