মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৭- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৭৮
৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দানের মর্যাদা ও কৃপণতার পরিণাম
১৮৭৮। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, বনি ইস্বায়ীলের মধ্যে তিন ব্যক্তি—এক শ্বেতকুষ্ঠ রোগী, এক মাথায় টাক পড়া ব্যক্তি ও এক অন্ধ, ইহাদিগকে আল্লাহ্ পরীক্ষা করিতে ইচ্ছা করিলেন এবং এক ফিরিশতাকে তাহাদের নিকট পাঠাইলেন। ফিরিশতা প্রথমে কুষ্ঠীর নিকট আসিয়া বলিলেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে বলিল, উত্তম রং ও উত্তম চর্ম এবং লোক আমাকে যাহার কারণে ঘৃণা করে, আমা হইতে তাহা দূর হইয়া যাওয়া। হুযূর বলেন, ফিরিশতা তাহার গায়ে হাত বুলাইলেন আর তাহার ঘৃণার জিনিস দূর হইয়া গেল এবং তাহাকে ভাল রং ও ভাল চর্ম দেওয়া হইল। অতঃপর ফিরিশতা জিজ্ঞাসা করিলেন, কোন্ মাল তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বলিল, উট অথবা গরু। (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বর্ণনাকারী রাবী ইসহাক সন্দেহ করিয়া বলেন যে, কুষ্ঠ রোগী অথবা মাথায় টাক পড়া ব্যক্তি—এই দুইয়ের মধ্যে একজন উট এবং অপরজন গরু চাহিয়াছিল। হুযূর বলেন, সুতরাং তাহাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী মাদী উট দেওয়া হইল এবং ফিরিশতা দো'আ করিলেন, আল্লাহ্ তোমার ইহাতে যেন বরকত দেন।
হুযূর (দঃ) বলেন, অতঃপর ফিরিশতা টাকওয়ালার নিকট আসিয়া বলিলেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে বলিল, উত্তম চুল এবং যাহার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে তাহা আমা হইতে দূর হইয়া যাওয়া। হুযূর বলেন, ফিরিশতা তাহার মাথায় হাত বুলাইলেন, যাহাতে তাহার টাক দূর হইয়া গেল এবং তাহাকে উত্তম চুল দান করা হইল। অতঃপর ফিরিশতা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়? সে বলিল, গরু। সুতরাং তাহাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করা হইল এবং ফিরিশতা দোআ করিলেন, আল্লাহ্ যেন তোমার মালে বরকত দেন।
হুযূর বলেন, অতঃপর ফিরিশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসিয়া বলিলেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে উত্তর করিল, আল্লাহ্ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরাইয়া দেন যাহাতে আমি লোকদিগকে দেখিতে পাই। হুযূর বলেন, ফিরিশতা তাহার চোখের উপর হাত ফিরাইলেন আর আল্লাহ্ তা'আলা তাহার জ্যোতি ফিরাইয়া দিলেন। অতঃপর ফিরিশতা জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়? সে বলিল, ছাগল ভেড়া। সুতরাং তাহাকে একটি আসন্ন প্রসবা ছাগল দেওয়া হইল। অতঃপর (সে দুই ব্যক্তির) উট, গরু বাচ্চা জন্ম দিল এবং ইহার ছাগল ছানা প্রসব করিল যাহাতে উহার এক মাঠ উট, ইহার এক মাঠ গরু আর এই ব্যক্তির এক মাঠ ছাগল ভেড়া হইয়া গেল ।
