আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ৬৪৯
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
২৮১- নবী করীম (ﷺ)-এর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও যে দরূদ পড়ে না
৬৪৯. হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি একবার আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা তাহার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي الْعَلاءُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরে বলা হয়েছে যে, সালাত অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিশেষ দানকে যেমন সালাত বলা হয়ে থাকে, তেমনি ঈমানদার বান্দাদের প্রতি সাধারণভাবে তাঁর যে রহমত ও করুণা বর্ষিত হয়ে থাকে, তার জন্যেও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ জন্যে হাদীসে ঐ রহমত ও দানের ব্যাপারেও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে-যা দরূদ ও সালামের বিনিময়ে মু'মিন বান্দাদের প্রতি বর্ষিত হয়ে থাকে। বলা হয়েছে : صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ عَشْرًا অর্থাৎ আল্লাহ তার প্রতি দশবার সালাত বর্ষণ করেন। বলাবাহুল্য, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আল্লাহর যে সালাত, অন্য যে কারো প্রতি বর্ষিত সালাতের তুলনায় এ দুই সালাতের পার্থক্য ততটুকুই হবে, যতটুকু পার্থক্য রয়েছে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং ঐ মু'মিন বান্দার মর্যাদার মধ্যে।

পরবর্তী কোন কোন হাদীসের দ্বারা জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আমাদের বান্দাদের সালাত প্রেরণের অর্থ হবে আল্লাহ তা'আলার নিকট সালাত প্রেরণের দু'আ করা।

এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটি হাকীকত বা ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করাই কেবল এ হাদীসের উদ্দেশ্য নয়; বরং ঐ মুবারক ও বরকতপূর্ণ আমল (অর্থাৎ নবীর প্রতি দরূদ)-এর প্রতি উৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য- যা আল্লাহ তা'আলার সালাত, তখন তাঁর খাস রহমত হাসিল করা এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রূহানী নৈকট্য লাভে ধন্য হওয়ার ওসীলাস্বরূপ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান