মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৫- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫১৩
- নামাযের অধ্যায়
৫৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - ঝড় তুফানের সময়
১৫১৩। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, যখন ঝঞ্ঝা বহিতে আরম্ভ করিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিতেন, “হে খোদা! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করিতেছি ইহার ভাল দিক, ইহাতে যাহা ভাল রহিয়াছে তাহা এবং ইহা যে উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হইয়াছে তাহার ভাল দিক এবং আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাহিতেছি ইহার মন্দ হইতে, ইহাতে যাহা মন্দ রহিয়াছে তাহা হইতে এবং ইহা যে উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হইয়াছে তাহার মন্দ হইতে।" (আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইত তাহার রং পরিবর্তিত হইয়া যাইত এবং তিনি (বিপদের আশংকায়) একবার বাহিরে যাইতেন একবার ভিতরে প্রবেশ করিতেন এবং একবার সম্মুখে অগ্রসর হইতেন একবার পিছনে সরিতেন। অতঃপর যখন স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টি হইত, তাঁহার চেহারা খোশ হইয়া উঠিত। (রাবী বলেন, একবার আয়েশা (রাঃ) তাহা বুঝিতে পারিলেন এবং তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। উত্তরে তিনি বলিলেন: হে আয়েশা। ইহা এমনও তো হইতে পারে, যেমন আদ কওম ভাবিয়াছিল। (আল্লাহ্ পাক কোরআনে বলেন, )

"তাহারা যখন উহাকে তাহাদের মাঠের দিকে আসিতে দেখিল, বলিল, ইহা তো মেঘ, আমাদের প্রতি পানি বর্ষাইবে। "
অপর বর্ণনায় রহিয়াছে, হুযূর (ছাঃ) যখন স্বাভাবিক বৃষ্টি দেখিতেন, বলিতেন, (আল্লাহর) রহমত। মোত্তাঃ
كتاب الصلاة
بَابٌ فِي الرِّيَاحِ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ» وَإِذَا تَخَيَّلَتِ السَّمَاءُ تَغَيَّرَ لَونه وحرج وَدَخَلَ وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ فَعَرَفَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ فَسَأَلَتْهُ فَقَالَ: لَعَلَّهُ يَا عَائِشَةُ كَمَا قَالَ قَوْمُ عَادٍ: (فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا: هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا)

وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَقُولُ إِذَا رَأَى الْمَطَرَ «رَحْمَةً»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. আয়াতের বাকী অংশটি এই—

بَلْ هو ما اسْتَعْجَلْتُمْ بِهِ رِيحٌ فِيها عَذابٌ ألِيمٌ احقاف ٢٤

(আল্লাহ্ বলেন, না, না) “বরং উহা তাহাই যাহা তোমরা তাড়াতাড়ি চাহিতেছিলে, উহাতে (তোমাদের জন্য) কঠিন শাস্তি রহিয়াছে।” (সূরা আহকাফ, আয়াত, ২৪)

২. আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)