হুযূর বলেন, অতঃপর (পরীক্ষার জন্য) সেই ফিরিশতা আপন পূর্ব অবয়ব ও পূর্ব বেশে সেই শ্বেত-কুষ্ঠ রোগীর নিকট আসিয়া বলিলেন, আমি একজন দরিদ্র মিসকীন ব্যক্তি, সফরে আমার সমস্ত সামর্থ্য শেষ হইয়া গিয়াছে। এখন আল্লাহর মেহেরবানী ছাড়া ঘরে পৌঁছার আমার কোন উপায় নাই, অতঃপর আপনার সাহায্য। আমি আপনার নিকট আল্লাহর নামে যিনি আপনাকে এই সুন্দর রং, এই সুন্দর চর্ম এবং এত সকল উট দান করিয়াছেন একটি উট ভিক্ষা চাহিতেছি যদ্বারা আমি আমার সফর হইতে ঘরে পৌঁছিতে পারি। (অথবা যাহাকে আমি আমার সফরে পাথেয় করিতে পারি।) সে উত্তর করিল, আমার অনেক দেয় রহিয়াছে। ফিরিশতা বলিলেন, মনে হয় যেন আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি দরিদ্র কুষ্ঠী ছিলে না, যাহাতে লোক তোমায় ঘৃণা করিত। অতঃপর আল্লাহ্ তোমাকে ধন-সম্পদ দান করিয়াছেন ? তখন সে বলিল, (বল কি ?) এসকল মাল তো আমি বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করিয়াছি। তখন ফেরেস্তা বলিলেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ্ তোমাকে তোমার সে অবস্থায় ফিরাইয়া নিন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিলে।
হুযূর বলেন, অতঃপর ফিরিশতা আপন পূর্ণ অবয়বে টাকওয়ালার নিকট আসিলেন এবং তাহার নিকট জ্ঞাপন করিলেন যাহা ইহার নিকট জ্ঞাপন করিয়াছিলেন তাহার অনুরূপ এবং তাহার উত্তরে উত্তর করিলেন যাহা ইহার উত্তরে উত্তর করিয়াছিলেন তাহার অনুরূপ। অতঃপর বলিলেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ্ তোমাকে তোমার সে অবস্থায় ফিরাইয়া দিন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিল।
হুযূর বলেন, (অবশেষে) ফিরিশতা আপন পূর্ব বেশে অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসিয়া বলিলেন, আমি একজন দরিদ্র ও মুসাফির। সফরে আমার সামর্থ্য ফুরাইয়া গিয়াছে, এখন আল্লাহ্ ব্যতীত ঘরে পৌঁছার আমার কোন উপায় নাই, অতঃপর আপনার সাহায্য। আমি আল্লাহর নামে যিনি আপনাকে আপনার জ্যোতি ফিরাইয়া দিয়াছেন আপনার নিকট একটি ছাগল ভিক্ষা চাহি যদ্বারা আমি আমার সফর হইতে ঘরে পৌঁছিতে পারি (অথবা সফরে পাথেয় করিতে পারি)। তখন সে বলিল, সত্যই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ্ আমাকে চক্ষু দান করিয়াছেন, তুমি যাহা ইচ্ছা গ্রহণ কর আর যাহা ইচ্ছা রাখিয়া যাও। খোদার কসম আল্লাহ্র নামে আজ তুমি যাহা নিতে চাহিবে, আমি অস্বীকার করিব না এবং তোমাকে কষ্টে নিক্ষেপ করিব না। তখন ফিরিশতা বলিলেন, তুমি তোমার মাল রাখিয়া দাও ! (আল্লাহর পক্ষ হইতে) তোমাদের পরীক্ষা করা হইল এবং তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হইলেন আর তোমার সাথীদ্বয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট। — মোত্তাঃ
হুযূর (দঃ) বলেন, অতঃপর ফিরিশতা টাকওয়ালার নিকট আসিয়া বলিলেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে বলিল, উত্তম চুল এবং যাহার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে তাহা আমা হইতে দূর হইয়া যাওয়া। হুযূর বলেন, ফিরিশতা তাহার মাথায় হাত বুলাইলেন, যাহাতে তাহার টাক দূর হইয়া গেল এবং তাহাকে উত্তম চুল দান করা হইল। অতঃপর ফিরিশতা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়? সে বলিল, গরু। সুতরাং তাহাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করা হইল এবং ফিরিশতা দোআ করিলেন, আল্লাহ্ যেন তোমার মালে বরকত দেন।
