মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৪৫২
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দুআ
২৪৫২। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যাহার চিন্তা বাড়িয়া গিয়াছে সে যেন বলে, "আল্লাহ্! আমি তোমার দাস, তোমার দাসের পুত্র, তোমার দাসীর পুত্র, আমি তোমার হাতের মুঠে, আমার অদৃষ্ট তোমার হাতে, তোমার হুকুম আমাতে কার্যকর এবং তোমার নির্দেশ আমার পক্ষে ন্যায়। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি তোমার সে সকল নামের উসীলায়, যদ্দ্বারা তুমি নিজেকে অভিহিত করিয়াছ, অথবা তুমি তোমার কিতাবে নাযিল করিয়াছ, অথবা তুমি তোমার সৃষ্টির কাহাকেও উহা শিক্ষা দিয়াছ, অথবা তুমি তোমার বান্দাদের উপর এলহাম করিয়াছ, অথবা তুমি গায়েবের পর্দায় উহা তোমার নিকট গোপন রাখিয়াছ — তুমি কোরআনকে আমার অন্তরের বসন্তকালস্বরূপ এবং চিন্তা ও ধান্দা দূরীকরণের কারণস্বরূপ কর।” –যে বান্দা যখনই উহা বলিবে, আল্লাহ্ তাহার চিন্তা দূর করিবেন এবং উহার পরিবর্তে নিশ্চিন্ততা দান করিবেন। —রযীন
كتاب الدعوات
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ كَثُرَ هَمُّهُ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ وَفِي قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَلْهَمْتَ عِبَادَكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي مَكْنُونِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قلبِي وجِلاء هَمِّي وغَمِّي مَا قَالَهَا عَبْدٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ غمه وأبدله فرجا . رَوَاهُ رزين
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা দেয়া এ দু'আটির প্রতিটি শব্দে উবুদিয়তের কী চমৎকার অভিব্যক্তি ঘটেছে! সর্ব প্রথমেই স্বীকারোক্তি রয়েছে যে, হে আল্লাহ! আমি নিজের ও তোমার বান্দা এবং আমার পিতামাতাও একান্তই তোমার বান্দা ও বাঁদী-দাসানুদাস। অর্থাৎ জন্মগত ভাবেই আমি তোমার দাস। তুমি আমার মুনীব ও প্রতিপালক। আমি আপাদ মস্তক তোমার মর্জির অধীন, আমার দেহ-মন তোমারই পূর্ণ ইখতিয়ারে। আমার ব্যাপারে তোমার প্রতিটি ফয়সালাই বরহক এবং কার্যকর। আমার বা অন্য কারো টু শব্দটি করার উপায় নেই।
তারপর এ দু'আয় বলা হয়েছে, আমার এমন কোন আমল বা সৎকর্ম নেই, যার উপর ভিত্তি করে আমি তোমার দরবারে কোন দাবি তুলতে পারি। এজন্যে তোমার সে পবিত্র মহান নামগুলির ওসীলায়, যে সব নামে তুমি নিজে নিজেকে অভিহিত করেছো, বা তোমার কিতাবে যে সব নাম তুমি নিজে অবতীর্ণ করেছো অথবা সে সব পবিত্র নাম কেবল তোমারই গুপ্তভাণ্ডারে তুমি গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছো এবং যেগুলো তুমি কারো কাছে ব্যক্ত করনি, কেউ সেগুলো সম্পর্কে অবহিত নয়, সেগুলোর ওসীলায় আমি ফরিয়াদ করছি, তোমার পাক কুরআনকে আমার অন্তরের বাহার বানিয়ে দাও আমার সকল দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা ও পেরেশানী সেগুলোর বরকতে দূর করে দাও।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ বান্দা যখন এরূপ দু'আ করবে, তখন অতি অবশ্যই তার দুর্ভাবনা ও পেরেশানী দূর করে দেয়া হবে।
তারপর এ দু'আয় বলা হয়েছে, আমার এমন কোন আমল বা সৎকর্ম নেই, যার উপর ভিত্তি করে আমি তোমার দরবারে কোন দাবি তুলতে পারি। এজন্যে তোমার সে পবিত্র মহান নামগুলির ওসীলায়, যে সব নামে তুমি নিজে নিজেকে অভিহিত করেছো, বা তোমার কিতাবে যে সব নাম তুমি নিজে অবতীর্ণ করেছো অথবা সে সব পবিত্র নাম কেবল তোমারই গুপ্তভাণ্ডারে তুমি গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছো এবং যেগুলো তুমি কারো কাছে ব্যক্ত করনি, কেউ সেগুলো সম্পর্কে অবহিত নয়, সেগুলোর ওসীলায় আমি ফরিয়াদ করছি, তোমার পাক কুরআনকে আমার অন্তরের বাহার বানিয়ে দাও আমার সকল দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা ও পেরেশানী সেগুলোর বরকতে দূর করে দাও।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ বান্দা যখন এরূপ দু'আ করবে, তখন অতি অবশ্যই তার দুর্ভাবনা ও পেরেশানী দূর করে দেয়া হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)