আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৯- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৪৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৯৭
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
২০৮৬. উসমান ইবনে আফফান আবু আমর কুরাইশী (রাযিঃ) এর ফযীলত ও মর্যাদা।
৩৪৩২। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী কারীম (ﷺ)- এর যামানায় (মর্যাদায়) আবু বকর (রাযিঃ)- এর সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, তারপর উমর (রাযিঃ)- কে, তারপর উসমান (রাযিঃ)- কে (মর্যাদা দিতাম), তারপর সাহাবাগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর প্রাধান্য দিতাম না। আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ (রাহঃ) আব্দুল আযীয (রাহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় শাযান (রাহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
كتاب المناقب
باب مَنَاقِبُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَبِي عَمْرٍو الْقُرَشِيِّ رضى الله عنه
3697 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا شَاذَانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ [ص:15] أَبِي سَلَمَةَ المَاجِشُونُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا، ثُمَّ عُمَرَ، ثُمَّ عُثْمَانَ، ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لاَ نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ» تَابَعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের উদ্দেশ্য বাহ্যতঃ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে তাঁর কর্মধারা ও আচরণ দেখে আমরা এটা বুঝতাম যে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর রাযি.। তাঁর পরে উমর রাযি. এবং তাঁর পরে উসমান রাযি.। এ তিনজনই বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে হুযুর (ﷺ) অধিকাংশ সময় তাঁদের সাথেই পরামর্শ করতেন। হযরত আলী রাযি. হুযূর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় কম বয়সী ছিলেন। তিনি ঐ সময় ঐ কাতারে ছিলেন না। যদিও এ তিন জনের পর তিনি নিঃসন্দেহে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং কোন কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে তার অবস্থান অনেক উর্ধ্বে।

এখানে এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যটি ব্যক্তি সম্পর্কে, শ্রেণী ও গুণের দৃষ্টিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে মর্যাদা ও স্তর রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এ বিষয়টি সামনে আনেননি। যেমন, আশারা মুবাশশারা, আসহাবে বদর, আসহাবে বায়আতে রেযওয়ান এবং মুহাজির-আনসারদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যে তাদের মর্যাদার প্রতি কোন অস্বীকৃতি নেই। তিনি যা বলেছেন, এর সম্পর্ক ঐ বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদার সাথে, যা হুযুর (ﷺ)-এর যুগে এ তিন মনীষীর অর্জিত ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)