মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৩- ইলমের অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৫
- ইলমের অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৫। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, রোজ কিয়ামতে প্রথমে যার বিচার হবে, সে একজন শাহাদতপ্রাপ্ত লোক। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ পাক তাকে (দুনিয়ায় প্রদত্ত) নিজ নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আর তারও তা স্মরণে আসবে। তারপর আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে, (এই নিয়ামতের বিনিময়ে) তুমি দুনিয়ায় কি কাজ করেছ? সে বলবে, তোমার উদ্দেশ্যে তোমার রাস্তায় জিহাদ করেছি। এমন কি শেষ পর্যন্ত আমি শাহাদত বরণ করেছি। তখন আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি যুদ্ধ করেছিলে মানুষ তোমাকে বীর বাহাদুর বলবে এই উদ্দেশ্যে। আর তা তোমাকে বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে। তখন তাকে উপুড় অবস্থায় টেনে নিয়ে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি হল যে ইলম শিখেছে এবং অপরকেও তা শিখিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে, তাকে দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ প্রথমে তাকে নিজ প্রদত্ত নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন এবং তারও স্মরণে আসবে। তখন আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এই সকল নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনস্বরূপ তুমি কি করেছ? সে বলবে, আমি তোমার ইলম শিখেছি এবং অপরকেও শিখিয়েছি, আর তোমার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরআন পাঠ করেছি। তখন আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি ইলম শিখিয়েছিলে এই উদ্দেশ্যে যে, তোমাকে আলিম বলা হবে, আর কুরআন পাঠ করেছিলে এই উদ্দেশ্যে , তোমাকে কারী বলা হবে। আর তা তোমাকে বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে দোযখে ফেলে দেয়া হবে।
তৃতীয় ব্যক্তি হল, যাকে আল্লাহ্ বহু সম্পদ দান করেছিলেন এবং সে নানাভাবে দান খয়রাতও করেছিল। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ তাকে স্বীয় নিয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। তারও তা স্মরণে আসবে। অতঃপর আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, (আমার প্রদত্ত) এই সকল নিয়ামতের শোকরস্বরূপ তুমি কি করেছ? সে বলবে, যে সকল রাস্তায় দান করলে তুমি খুশী হও, তেমন কোন রাস্তায়ই দান করতে আমি বাকী রাখিনি। তখন আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; বরং তুমি দান করেছ এই উদ্দেশ্যে যে তোমাকে একজন দানশীল বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে। তখন তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে দোযখে ফেলে দেওয়া হবে। -মুসলিম
كتاب العلم
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِن أول النَّاس يقْضى عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أَمر بِهِ فسحب على وَجهه حَتَّى ألقِي فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعلم ليقال عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহর পথে জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করা, আল্লাহর দীনের ইলম হাসিল করা ও তা মানুষকে শিক্ষা দান করা এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ মুক্তহস্তে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়া মহান ইবাদত। এ গুরুত্বপূর্ণ কুরবানীর প্রতিদানও মহান। আল্লাহ কিয়ামতের দিন শহীদ, আলিম এবং দাতাকে খুব সম্মানিত করবেন। তিনি তাদেরকে জান্নাতের বুলন্দ মাকাম দান করবেন। কিন্তু দুনিয়ার যিন্দেগীতে উল্লিখিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের জন্য বিরাট কুরবানী দান করা সত্ত্বেও কোন কোন লোক কিয়ামতের দিন দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। নেক কাজ করার পেছনে দুনিয়ার যশ ও সুখ্যাতির মোহ থাকার কারণে তারা কোন সওয়াব লাভ করা তো দূরের কথা, আল্লাহর ক্রোধ ও আযাব ভোগ করবে। বস্তুত রিয়া মানুষের মহান ইবাদতকে ধ্বংসে ও বরবাদ করে দেয়।

আল্লাহ রিয়াকারীদের প্রতি এতবেশি নারায ও রাগান্বিত যে, তিনি কিয়ামতের দিন কাফির, ফাজির, মুশরিক, চোর, বদমায়েশ, ব্যভিচারী প্রভৃতি মারাত্মক অপরাধীদের বিচার করার পূর্বে রিয়াকারীদের বিচার করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে রিয়া থেকে রক্ষা করুন। আমীন-সুম্মা আমীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)