আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৯১৫
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৪০৮. লোকজন মেঘমালা দর্শনে কি বলিবে?
৯১৫. হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) যখন মেঘের ঘনঘটা লক্ষ্য করিতেন তিনি (অধীরভাবে) ক্ষণে ঘরে আসিতেন, ক্ষণে বাহিরে যাইতেন, ক্ষণে এদিকে, ক্ষণে ওদিকে ছুটাছুটি করিতে থাকিতেন এবং তখন তাহার চেহারা বিবর্ণ হইয়া যাইত, যখন বৃষ্টি হইত তখন তাঁহার মুখে হাসির লক্ষণ ফুটিয়া উঠিত।
রাবী আতা বলেন, একদা হযরত আয়েশা (রাযিঃ) নবী করীমের চিন্তা দূরীভূত হইয়াছে দেখিয়া তাঁহার এই অস্থিরতার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। তখন জবাবে নবী করীম (ﷺ) বলিলেনঃ কি জানি এমনও তো হইতে পারে যে, আল্লাহ্ তাআলা যে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ (فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ) “অতঃপর তাহারা যখন মেঘরাশিকে তাহাদের প্রান্তর অভিমুখী লক্ষ্য করিল” ....। ১
রাবী আতা বলেন, একদা হযরত আয়েশা (রাযিঃ) নবী করীমের চিন্তা দূরীভূত হইয়াছে দেখিয়া তাঁহার এই অস্থিরতার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। তখন জবাবে নবী করীম (ﷺ) বলিলেনঃ কি জানি এমনও তো হইতে পারে যে, আল্লাহ্ তাআলা যে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ (فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ) “অতঃপর তাহারা যখন মেঘরাশিকে তাহাদের প্রান্তর অভিমুখী লক্ষ্য করিল” ....। ১
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا رَأَى غَيْمًا
حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى مَخِيلَةً دَخَلَ وَخَرَجَ، وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ، فَإِذَا مَطَرَتِ السَّمَاءُ سُرِّيَ، فَعَرَّفَتْهُ عَائِشَةُ ذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: وَمَا أَدْرِي لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: (فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ).
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. পূর্ণ আয়াতখানা হইলঃ
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُمْ بِهِ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا لَا يُرَى إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ
“অতঃপর তাহারা যখন মেঘরাশিকে তাহাদের প্রান্তর অভিমুখী লক্ষ্য করিল, তখন তাহারা বলিয়া উঠিলঃ আমাদের জন্য বৃষ্টি সমাগত। (উহা বৃষ্টি তো নহে) বরং উহা হইতেছে সেই আযাব যাহার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করিতেছিলে। প্রচণ্ড এক বায়ু উহাতে রহিয়াছে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক আযাব উহার প্রভুর আদেশে উহা সবকিছুকে তছনছ করিয়া ফেলিবে। ফলত তাহারা এইরূপ হইয়া গেল যে, তাহাদের বাসস্থানসমূহ ছাড়া আর কিছুই চোখে দেখা যাইতেছিল না। এই ভাবেই অনাচারী সম্প্রদায়কে আমি প্রতিফল দিয়া থাকিলাম”। (সূরা আহকাফঃ ২৪ ও ২৫)
২. আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُمْ بِهِ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا لَا يُرَى إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ
“অতঃপর তাহারা যখন মেঘরাশিকে তাহাদের প্রান্তর অভিমুখী লক্ষ্য করিল, তখন তাহারা বলিয়া উঠিলঃ আমাদের জন্য বৃষ্টি সমাগত। (উহা বৃষ্টি তো নহে) বরং উহা হইতেছে সেই আযাব যাহার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করিতেছিলে। প্রচণ্ড এক বায়ু উহাতে রহিয়াছে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক আযাব উহার প্রভুর আদেশে উহা সবকিছুকে তছনছ করিয়া ফেলিবে। ফলত তাহারা এইরূপ হইয়া গেল যে, তাহাদের বাসস্থানসমূহ ছাড়া আর কিছুই চোখে দেখা যাইতেছিল না। এই ভাবেই অনাচারী সম্প্রদায়কে আমি প্রতিফল দিয়া থাকিলাম”। (সূরা আহকাফঃ ২৪ ও ২৫)
২. আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)