হুযূর বলেন, অতঃপর ফিরিশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসিয়া বলিলেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে উত্তর করিল, আল্লাহ্ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরাইয়া দেন যাহাতে আমি লোকদিগকে দেখিতে পাই। হুযূর বলেন, ফিরিশতা তাহার চোখের উপর হাত ফিরাইলেন আর আল্লাহ্ তা'আলা তাহার জ্যোতি ফিরাইয়া দিলেন। অতঃপর ফিরিশতা জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নিকট কোন্ মাল অধিক প্রিয়? সে বলিল, ছাগল ভেড়া। সুতরাং তাহাকে একটি আসন্ন প্রসবা ছাগল দেওয়া হইল। অতঃপর (সে দুই ব্যক্তির) উট, গরু বাচ্চা জন্ম দিল এবং ইহার ছাগল ছানা প্রসব করিল যাহাতে উহার এক মাঠ উট, ইহার এক মাঠ গরু আর এই ব্যক্তির এক মাঠ ছাগল ভেড়া হইয়া গেল ।
হুযূর বলেন, অতঃপর (পরীক্ষার জন্য) সেই ফিরিশতা আপন পূর্ব অবয়ব ও পূর্ব বেশে সেই শ্বেত-কুষ্ঠ রোগীর নিকট আসিয়া বলিলেন, আমি একজন দরিদ্র মিসকীন ব্যক্তি, সফরে আমার সমস্ত সামর্থ্য শেষ হইয়া গিয়াছে। এখন আল্লাহর মেহেরবানী ছাড়া ঘরে পৌঁছার আমার কোন উপায় নাই, অতঃপর আপনার সাহায্য। আমি আপনার নিকট আল্লাহর নামে যিনি আপনাকে এই সুন্দর রং, এই সুন্দর চর্ম এবং এত সকল উট দান করিয়াছেন একটি উট ভিক্ষা চাহিতেছি যদ্বারা আমি আমার সফর হইতে ঘরে পৌঁছিতে পারি। (অথবা যাহাকে আমি আমার সফরে পাথেয় করিতে পারি।) সে উত্তর করিল, আমার অনেক দেয় রহিয়াছে। ফিরিশতা বলিলেন, মনে হয় যেন আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি দরিদ্র কুষ্ঠী ছিলে না, যাহাতে লোক তোমায় ঘৃণা করিত। অতঃপর আল্লাহ্ তোমাকে ধন-সম্পদ দান করিয়াছেন ? তখন সে বলিল, (বল কি ?) এসকল মাল তো আমি বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করিয়াছি। তখন ফেরেস্তা বলিলেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ্ তোমাকে তোমার সে অবস্থায় ফিরাইয়া নিন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিলে।
হুযূর বলেন, অতঃপর ফিরিশতা আপন পূর্ণ অবয়বে টাকওয়ালার নিকট আসিলেন এবং তাহার নিকট জ্ঞাপন করিলেন যাহা ইহার নিকট জ্ঞাপন করিয়াছিলেন তাহার অনুরূপ এবং তাহার উত্তরে উত্তর করিলেন যাহা ইহার উত্তরে উত্তর করিয়াছিলেন তাহার অনুরূপ। অতঃপর বলিলেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ্ তোমাকে তোমার সে অবস্থায় ফিরাইয়া দিন, যে অবস্থায় তুমি পূর্বে ছিল।
হুযূর বলেন, (অবশেষে) ফিরিশতা আপন পূর্ব বেশে অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসিয়া বলিলেন, আমি একজন দরিদ্র ও মুসাফির। সফরে আমার সামর্থ্য ফুরাইয়া গিয়াছে, এখন আল্লাহ্ ব্যতীত ঘরে পৌঁছার আমার কোন উপায় নাই, অতঃপর আপনার সাহায্য। আমি আল্লাহর নামে যিনি আপনাকে আপনার জ্যোতি ফিরাইয়া দিয়াছেন আপনার নিকট একটি ছাগল ভিক্ষা চাহি যদ্বারা আমি আমার সফর হইতে ঘরে পৌঁছিতে পারি (অথবা সফরে পাথেয় করিতে পারি)। তখন সে বলিল, সত্যই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ্ আমাকে চক্ষু দান করিয়াছেন, তুমি যাহা ইচ্ছা গ্রহণ কর আর যাহা ইচ্ছা রাখিয়া যাও। খোদার কসম আল্লাহ্র নামে আজ তুমি যাহা নিতে চাহিবে, আমি অস্বীকার করিব না এবং তোমাকে কষ্টে নিক্ষেপ করিব না। তখন ফিরিশতা বলিলেন, তুমি তোমার মাল রাখিয়া দাও ! (আল্লাহর পক্ষ হইতে) তোমাদের পরীক্ষা করা হইল এবং তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হইলেন আর তোমার সাথীদ্বয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট। — মোত্তাঃ
وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ ثَلَاثَة فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا فَأَتَى الْأَبْرَصَ فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ» قَالَ: «فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ وَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا قَالَ فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْإِبِلُ - أَوْ قَالَ الْبَقر شكّ إِسْحَق - إِلَّا أَنَّ الْأَبْرَصَ أَوِ الْأَقْرَعَ قَالَ أَحَدُهُمَا الْإِبِلُ وَقَالَ الْآخَرُ الْبَقَرُ قَالَ فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا» قَالَ: «فَأتى الْأَقْرَع فَقَالَ أَي شَيْء أحب إِلَيْك قَالَ شَعَرٌ حَسَنٌ وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ» . قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا قَالَ فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْبَقَرُ فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلًا قَالَ: «بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا» قَالَ: «فَأَتَى الْأَعْمَى فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ» . قَالَ: «فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ قَالَ فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْغَنَمُ فَأُعْطِيَ شَاة والدا فأنتج هَذَانِ وَولد هَذَا قَالَ فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنِ الْإِبِلِ وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْبَقَرِ وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ» . قَالَ: «ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الْأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي فَلَا بَلَاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحسن وَالْجَلد الْحسن وَالْمَال بَعِيرًا أتبلغ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي فَقَالَ الْحُقُوق كَثِيرَة فَقَالَ لَهُ كَأَنِّي أَعْرِفُكَ أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ مَالًا فَقَالَ إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ فَقَالَ إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ» . قَالَ: «وَأَتَى الْأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَى هَذَا فَقَالَ إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ» . قَالَ: «وَأَتَى الْأَعْمَى فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي فَلَا بَلَاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغُ بِهَا فِي سَفَرِي فَقَالَ قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَخُذْ مَا شِئْتَ وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللَّهِ لَا أجهدك الْيَوْم شَيْئا أَخَذْتَهُ لِلَّهِ فَقَالَ أَمْسِكْ مَالَكَ فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ فقد رَضِي عَنْك وَسخط على صاحبيك»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বনী ইসরাঈল বলা হয় হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের বংশধরদেরকে। ‘ইসরাঈল' হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালামের আরেক নাম। তিনি হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামের পুত্র। হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ছোট ভাই। তাঁরা উভয়ে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র। বর্তমানে বনী ইসরাঈল বলতে ইহুদীদেরকে বোঝায়। কুরআন মাজীদে ও হাদীছে তাদের বহু ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তারা নিজেদের হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তাওরাত গ্রন্থের অনুসারী বলে দাবি করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তারা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের শিক্ষা থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছে। তারা তাওরাত গ্রন্থও বিকৃত করে ফেলেছে।
এ হাদীছে তাদের তিন ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা পরীক্ষা করেছিলেন। তিনজনই ছিল নিতান্ত গরীব এবং একেকজন একেক রোগে আক্রান্ত। মানুষ তাদের ঘৃণা করত। আল্লাহ তা'আলা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে দেন। প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে যায়। হয়ে যায় অনেক সম্পদের মালিক। এ পরিবর্তনের জন্য তাদের কর্তব্য ছিল আল্লাহর শোকর আদায় করা। প্রত্যেকের উচিত ছিল অতীতের দুরাবস্থার কথা স্মরণ রেখে বর্তমান সুখের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করা ও আপন আপন সম্পদের হক আদায় করা। কিন্তু এ কর্তব্যকর্ম তাদের মধ্যে মাত্র একজনই উপলব্ধি করেছিল। সে যথারীতি আল্লাহর শোকরগুযারী করে এবং আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ থেকে আল্লাহ ও বান্দার হক আদায়ে যত্নবান থাকে। কিন্তু বাকি দু'জন ছিল এর বিপরীত। অবস্থা পরিবর্তনের পর তারা বিগত জীবনের কথা মনে রাখেনি। তারা যে একদিন গরীব ছিল, ছিল মারাত্মক রোগে আক্রান্ত, তা বেমালুম ভুলে যায়। সম্পদের মোহে পড়ে ভুলে যায় তার প্রকৃত দাতা আল্লাহ তা'আলাকেও। ফিরিশতা এসে যখন তাদের কাছে সাহায্য চাইল, তখন সাহায্য তো করলই না, উল্টো তাদের অতীত দিনের কথা মনে করিয়ে দিলে দাবি করে বসল, তারা বাপ-দাদার আমল থেকেই ধন-দৌলতের মালিক। হঠাৎ করে ধনী হয়ে যায়নি। এ যেন কারূনের কথারই প্রতিধ্বনি। তাকে যখন তার সম্পদ থেকে গরীব-দুঃখীকে দান করতে বলা হল, সে ধৃষ্টতা দেখিয়ে বলেছিল কেন তা করবে? সে তো ধন-দৌলতের মালিক নিজ বিদ্যা-বুদ্ধি বলেই হয়েছে। তার প্রতি এটা কারও দান নয়। কুরআন মাজীদে তার কথা বর্ণিত হয়েছে-
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي
"সে বলল, এসব তো আমি আমার জ্ঞানবলে লাভ করেছি।"
