মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৪০৬
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে
২৪০৬। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ দুইটি বিষয়ে যে কোন মুসলমান লক্ষ্য রাখিবে, সে নিশ্চয় বেহেশতে যাইবে। জানিয়া রাখ— বিষয় দুইটি সহজ; কিন্তু করনেওয়ালা কম, প্রত্যেক নামাযের পর দশবার 'সুবহানাল্লাহ্', দশবার 'আলহামদু লিল্লাহ্' ও দশবার 'আল্লাহু আকবর' বলিবে। আব্দুল্লাহ্ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে উহা হাতে গুণিতে দেখিয়াছি। হুযূর বলেন, মুখে ইহা (পাঁচ ওয়াক্তে) একশত পঞ্চাশ; কিন্তু কেয়ামতে মীযানের পাল্লায় ইহা এক হাযার পাঁচ শত। আর যখন শয্যা গ্রহণ করিবে বলিবে, 'সুবহানাল্লাহ্' 'আল্লাহু আকবর' ও আলহামদু লিল্লাহ্' (তিনটিতে মিলাইয়া) একশত বার। ইহা মুখে একশত বটে; কিন্তু মীযানে এক হাযার। অতঃপর হুযূর বলেন, তোমাদের মধ্যে কে একদিন এক রাতে দুই হাযার পাঁচশত গোনাহ্ করে ? (অর্থাৎ, কেহ এত গোনাহ্ করে না।) সাহাবীগণ বলিলেন, কেন আমরা এই দুইটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখিতে পারিব না? তিনি বলিলেন, পারিবে না এই জন্য যে, তোমাদের কাহারও নিকট তাহার নামায অবস্থায় শয়তান আসিয়া বলে, ঐ বিষয় স্মরণ কর, ঐ বিষয় স্মরণ কর, যাবৎ না সে নামায শেষ করিয়া ফিরে। অতঃপর হয়তো সে উহা না করিয়াই উঠিয়া যায়। এইরূপে শয়তান তাহার শয্যাকালে আসিয়া ঘুম পাড়াইতে থাকিবে, যাবৎ না সে (উহা না করিয়া ঘুমাইয়া পড়ে। – তিরমিযী, আবু দাউদ ও নাসায়ী
আবু দাউদের অপর এক বর্ণনায় আছে, দুইটি বিষয়, যে কোন মুসলমান উহার হেফাযত করিবে.........। এইরূপে তাঁহার বর্ণনায় — “মীযানের পাল্লায় এক হাযার পাঁচশত”—শব্দের পর রহিয়াছে, হুযূর (ﷺ) বলিয়াছেন, যখন সে শয্যা গ্রহণ করিবে, বলিবে—'আল্লাহু আকবর' ৩৪ বার, 'আলহামদু লিল্লাহ্' ৩৩ বার ও 'সুবহানাল্লাহ্' ৩৩ বার।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَلَّتَانِ لَا يُحْصِيهِمَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ أَلَا وَهُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ يُسَبِّحُ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُهُ عَشْرًا ويكبِّرهُ عَشراً» قَالَ: فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْقِدُهَا بِيَدِهِ قَالَ: «فَتِلْكَ خَمْسُونَ وَمِائَةٌ فِي اللِّسَان وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ وَإِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ يُسَبِّحُهُ وَيُكَبِّرُهُ وَيَحْمَدُهُ مِائَةً فَتِلْكَ مِائَةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَمِائَةِ سَيِّئَةٍ؟» قَالُوا: وَكَيْفَ لَا نُحْصِيهَا؟ قَالَ: يَأْتِي أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ وَهُوَ فِي صِلَاتِهِ فَيَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا حَتَّى يَنْفَتِلَ فَلَعَلَّهُ أَنْ لَا يَفْعَلَ وَيَأْتِيهِ فِي مَضْجَعِهِ فَلَا يَزَالُ يُنَوِّمُهُ حَتَّى يَنَامَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: «خَصْلَتَانِ أَوْ خَلَّتَانِ لَا يُحَافِظُ عَلَيْهِمَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ» . وَكَذَا فِي رِوَايَتِهِ بَعْدَ قَوْلِهِ: «وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ» قَالَ: «وَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ» وَيَحْمَدُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَيُسَبِّحُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ . وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ المصابيح عَن: عبد الله بن عمر

হাদীসের ব্যাখ্যা:

‘স্মরণ কর ঐ ঐ কাজ' – অর্থাৎ, শয়তান তাহাকে নানা ভাবনায় ফেলিয়া দিবে। সুতরাং সে নামাযান্তে উহা ভুলিয়া যাইবে অথবা শয়তান বলিবে, “তোমার ঐ ঐ কাজ বাকী রহিয়া গিয়াছে।” সুতরাং সে নামাযান্তে কাজের জন্য ত্বরিৎ উঠিয়া যাইবে।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ২৪০৬ | মুসলিম বাংলা