মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৩৫
- নামাযের অধ্যায়
১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সালাতে ক্বিরাআতের বর্ণনা
৮৩৫। হযরত জাবের ইবনে সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী পাক (ﷺ) ফজরের নামাযে সূরা কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ এবং অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন এবং অনান্য নামায এর তুলনায় সংক্ষেপ হত। -মুসলিম
كتاب الصلاة
بَابُ الْقِرَاءَةِ فِى الصَّلَاةِ
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ ب (ق وَالْقُرْآن الْمجِيد)
وَنَحْوِهَا وَكَانَتْ صَلَاتُهُ بَعْدُ تَخْفِيفًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَنَحْوِهَا وَكَانَتْ صَلَاتُهُ بَعْدُ تَخْفِيفًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ব্যাখ্যাকারগণ হাদীসের শেষ অংশের দু'টি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ১. ফজরের সালাত ব্যতীত তাঁর অপরাপর সালাত যথাক্রমে যুহর, আসর মাগরিব ও এশা সংক্ষিপ্ত ও হালকা হতো এবং ফজর ব্যতীত এসব সালাতে কম কিরা'আত পাঠ করতেন। ২. প্রাক ইসলামী যুগে যখন সাহাবীদের সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল এবং নবী কারীম ﷺ এর পেছনে বিশেষত প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবীগণ জামা'আতে শরীক হতেন, তাই স্বভাবত তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন। তারপর যখন মুসল্লী সংখ্যা বেড়ে গেল এবং তাদের মধ্যে দ্বিতীয় তৃতীয় মর্যাদার মু'মিনগণ শরীক হতে লাগল তখন তিনি তুলনামূলকভাবে সালাত সংক্ষিপ্ত ও হালকা করতে লাগলেন। জামা'আতে মুসল্লী সংখ্যা ক্রমে বেড়ে যাওয়ার ফলে এই আশংকা দেখা দেয় যে, তাদের মধ্যে কতিপয় রোগী, দুর্বল, বয়োবৃদ্ধ হতে পারে, যাদের জন্য দীর্ঘ কিরা'আত খুব কষ্টকর। যদিও উভয় ব্যাখ্যাই বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক। তথাপি অধমের ধারণায় দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)