মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩২২
- নামাযের অধ্যায়
৩৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - নফল সালাত।
[তাহিয়্যাতুল ওযূ, সালাতুত্ তসবীহ্, সালাতুল এস্তেগফার ও এস্তেখারার দো'আ]
[তাহিয়্যাতুল ওযূ, সালাতুত্ তসবীহ্, সালাতুল এস্তেগফার ও এস্তেখারার দো'আ]
তাহিয়্যাতুল ওযূঃ
১৩২২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় বেলালকে বলিলেনঃ বেলাল! বল দেখি, মুসলমান হইয়া তুমি এমন কোন্ কাজ করিয়াছ যাহার সওয়াবের আশা তুমি অধিক করিতে পার ? কেননা, আমি তোমার জুতার শব্দ বেহেশতে আমার সম্মুখে শুনিতে পাইয়াছি তখন বেলাল বলিলেন, হুযূর, আমি এছাড়া এমন কোন কাজ করি নাই যাহা আমার নিকট অধিক সওয়াবের কারণ হইতে পারে। আমি রাত্রি বা দিনের যে কোন সময়েই ওযূ করিয়াছি তখনই সেই ওযূ দ্বারা নামায পড়িয়াছি, যাহা (আল্লাহর পক্ষ হইতে) আমাকে তৌফীক দেওয়া হইয়াছে। (অর্থাৎ, আমি সর্বদা ওযূর পর দুই রাকআত 'তাহিয়্যাতুল ওযূ'র নামায পড়িতে চেষ্টা করিয়াছি।) — মোত্তাঃ
এস্তেখারার নিয়ম ও দো'আঃ
এস্তেখারা শব্দের অর্থ হইল, কাহারও নিকট মঙ্গলের প্রার্থনা করা। এখানে ইহার অর্থ, আল্লাহর নিকট কোন বিশেষ কাজে এক বিশেষ নিয়মে প্রার্থনা করা।
১৩২২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় বেলালকে বলিলেনঃ বেলাল! বল দেখি, মুসলমান হইয়া তুমি এমন কোন্ কাজ করিয়াছ যাহার সওয়াবের আশা তুমি অধিক করিতে পার ? কেননা, আমি তোমার জুতার শব্দ বেহেশতে আমার সম্মুখে শুনিতে পাইয়াছি তখন বেলাল বলিলেন, হুযূর, আমি এছাড়া এমন কোন কাজ করি নাই যাহা আমার নিকট অধিক সওয়াবের কারণ হইতে পারে। আমি রাত্রি বা দিনের যে কোন সময়েই ওযূ করিয়াছি তখনই সেই ওযূ দ্বারা নামায পড়িয়াছি, যাহা (আল্লাহর পক্ষ হইতে) আমাকে তৌফীক দেওয়া হইয়াছে। (অর্থাৎ, আমি সর্বদা ওযূর পর দুই রাকআত 'তাহিয়্যাতুল ওযূ'র নামায পড়িতে চেষ্টা করিয়াছি।) — মোত্তাঃ
এস্তেখারার নিয়ম ও দো'আঃ
এস্তেখারা শব্দের অর্থ হইল, কাহারও নিকট মঙ্গলের প্রার্থনা করা। এখানে ইহার অর্থ, আল্লাহর নিকট কোন বিশেষ কাজে এক বিশেষ নিয়মে প্রার্থনা করা।
كتاب الصلاة
بَابُ التَّطَوُّعِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلَالٍ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ: «يَا بِلَالُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عمل عملته فِي الْإِسْلَام فَإِنِّي سَمِعت دق نعليك بَين يَدي الْجَنَّةِ» . قَالَ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا أَرْجَى عِنْدِي أَنِّي لم أتطهر طهُورا مِنْ سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلَا نَهَارٍ إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أُصَلِّيَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক জান্নাতে হযরত বিলাল (রা)-এর পদধ্বনি শোনার বিষয়টি স্বপ্নে দেখা একটি ঘটনা। ১. এ বিষয়ে এজন্য জানিয়ে দেয়া হল যে, জীবিত থাকা অবস্থায় হযরত বিলাল (রা) কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করলেন, সে প্রশ্ন যাতে উত্থাপিত না হয়। তবে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, নবী কারীম ﷺ কর্তৃক হযরত বিলাল (রা) কে জান্নাতে দেখা এবং তার বিবরণ দান একথারই সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত বিলাল (রা) জান্নাতী। বরং তিনি প্রথম শ্রেণীর জান্নাতীদের অন্যতম।
এ হাদীসের আধ্যাত্মিক দিক হলো এই যে, মানুষ যখনই উযূ করে তখনই যেন সে তার সাধ্য অনুসারে সালাত আদায় করে, চাই ফরয হোক কি নফল কিংবা সুন্নাত।
১. যে সকল বিবেচনায় বিষয়টিকে নবী কারীম ﷺ এর স্বপ্ন বলে বর্ণনা করা হয়েছে তার সবিস্তার বিবরণ জানার জন্য ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য।
এ হাদীসের আধ্যাত্মিক দিক হলো এই যে, মানুষ যখনই উযূ করে তখনই যেন সে তার সাধ্য অনুসারে সালাত আদায় করে, চাই ফরয হোক কি নফল কিংবা সুন্নাত।
১. যে সকল বিবেচনায় বিষয়টিকে নবী কারীম ﷺ এর স্বপ্ন বলে বর্ণনা করা হয়েছে তার সবিস্তার বিবরণ জানার জন্য ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)