মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩২৪
- নামাযের অধ্যায়
৩৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নফল সালাত
সালাতুল এস্তেগফারঃ
১৩২৪। হযরত আলী মোরতাযা (রাঃ) বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলিয়াছেন—আর তিনি সত্য বলিয়াছেন—তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলিতে শুনিয়াছি, যে কোন ব্যক্তি কোন গোনাহ্ করিবে অতঃপর উঠিয়া (ওযূ গোসল দ্বারা) আবশ্যক পাকী লাভ করিবে এবং কিছু নফল নামায পড়িবে, তৎপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে, আল্লাহ্ নিশ্চয় তাহার গোনাহ্ ক্ষমা করিয়া দিবেন। অতঃপর হুযূর (ﷺ) এই আয়াত পাঠ করিলেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذكرُوا الله فاستغفروا لذنوبهم
“এবং যাহারা—যখন কোন গোনাহের কাজ করে, অথবা নিজেদের প্রতি যুলম করে, আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।” – তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্। কিন্তু ইবনে মাজাহ্ আয়াতের উল্লেখ করেন নাই।
১৩২৪। হযরত আলী মোরতাযা (রাঃ) বলেন, আমাকে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলিয়াছেন—আর তিনি সত্য বলিয়াছেন—তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলিতে শুনিয়াছি, যে কোন ব্যক্তি কোন গোনাহ্ করিবে অতঃপর উঠিয়া (ওযূ গোসল দ্বারা) আবশ্যক পাকী লাভ করিবে এবং কিছু নফল নামায পড়িবে, তৎপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে, আল্লাহ্ নিশ্চয় তাহার গোনাহ্ ক্ষমা করিয়া দিবেন। অতঃপর হুযূর (ﷺ) এই আয়াত পাঠ করিলেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذكرُوا الله فاستغفروا لذنوبهم
“এবং যাহারা—যখন কোন গোনাহের কাজ করে, অথবা নিজেদের প্রতি যুলম করে, আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।” – তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্। কিন্তু ইবনে মাজাহ্ আয়াতের উল্লেখ করেন নাই।
كتاب الصلاة
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ. قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ثُمَّ يُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ الله لَهُ ثمَّ قَرَأَ هَذِه الاية: (وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذكرُوا الله فاستغفروا لذنوبهم)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَّا أَنَّ ابْنَ مَاجَه لم يذكر الْآيَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَّا أَنَّ ابْنَ مَاجَه لم يذكر الْآيَة
হাদীসের ব্যাখ্যা:
গুনাহ ক্ষমা করার বিষয় সম্বলিত যে আয়াত রাসূলুল্লাহ ﷺ পাঠ করেছেন তা সূরা আলে ইমরানের অন্তর্ভুক্ত। এ আয়াতে আল্লাহর ঐ সকল বান্দার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যাদের জন্য বিশেষভাবে জান্নাত তৈরি করে রাখা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে:
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
"এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।" (৩, সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬০)
যে সকল লোক পাপ কাজকে অভ্যাসে বা পেশায় পরিণত করে না আলোচ্য হাদীসে সে সকল গুনাহগারদেরকে ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বরং তাদের অবস্থা এই যে, যখন তাদের দ্বারা কবীরা কিংবা সগীরা গুনাহ সংঘটিত হয় তখন ভীষণভাবে লজ্জিত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে এও বলেছেন যে, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল এই, উযূ করে প্রথমে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কাজেই কেউ যদি এরূপ করে আল্লাহ্ তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন।
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135) أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
"এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না। এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।" (৩, সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬০)
যে সকল লোক পাপ কাজকে অভ্যাসে বা পেশায় পরিণত করে না আলোচ্য হাদীসে সে সকল গুনাহগারদেরকে ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বরং তাদের অবস্থা এই যে, যখন তাদের দ্বারা কবীরা কিংবা সগীরা গুনাহ সংঘটিত হয় তখন ভীষণভাবে লজ্জিত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়ে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে এও বলেছেন যে, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হল এই, উযূ করে প্রথমে দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নিজ গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কাজেই কেউ যদি এরূপ করে আল্লাহ্ তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)