মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২- ঈমানের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৫
- ঈমানের অধ্যায়
২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৫। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শয়তান তোমাদের নিকট আসে অতঃপর বলে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? ওটা কে সৃষ্টি করেছে? অবশেষে বলে, তোমার প্রভুকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন এ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন সে যেন আল্লাহর পানাহ চায় এবং এ থেকে বিরত থাকে। (বোখারী, মুসলিম)
كتاب الإيمان
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خلق كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

শয়তান মানুষের মনে ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি করে। কুরআন শরীফে সূরা নাস-এ বলা হয়েছে, জীন শয়তান এবং মানুষ শয়তান মানুষের মনে ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি করে। আল্লাহ্ তামাম দুনিয়া, জাহান এবং তার যাবতীয় জিনিসের স্রষ্টা।

ইমাম নাসাঈ, ইমাম আহমদ ও ইবনে হিব্বান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রা)-এর হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেন। আমি (আবু যর) নবী করীম (ﷺ)-এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। তিনি বললেনঃ আবু যর। তুমি কি, নামায পড়েছ? আমি বললাম না। তিনি বললেন: উঠ এবং নামায পড়। তাঁর নির্দেশ মত আমি নামায পড়লাম এবং পরে এসে বসলাম। নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ

یا أبا ذر تعوذ بالله من شر شياطين الانس والجن -

-হে আবু যর। মানুষ শয়তান ও জীন শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। আমি জানতে চাইলাম, হে আল্লাহর রাসূল। মানুষের মধ্যে কি শয়তান হয়? তিনি বললেনঃ হাঁ।

[বিঃদ্রঃ হাদীসে যে ধরনের পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে এবং নিজের মন থেকে ওয়াসওয়াসা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।]
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)