আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ৩৬৯
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১৭২- বালক-বালিকাদের মাথায় হাত বুলানো
৩৬৯। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ নবী করীম (ﷺ)-এর গৃহেও আমি পুতুল নিয়া খেলা করিতাম এবং আমার সঙ্গে আমার সঙ্গিনীরাও খেলা করিত। যখন তিনি ঘরে আসিতেন তখন তাহারা কক্ষের এক কোণে গিয়া লুকাইত। তিনি তাহাদিগকে বাহির করিয়া আমার নিকট পাঠাইতেন, তখন তাহারা (নিঃসংকোচে) আমার সহিত খেলা করিত।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ‏:‏ كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ يَنْقَمِعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَيَّ، فَيَلْعَبْنَ مَعِي‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে হযরত আয়েশা রাযি. নয় বছর বয়সে হুযুর (ﷺ)-এর বাড়ীতে এসে গিয়েছিলেন এবং তিনি সেই সময় পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। এর প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। মুসলিম শরীফের অন্য এক বর্ণনায় স্বয়ং আয়েশা নিজের সম্পর্কে বলেন যে وزفت اليه وهي بنت تسع ولعبها معها অর্থাৎ, স্বামী গৃহে যাওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল নয় বছর, আর তার খেলনা পুতুলগুলো তার সাথেই ছিল।

বুখারী মুসলিমের ব্যাখ্যাধীন হাদীস থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এই খেলা ও বিনোদন থেকে এমন নয় যে, কেবল নিষেধ করতেন না, বরং এ ব্যাপারে তার এতটুকু মন রক্ষা করতেন যে, যখন তাঁর আগমনে খেলার সাথীরা খেলা ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যেত, তখন তিনি তাদেরকে খেলা চালু রাখার জন্য বলতেন। এটা স্পষ্ট যে, স্ত্রীর মনোরঞ্জনের এটি একটি চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।

হযরত আয়েশার পুতুল ও প্রাণীর ছবির মাসআলা
এখানে কারো মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে যে, যখন কোন প্রাণীর ছবি ও মূর্তি তৈরী করা এবং সেটা ঘরে রাখা জায়েয নয় এবং এর উপর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আয়েশাকে পুতুল নিয়ে খেলা করার এবং সেটা ঘরে রাখার অনুমতি কি ভাবে দিলেন? কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এর একটি উত্তর এও দিয়েছেন যে, হযরত আয়েশার পুতুল নিয়ে খেলা করার এ ঘটনাটি হিজরতের প্রাথমিক যুগের, যখন ছবি ও মূর্তি হারাম হওয়ার নির্দেশ আসেনি। তারপর যখন ছবি ও মূর্তি তৈরীর নিষেধাজ্ঞা এসে গেল, তখন পুতুল বানানো ও এগুলো দিয়ে খেলা করার অবকাশও আর থাকল না। কিন্তু এ অধমের নিকট এর সবচেয়ে সঠিক উত্তর হচ্ছে এই যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর এই খেলার পুতুলগুলো মূর্তির নির্দেশের অন্তর্ভুক্তই ছিল না। সেটা তো চৌদ্দশ বছর আগের কথা, স্বয়ং আমাদের এই যুগে যখন সেলাই শিল্প যথেষ্ট উন্নতি করে নিয়েছে- যা সবারই জানা, এতদসত্ত্বেও ঘরের বালিকারা যেসব কাপড়ের পুতুল তৈরী করে থাকে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মূর্তি হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো এতই অপূর্ণ হয় যে, এগুলোর উপর কোনভাবেই মূর্তির বিধান প্রয়োগ করা যায় না। এ জন্য হযরত আয়েশা রাযি.-এর পুতুলগুলো সম্পর্কে এ প্রশ্নই উত্থাপিত হয় না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)