অর্থাৎ এ সম্পদ আমি আল্লাহর কাছ থেকে পাইনি। এ দুই ব্যক্তিও বলল, এ সম্পদ পুরুষানুক্রমে পেয়েছি। অর্থাৎ তাতে যেন আল্লাহর কোনও হাত নেই। কত বড় অকৃতজ্ঞতা! তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ ছিল। ফিরিশতা তাদের প্রত্যেকের কাছে এসেছিলেন তাদের অতীত রূপ ও অতীত বেশভূষা নিয়ে। অন্ধের কাছে অন্ধ হয়ে, কুষ্ঠীর কাছে কুষ্ঠীরূপে এবং টেকোর কাছে টেকোবেশে। এ রূপ দেখে তারা মনে করতে পারত, একদিন তারাও এরকম ছিল। তাদের কিছুই ছিল না। নিতান্তই দরিদ্র ছিল। আল্লাহ তা'আলাই নিজ করুণায় তাদের রোগমুক্তিও দান করেছেন এবং দিয়েছেন অঢেল সম্পদ। অন্ধ লোকটি তা ঠিকই মনে করেছিল এবং স্বীকার করেছিল একদিন সে নিতান্ত গরীব ছিল। ছিল অন্ধ। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় তার অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। তারপর সে সাহায্য প্রার্থীকে খালি হাতেও ফিরিয়ে দেয়নি। তাকে তার যা দরকার, নিজ ইচ্ছামত নিয়ে যেতে বলেছে। কিন্তু অপর দু'জন অকৃতজ্ঞতা দেখায়। দাবি করে বসে, আগে থেকেই তারা ধনী ছিল। তারা তাকে কিছুই দিল না। নানারকম খরচের অজুহাত দেখাল, যেমনটা সবকালের কৃপণরা করে থাকে। তারা চিন্তা করেনি ধন-সম্পদ ও আরোগ্য দিয়ে আল্লাহ তা'আলা হয়তো তাদের পরীক্ষা করছেন যে, তারা শোকর আদায় করে কি না। আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে নানাভাবেই পরীক্ষা করে থাকেন। কখনও পরীক্ষা করেন সুস্থতা দিয়ে, কখনও অসুস্থতা দিয়ে। কখনও পরীক্ষা করেন দারিদ্র্য দিয়ে, কখনও ধন-সম্পদ দিয়ে। কখনও পরীক্ষা করেন ভয়-ভীতির সম্মুখীন করে, কখনও স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিয়ে। এক অবস্থায় কাম্য সবর করা, অন্য অবস্থায় শোকর আদায় করা। তা করতে পারলেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা অকৃতজ্ঞতা দেখিয়ে আল্লাহর পরীক্ষায় ফেল করেছে। এর জন্য আখিরাতে যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা তো রয়েছেই, দুনিয়ায়ও তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
ফিরিশতা তাদের বলল, তোমরা যদি তোমাদের দাবিতে মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ তা'আলা যেন তোমাদেরকে আগের মতই করে দেন। সন্দেহ নেই আল্লাহ তা'আলা তাঁর দু'আ কবুল করেছিলেন। আগেও তো তাঁর দু'আ কবুল করে তাদের সুস্থ করেছিলেন এবং ধন-সম্পদের মালিক বানিয়ে দিয়েছিলেন। এবারও তাঁর দু'আ বৃথা যাওয়ার কথা নয়। ফলে হয়তো আগের মত কুষ্ঠী ও টেকো হয়ে যায় এবং ধন-সম্পদ হারিয়ে ফকীর বনে যায়। অকৃতজ্ঞের পরিণাম এমনই হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদে ইরশাদ-
لين شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَبِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيد
“তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদেরকে আরও বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে জেনে রেখ আমার শাস্তি অতি কঠিন।”
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
এ হাদীছে আমাদের জন্য বহু শিক্ষা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে।
ক. সুস্থতা-অসুস্থতা এবং দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতাকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে দেখা উচিত। সেই হিসেবে এক অবস্থায় কর্তব্য ধৈর্যধারণ করা, অন্য অবস্থায় শোকর আদায় করা।
খ. নিজের অতীত কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান অবস্থাকে শোধরানোর চেষ্টা করা উচিত। অকৃতজ্ঞতার পরিণাম হয় অত্যন্ত অশুভ।
গ. কৃতজ্ঞতা দ্বারা নি'আমত বৃদ্ধি পায়।
