মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২২৬২
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
১. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতাআলার জিকির ও তাঁর নৈকট্য লাভ
২২৬২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার পথে সফরে এক পাহাড়ের নিকট পৌঁছিলেন, যাহার নাম হইল জুমদান। তখন বলিলেন, চল, চল, ইহা জুমদান। আগে চলিয়া গেল মুফাররিদরা। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করিলেন, 'মুফাররিদ' কাহারা ইয়া রাসূলাল্লাহ্? তিনি বলিলেন যে পুরুষ বা নারী আল্লাহর বেশী বেশী যিকির করে তাহারা। —মুসলিম
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسِيرُ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ فَمَرَّ عَلَى جَبَلٍ يُقَالُ لَهُ: جُمْدَانُ فَقَالَ: «سِيرُوا هَذَا جُمْدَانُ سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ» . قَالُوا: وَمَا الْمُفَرِّدُونَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «الذَّاكِرُونَ الله كثيرا وَالذَّاكِرَات» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. ‘জুমদান' মদীনা হইতে এক রাত্রির পথ দূরে অবস্থিত। উহা আল্লাহর যিকিরকে ভালবাসে বলিয়াই তথায় তিনি যিকির করিতে বলিলেন।
২. জুমদান হচ্ছে মদীনা শরীফ থেকে নিকটে একদিনের দূরত্বে অবস্থিত একটি পাহাড়। বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় যে, যমীনের যে অংশেই আল্লাহর যিকির হয়ে থাকে, সে অংশই তা' অনুভব করে থাকে। তাই এক হাদীসে এসেছে যে, এক পাহাড় অন্য পাহাড়কে জিজ্ঞেস করে, আজ আল্লাহর কোন যিকিরকারী বান্দা কি তোমার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে? যখন সে পাহাড় বলে যে হাঁ, অতিক্রম করেছে তখন সে বলে, তোমাকে মুবারকবাদ! এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জামদান পাহাড় দিয়ে অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এ ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে, আল্লাহর অধিক যিকিরকারী নারী-পুরুষ বান্দাহগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং কবুলিয়তের উচ্চ মর্যাদা লাভ করে উচ্চাসনে আসীন হয়েছেন, তখনই তিনি বলেছেন: মুফাররিদগণ বাজীমাত করে নিয়েছে। মুফাররিদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নিজেকে সকলের নিকট থেকে আলাদা, একাকী ও হাল্কা করে নিয়েছে। এর দ্বারা ঐসব ব্যক্তি বুঝায় যারা আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি কামনায় নিজেদেরকে পৃথিবীর ঝামেলা থেকে হাল্কা করে নেন এবং অন্য সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে কেবল আল্লাহরই হয়ে যান। এটাই মাকামে তাফরীদ বা অনন্যতার স্তর আর কুরআনের বিশেষ পরিভাষায় একেই বলা হয়েছে তাবাত্তুল (تَبَتُّلْ)।
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيْلاً.
আয়াতে এ তাবাত্তুলের কথাই বলা হয়েছে। কুরআন শরীফে উক্ত বহুল পরিমাণে যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারীরা:
( الذَّاكِرِيْنَ اللّٰهَ كَثِيْرًا وَالذَّكِرَاتِ)
বলতে এদেরকেই বুঝানো হয়েছে, যাঁরা সকল দিক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহ জাল্লা শানুহুকেই নিজেদের একমাত্র অভীষ্ট বানিয়ে নিয়েছেন।
২. জুমদান হচ্ছে মদীনা শরীফ থেকে নিকটে একদিনের দূরত্বে অবস্থিত একটি পাহাড়। বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় যে, যমীনের যে অংশেই আল্লাহর যিকির হয়ে থাকে, সে অংশই তা' অনুভব করে থাকে। তাই এক হাদীসে এসেছে যে, এক পাহাড় অন্য পাহাড়কে জিজ্ঞেস করে, আজ আল্লাহর কোন যিকিরকারী বান্দা কি তোমার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে? যখন সে পাহাড় বলে যে হাঁ, অতিক্রম করেছে তখন সে বলে, তোমাকে মুবারকবাদ! এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জামদান পাহাড় দিয়ে অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এ ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে, আল্লাহর অধিক যিকিরকারী নারী-পুরুষ বান্দাহগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং কবুলিয়তের উচ্চ মর্যাদা লাভ করে উচ্চাসনে আসীন হয়েছেন, তখনই তিনি বলেছেন: মুফাররিদগণ বাজীমাত করে নিয়েছে। মুফাররিদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নিজেকে সকলের নিকট থেকে আলাদা, একাকী ও হাল্কা করে নিয়েছে। এর দ্বারা ঐসব ব্যক্তি বুঝায় যারা আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি কামনায় নিজেদেরকে পৃথিবীর ঝামেলা থেকে হাল্কা করে নেন এবং অন্য সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে কেবল আল্লাহরই হয়ে যান। এটাই মাকামে তাফরীদ বা অনন্যতার স্তর আর কুরআনের বিশেষ পরিভাষায় একেই বলা হয়েছে তাবাত্তুল (تَبَتُّلْ)।
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيْلاً.
আয়াতে এ তাবাত্তুলের কথাই বলা হয়েছে। কুরআন শরীফে উক্ত বহুল পরিমাণে যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারীরা:
( الذَّاكِرِيْنَ اللّٰهَ كَثِيْرًا وَالذَّكِرَاتِ)
বলতে এদেরকেই বুঝানো হয়েছে, যাঁরা সকল দিক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহ জাল্লা শানুহুকেই নিজেদের একমাত্র অভীষ্ট বানিয়ে নিয়েছেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)