আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৪৯৭
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
২২৭- গভীর রাতে রোগীকে দেখতে যাওয়া।
৪৯৭। হযরত খালিদ ইব্ন রাবী বলেনঃ যখন হযরত হুযায়ফা (রাযিঃ) মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হইল এবং উহার সংবাদ তাঁহার পরিবারের লোকজন ও আনসারদের নিকট পৌছিল তখন তাঁহারা গভীর রাত্রে অথবা ভোর রাত্রের দিকে তাঁহার মৃত্যুশয্যায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহা রাত্রির কোন্ ভাগ ? জবাবে আমরা বলিলাম, ইহা হইতেছে মধ্য রাত্রি অথবা ভোর রাত্রি। তিনি তৎক্ষণাৎ বলিয়া উঠিলেন, আমি জাহান্নামের প্রভাত হইতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি আমার কাফনের কাপড় নিয়া আসিয়াছ ? আমরা বলিলাম, জ্বী হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ দেখ কাফনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না অর্থাৎ দামী বস্ত্রে কাফন দিবার চেষ্টা করিও না। কেননা, আল্লাহর কাছে যদি আমার জন্য ভাল নির্ধারিত থাকে, তবে উহার পরিবর্তে আমি উহার চাইতেও উত্তম বস্ত্রই লাভ করিব আর যদি তাহা না হয়, তবে উহাও অতি শীঘ্র আমার নিকট হইতে কাড়িয়া লওয়া হইবে। যাঁহারা ঐ সময় তাঁহার মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত হইয়াছিলেন, তাহাদেরই একজন ইব্ন ইদ্রিস (রাহঃ) বলেনঃ আমরা রাত্রের কিছু অংশ থাকিতে তাঁহার কাছে গিয়া উপস্থিত হইয়াছিলাম ।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ الْعِيَادَةِ جَوْفَ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الرَّبِيعِ ، قَالَ : لَمَّا ثَقُلَ حُذَيْفَةُ ، " سَمِعَ بِذَلِكَ رَهْطُهُ وَالأَنْصَارُ ، فَأَتَوْهُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ ، قَالَ : أَيُّ سَاعَةٍ هَذِهِ ؟ قُلْنَا : جَوْفُ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ ، قَالَ : أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ صَبَاحِ النَّارِ ، قَالَ : جِئْتُمْ بِمَا أُكَفَّنُ بِهِ ؟ قُلْنَا : نَعَمْ ، قَالَ : لا تُغَالُوا بِالأَكْفَانِ ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُنْ لِي عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ بُدِّلْتُ بِهِ خَيْرًا مِنْهُ ، وَإِنْ كَانَتِ الأُخْرَى سُلِبْتُ سَلْبًا سَرِيعًا ، قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ : أَتَيْنَاهُ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যেমন মৃতকে পুরাতন কাপড় দিয়ে কাফন পরানো উচিত নয় তেমনি বেশী দামী কাপড়ও কাফনরূপে ব্যবহার করা সমীচীন নয়। পুরুষের জন্য তিন এবং মহিলাদের জন্য পাঁচ মধ্যম মূল্যমানের কাপড় দ্বারা কাফন পরানো উচিত। তবে এ নিয়ম কেবল তখনই কার্যকর হবে যখন মৃতের পরিবারের লোকদের সামর্থ্য থাকবে। অন্যথায় অসমর্থ অবস্থায় একটি পুরাতন কাপড় দিয়েও কাফন পরানো যেতে পারে এবং এতে দোষেরও কিছু নেই।
উহুদ যুদ্ধে শহীদ নবী কারীম ﷺ-এর আপন চাচা হযরত হামযা (রা.)-এবং মুস'আব ইবনে উমায়র (রা.) কে এমন একটি করে কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হয়েছিল যে, তা যদি মাথার দিকে টেনে দেওয়া হতো, তবে পা বেরিয়ে যেত আবার পায়ের দিকে টান দিলে মাথা বের হয়ে যেত। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশক্রমে চাদর দ্বারা তাঁদের মাথা আবৃত করা হয় এবং ইযখির ঘাস দ্বারা পা ঢেকে দেওয়া হয় এবং এরূপ কাফন পরানোর পর তাঁদের দাফন করা হয়।
উহুদ যুদ্ধে শহীদ নবী কারীম ﷺ-এর আপন চাচা হযরত হামযা (রা.)-এবং মুস'আব ইবনে উমায়র (রা.) কে এমন একটি করে কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হয়েছিল যে, তা যদি মাথার দিকে টেনে দেওয়া হতো, তবে পা বেরিয়ে যেত আবার পায়ের দিকে টান দিলে মাথা বের হয়ে যেত। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশক্রমে চাদর দ্বারা তাঁদের মাথা আবৃত করা হয় এবং ইযখির ঘাস দ্বারা পা ঢেকে দেওয়া হয় এবং এরূপ কাফন পরানোর পর তাঁদের দাফন করা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)