ঘ. কৃপণতা একটি কঠিন আত্মিক ব্যাধি। এর ফলে মানুষ নাশোকরিতে লিপ্ত হয় ও মিথ্যাচার করে। সুতরাং কৃপণতা পরিহার করা উচিত।
ঙ. বিশ্বাস করা উচিত যে, নিজ অর্থ-সম্পদে গরীবেরও হক আছে। প্রত্যেকের কর্তব্য সে হক আদায়ে যত্নবান থাকা এবং কখনও কাউকে বঞ্চিত না করা।
চ. অন্তরে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ধ্যান জাগরুক রাখা উচিত। তিনিই সবকিছুর প্রকৃত দাতা- এ কথা স্মরণ রাখলে নিজের জান-মাল সবকিছু তাঁর হুকুম মোতাবেক ব্যবহার করা সহজ হয়।
এ হাদীছে তাদের তিন ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা পরীক্ষা করেছিলেন। তিনজনই ছিল নিতান্ত গরীব এবং একেকজন একেক রোগে আক্রান্ত। মানুষ তাদের ঘৃণা করত। আল্লাহ তা'আলা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে দেন। প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে যায়। হয়ে যায় অনেক সম্পদের মালিক। এ পরিবর্তনের জন্য তাদের কর্তব্য ছিল আল্লাহর শোকর আদায় করা। প্রত্যেকের উচিত ছিল অতীতের দুরাবস্থার কথা স্মরণ রেখে বর্তমান সুখের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করা ও আপন আপন সম্পদের হক আদায় করা। কিন্তু এ কর্তব্যকর্ম তাদের মধ্যে মাত্র একজনই উপলব্ধি করেছিল। সে যথারীতি আল্লাহর শোকরগুযারী করে এবং আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ থেকে আল্লাহ ও বান্দার হক আদায়ে যত্নবান থাকে। কিন্তু বাকি দু'জন ছিল এর বিপরীত। অবস্থা পরিবর্তনের পর তারা বিগত জীবনের কথা মনে রাখেনি। তারা যে একদিন গরীব ছিল, ছিল মারাত্মক রোগে আক্রান্ত, তা বেমালুম ভুলে যায়। সম্পদের মোহে পড়ে ভুলে যায় তার প্রকৃত দাতা আল্লাহ তা'আলাকেও। ফিরিশতা এসে যখন তাদের কাছে সাহায্য চাইল, তখন সাহায্য তো করলই না, উল্টো তাদের অতীত দিনের কথা মনে করিয়ে দিলে দাবি করে বসল, তারা বাপ-দাদার আমল থেকেই ধন-দৌলতের মালিক। হঠাৎ করে ধনী হয়ে যায়নি। এ যেন কারূনের কথারই প্রতিধ্বনি। তাকে যখন তার সম্পদ থেকে গরীব-দুঃখীকে দান করতে বলা হল, সে ধৃষ্টতা দেখিয়ে বলেছিল কেন তা করবে? সে তো ধন-দৌলতের মালিক নিজ বিদ্যা-বুদ্ধি বলেই হয়েছে। তার প্রতি এটা কারও দান নয়। কুরআন মাজীদে তার কথা বর্ণিত হয়েছে-
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي
"সে বলল, এসব তো আমি আমার জ্ঞানবলে লাভ করেছি।"
অর্থাৎ এ সম্পদ আমি আল্লাহর কাছ থেকে পাইনি। এ দুই ব্যক্তিও বলল, এ সম্পদ পুরুষানুক্রমে পেয়েছি। অর্থাৎ তাতে যেন আল্লাহর কোনও হাত নেই। কত বড় অকৃতজ্ঞতা! তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ ছিল। ফিরিশতা তাদের প্রত্যেকের কাছে এসেছিলেন তাদের অতীত রূপ ও অতীত বেশভূষা নিয়ে। অন্ধের কাছে অন্ধ হয়ে, কুষ্ঠীর কাছে কুষ্ঠীরূপে এবং টেকোর কাছে টেকোবেশে। এ রূপ দেখে তারা মনে করতে পারত, একদিন তারাও এরকম ছিল। তাদের কিছুই ছিল না। নিতান্তই দরিদ্র ছিল। আল্লাহ তা'আলাই নিজ করুণায় তাদের রোগমুক্তিও দান করেছেন এবং দিয়েছেন অঢেল সম্পদ। অন্ধ লোকটি তা ঠিকই মনে করেছিল এবং স্বীকার করেছিল একদিন সে নিতান্ত গরীব ছিল। ছিল অন্ধ। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় তার অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। তারপর সে সাহায্য প্রার্থীকে খালি হাতেও ফিরিয়ে দেয়নি। তাকে তার যা দরকার, নিজ ইচ্ছামত নিয়ে যেতে বলেছে। কিন্তু অপর দু'জন অকৃতজ্ঞতা দেখায়। দাবি করে বসে, আগে থেকেই তারা ধনী ছিল। তারা তাকে কিছুই দিল না। নানারকম খরচের অজুহাত দেখাল, যেমনটা সবকালের কৃপণরা করে থাকে। তারা চিন্তা করেনি ধন-সম্পদ ও আরোগ্য দিয়ে আল্লাহ তা'আলা হয়তো তাদের পরীক্ষা করছেন যে, তারা শোকর আদায় করে কি না। আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে নানাভাবেই পরীক্ষা করে থাকেন। কখনও পরীক্ষা করেন সুস্থতা দিয়ে, কখনও অসুস্থতা দিয়ে। কখনও পরীক্ষা করেন দারিদ্র্য দিয়ে, কখনও ধন-সম্পদ দিয়ে। কখনও পরীক্ষা করেন ভয়-ভীতির সম্মুখীন করে, কখনও স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিয়ে। এক অবস্থায় কাম্য সবর করা, অন্য অবস্থায় শোকর আদায় করা। তা করতে পারলেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা অকৃতজ্ঞতা দেখিয়ে আল্লাহর পরীক্ষায় ফেল করেছে। এর জন্য আখিরাতে যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা তো রয়েছেই, দুনিয়ায়ও তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
ফিরিশতা তাদের বলল, তোমরা যদি তোমাদের দাবিতে মিথ্যুক হও, তবে আল্লাহ তা'আলা যেন তোমাদেরকে আগের মতই করে দেন। সন্দেহ নেই আল্লাহ তা'আলা তাঁর দু'আ কবুল করেছিলেন। আগেও তো তাঁর দু'আ কবুল করে তাদের সুস্থ করেছিলেন এবং ধন-সম্পদের মালিক বানিয়ে দিয়েছিলেন। এবারও তাঁর দু'আ বৃথা যাওয়ার কথা নয়। ফলে হয়তো আগের মত কুষ্ঠী ও টেকো হয়ে যায় এবং ধন-সম্পদ হারিয়ে ফকীর বনে যায়। অকৃতজ্ঞের পরিণাম এমনই হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদে ইরশাদ-
لين شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَبِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيد
“তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদেরকে আরও বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞতা কর, তবে জেনে রেখ আমার শাস্তি অতি কঠিন।”
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
এ হাদীছে আমাদের জন্য বহু শিক্ষা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে।
ক. সুস্থতা-অসুস্থতা এবং দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতাকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে দেখা উচিত। সেই হিসেবে এক অবস্থায় কর্তব্য ধৈর্যধারণ করা, অন্য অবস্থায় শোকর আদায় করা।
খ. নিজের অতীত কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান অবস্থাকে শোধরানোর চেষ্টা করা উচিত। অকৃতজ্ঞতার পরিণাম হয় অত্যন্ত অশুভ।
গ. কৃতজ্ঞতা দ্বারা নি'আমত বৃদ্ধি পায়।
ঘ. কৃপণতা একটি কঠিন আত্মিক ব্যাধি। এর ফলে মানুষ নাশোকরিতে লিপ্ত হয় ও মিথ্যাচার করে। সুতরাং কৃপণতা পরিহার করা উচিত।
ঙ. বিশ্বাস করা উচিত যে, নিজ অর্থ-সম্পদে গরীবেরও হক আছে। প্রত্যেকের কর্তব্য সে হক আদায়ে যত্নবান থাকা এবং কখনও কাউকে বঞ্চিত না করা।
চ. অন্তরে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ধ্যান জাগরুক রাখা উচিত। তিনিই সবকিছুর প্রকৃত দাতা- এ কথা স্মরণ রাখলে নিজের জান-মাল সবকিছু তাঁর হুকুম মোতাবেক ব্যবহার করা সহজ হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
